বৈভব সূর্যবংশী এখন তারকা। কবে ভারতীয় দলে তার অভিষেক হবে, সেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। গত বারের আইপিএল যেখানে শেষ করেছিল, এ বার শুরুটা সেখান থেকেই করেছে বৈভব। প্রথম ম্যাচেই ঝড় বইয়ে দিয়েছে। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে মাত্র ১৭ বলে ৫২ রান করেছে ১৫ বছরের ব্যাটার। দু’বছর আগে প্রথম বার বৈভবকে দেখেই রাজস্থানকে ১০ কোটি টাকা তৈরি রাখতে বলেছিলেন দলের এক কর্তা। সেই কাহিনি ফাঁস হল এত দিনে।
দু’বছর আগে আইপিএলের নিলামে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায় বৈভবকে কিনেছিল রাজস্থান। সেই সময় ১৩ বছরের এক ছেলের জন্য এত টাকা খরচ করতে দেখে অনেকে অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু রাজস্থান মোটেও অবাক হয়নি। তারা আরও বেশি টাকা ধরে রেখেছিল বৈভবের জন্য।
তত দিনে অনূর্ধ্ব-১৯ স্তরে ভারতের হয়ে খেলে ফেলেছে বৈভব। কিন্তু সকলের নজর তখনও পড়েনি তার উপর। সেই সময় বৈভবকে ট্রায়ালে ডেকেছিল রাজস্থান। ট্রায়ালের দায়িত্বে ছিলেন রাজস্থান ডিরেক্টর অফ হাই পারফরম্যান্স জ়ুবিন ভারুচা। তিনি বৈভবকে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
‘ইএসপিএন ক্রিকইনফো’-কে ভারুচা জানান, প্রথম বলেই ছক্কা মেরেছিল বৈভব। তিনি বলেন, “ওকে দেখে আমার যশস্বীর কথা মনে পড়ছিল। সঞ্জুর কথা মনে পড়ছিল। ওরাও একই রকম ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলত। বৈভবকে দেখে মনে হল, বাকিদের থেকে আলাদা।”
বৈভবকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে চেয়েছিলেন ভারুচা। তিনি বলেন, “ট্রায়াল শেষে বৈভবকে আলাদা করে ডেকেছিলাম। কয়েক জন বোলার ছিল যারা ঘণ্টায় ১৫৭-১৫৮ কিলোমিটার গতিতে বল করত। ৬ ফুটের উপর লম্বা। ভাবুন কোথা থেকে বল আসছে। ওদের হাতে বল দিলাম। বৈভবকে বললাম, বল কিন্তু জোরে আসবে। ও বলল, ‘কোনও অসুবিধা হবে না স্যর।’”
আরও পড়ুন:
ওই গতিতে বলের বিরুদ্ধে বৈভবের ব্যাটিং দেখে ভারুচা ঠিক করে ফেলেছিলেন, এই ছেলেকে যে ভাবে হোক নিতে হবে। তিনি বলেন, “প্রথম তিনটে বল ও ছাড়ল। দেখে মনে হল, আরাম করে ছাড়ছে। চার নম্বর বলে সাইট স্ক্রিনের উপর দিয়ে ছক্কা মারল। সেই বলটা হয়েছিল ঘণ্টায় ১৫৭ কিলোমিটার গতিতে। এই শট সাধারণ ছেলে খেলতে পারে না। তখনই ঠিক করি, ওকে নিতেই হবে।”
ট্রায়াল শেষে দলের মালিককে ফোন করেন ভারুচা। তিনি বলেন, “ওদের বলেছিলাম, ১০ কোটি টাকা আলাদা করে রাখতে। এমন একজনকে পেয়েছি যে দু’জন যশস্বীর সমান। ও নিজে রাজস্থানে ট্রায়াল দিতে এসেছে। একে ছাড়া যাবে না।”