বড়দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে স্কুলগুলিতে শুরু হয়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষ। তার প্রথম দিন পালিত হয় ‘বুক ডে’ বা বই দিবস হিসেবে। ওই দিন বিনামূল্যে পাঠ্যবই পায় পড়ুয়ারা। শুক্রবার সেই বই দিবসে বেশ কিছু স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা পর্যাপ্ত সংখ্যক বই না পাওয়ার অভিযোগ তুললেন। তাঁদের আক্ষেপ, যারা নতুন শ্রেণিতে ভর্তি হল, তাদের অনেককে আপাতত পুরনো বই দিয়ে কাজ চালাতে হবে।
বই দিবসে সরকারি, সরকার পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের প্রাক্-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের প্রতিটি বিষয়ের বই বিনামূল্যে দেওয়া হয়। নবম ও দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা নিখরচায় পায় বাংলা, ইংরেজি এবং অঙ্ক বই। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, পড়ুয়ার তুলনায় বই কম পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে আগেও। এই নিয়ে তাঁরা সংশ্লিষ্ট জায়গায় দরবার করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে অধিকাংশ পড়ুয়া নতুন বই পেল, সেখানে কেন মুষ্টিমেয় পড়ুয়াকে পুরনো বই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে? ‘কলেজিয়াম অব অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার্স অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সম্পাদক সৌদীপ্ত দাস বলছেন, ‘‘দেখা যাচ্ছে, দশম শ্রেণির বাংলার সাহিত্য সঞ্চয়নের কয়েকটি বইয়ে ৫৫ থেকে ৭০ পাতার জায়গায় নবম শ্রেণির বাংলা সঞ্চয়ন বইয়ের ৫৫ থেকে ৭০ পাতা চলে এসেছে। ফলে, পড়ুয়ারা রীতিমতো বিভ্রান্ত। এমন বই কত এসেছে, তা অবশ্য জানা নেই। তবে, এই বইগুলি দ্রুত সংশোধন করে পড়ুয়াদের নতুন বই তো দিতে হবে।’’
বাঙুরের নারায়ণ দাস মাল্টিপারপাজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, ‘‘আমাদের স্কুল প্রাক্-প্রাথমিক থেকে শুরু। ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রচুর ছাত্র অন্য স্কুল থেকে এসে ভর্তি হয়। তারা কেউই নতুন বই পায়নি।’’ যদিও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, বিনামূল্য বই দেওয়া হয় বলে পড়ুয়াদের বলা হয়েছে, তারা যেন তাদের পুরনো বইগুলি স্কুলে ফেরত দেয়। তবে, যত দিন না নতুন বই এসে পৌঁছচ্ছে, তত দিন পুরনো বই দিয়ে কাজ চালাতে বলা হয়েছে। সঞ্জয়ের অভিযোগ, ‘‘শুধু যে নতুন পড়ুয়াদের বই কম এসেছে তা নয়, কিছু কিছু শ্রেণিতে বেশ কিছু বিষয়ের বই কম এসেছে। যেমন, পঞ্চম শ্রেণিতে যত বাংলা বইয়ের জন্য রিকুইজ়িশন পাঠানো হয়েছিল, সেই সংখ্যায় বই আসেনি।’’
যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলেও নতুন ভর্তি হওয়া পড়ুয়ারা কেউই বই পায়নি। তাদের বই আসতে আসতে দুই থেকে আড়াই মাস লাগতে পারে।’’ টাকি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘নবম-দশমের ছাত্রীদের জন্য কিছু বই আমরা কম পেয়েছি। সেগুলি যাতে দ্রুত পাঠানো হয়, সেই আবেদন করেছি। তবে, বাকি সব শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত বই এসেছে।’’ যদিও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘স্কুলগুলি যেমন রিকুইজ়িশন পাঠিয়েছিল, সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক বই তাদের পাঠানো হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের নাম সেই রিকুইজ়িশনে ছিল না। তাদের নাম পাঠানো হলে দ্রুত বই দেওয়া হবে।’’
এ দিকে, বই দিবসের দিনেই চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের অভাব টের পেলেন অধিকাংশ স্কুল কর্তৃপক্ষ। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিস থেকে বই আনা থেকে শুরু করে শ্রেণি অনুযায়ী সেই বই সাজানোর কাজ করেন ওই কর্মীরাই। কিন্তু ২০১৬ সালে নিয়োগ হওয়া চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের চাকরি বাতিল হওয়ায় বহু স্কুলে সেই পদে কর্মী নেই। ফলে বই আনা থেকে শুরু করে শ্রেণিভিত্তিক ভাবে সেগুলি সাজানোর কাজ করতে হয়েছে শিক্ষকদেরই। অনেক সময়ে পড়ুয়ারাও হাত লাগিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)