বাইরে বৃষ্টি। অনেক ক্ষণ ধরেই ঝিরঝির করে শুরু হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেই ম্যাক বাইরে চলে গিয়েছিল। তার পরে সেখানেই দাঁড়িয়ে। কী মনে করে কে জানে! বৃষ্টিতে ম্যাককে ভিজতে দেখে উদ্বিগ্ন গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী। যদি শরীর খারাপ হয়! দু’জনেই দরজাটা ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন, যতক্ষণ না ম্যাক ভিতরে আসে। ম্যাক ভিতরে ঢোকার পরে নিশ্চিন্ত দু’জন। তার পরে ফের কথা শুরু করলেন।
‘‘হ্যাঁ যেটা বলছিলাম, আঁকাটা কিন্তু কলকাতায় এসেই শুরু করেছি। আগে কখনও আঁকিনি। এই শহরের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা আমাকে আঁকতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’’— পোষ্য কুকুর ম্যাক ভিজেছে কি না দেখতে-দেখতেই কথাগুলো বলছিলেন কলকাতার মার্কিন কনসাল জেনারেল ক্রেগ হল। এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিন্তু ছবি আঁকেন। জানেন তো? ‘‘হ্যাঁ, জানি তো!’’, উত্তর দেওয়ার পরেই কনসাল জেনারেলের সহাস্য সংযোজন, ‘আমিও তা হলে রাজনীতি নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবতে পারি, কী বলেন?’ কথাটা শুনে তাঁর স্ত্রী মিরইয়াং হলও তখন মুচকি মুচকি হাসছেন। তিনিই জানালেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ক্রেগের আঁকা ছবি ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘‘ওঁর আঁকা ছবির তো ফেসবুকে নিজস্ব পেজও রয়েছে। সেখানে অনেকে প্রশংসাও করেছেন’’, ‘শিল্পী’ জীবনসঙ্গীকে নিয়ে তখন গর্ব মিরইয়াংয়ের চোখে-মুখে।
হো চিন মিন সরণিতে মার্কিন কনস্যুলেট অফিসের পাশে কনসাল জেনারেলের ভবনে সহাস্য ওই দম্পতিকে দেখে তখন কে বলবে, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের প্যাকিং চলেছে। প্যাকিং কারণ, তিন বছরের কলকাতাবাসের পরে এ বার দেশে ফেরার পালা ক্রেগদের। এখানে কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব শেষ হচ্ছে ক্রেগের। আগামী সপ্তাহেই তাঁরা বাড়ি ফিরবেন। ছেলে টাইলার এই মুহূর্তে ছুটিতে কলকাতায়। মেয়ে অ্যানা ফিরে গিয়েছেন দেশে। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন হল-দম্পতি ও টাইলার। দোহায় মার্কিন এয়ারফোর্সের সেন্ট্রাল কম্যান্ডের নীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন ক্রেগ।