মেয়েকে নিয়ে মেট্রোয় উঠতে যাচ্ছিলেন এক মহিলা। ১০ বছরের কিশোরী মেট্রোর কামরায় উঠে পড়ে। কিন্তু কোনও ভাবে কামরায় উঠতে পারেননি মহিলা। তার পরই ট্রেন ছেড়ে যায় স্টেশন। সঙ্গে সঙ্গে মেট্রো স্টেশনের আরপিএফকে খবর দেন ওই মহিলা। তৎক্ষণাৎ ওই কিশোরী সম্পর্কে সমস্ত স্টেশনে জানানো হয়। শেষে উদ্ধার করে কিশোরীকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা মেট্রোর কবি নজরুল স্টেশনে।
ঠিক কী ঘটেছে? কলকাতা মেট্রো রেল সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ মেয়েকে নিয়ে কবি নজরুল স্টেশনে মেট্রোয় চড়তে যান এক মহিলা। কিন্তু, মেট্রোর কামরায় তাঁর মেয়ে উঠলেও তিনি পারেননি। এর পরই স্টেশন ছাড়ে মেট্রো। সঙ্গে সঙ্গে স্টেশনে থাকা আরপিএফের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই মহিলা। খবর পেয়েই মেট্রোর সমস্ত স্টেশনকে ওই কিশোরী সম্পর্কে অবগত করা হয়। সব স্টেশনের আরপিএফ কর্মীদের সতর্ক করা হয়।
আরও পড়ুন:
শেষে মাস্টারদা সূর্য সেন স্টেশনে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেন এক আরপিএফ কর্মী। তাঁকে স্টেশন মাস্টারের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিজের পরিচয় জানায় ওই কিশোরী। সেই সঙ্গে ঠাকুমার ফোন নম্বরও দেয়। এর পরই যোগাযোগ করে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ স্টেশন মাস্টারের অফিসে যান কিশোরীর ঠাকুমা। সব নিয়মকানুনের কাজ সারার পর তাঁর হাতে নাতনিকে তুলে দেওয়া হয়। এ জন্য কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন কিশোরীর ঠাকুমা।
আরও পড়ুন:
তবে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। গত ৭ অক্টোবর এসপ্ল্যানেড স্টেশনে নামার পর এক দম্পতি দেখেন, তাঁদের ১০ বছরের মেয়ে তাঁদের সঙ্গে নেই। বুঝতে পারেন, তাঁরা নামলেও মেট্রোর কামরার মধ্যেই রয়েছে তাঁদের মেয়ে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা স্টেশনের সুপারইনটেন্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কলকাতার সমস্ত মেট্রো স্টেশনে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সব স্টেশনে উপস্থিত রেলকর্মীরা মেয়েটিকে খোঁজার জন্য তৎপর হয়ে ওঠেন। শেষে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনে কিশোরীকে উদ্ধার করেন এক আরপিএফ কর্মী। তার পর তাকে স্টেশনমাস্টারের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। বাবা-মায়ের ফোন নম্বর জানায় সে। তার পরই বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁদের মেয়ের পুনর্মিলন হয়।