Advertisement
০৮ ডিসেম্বর ২০২২

কলকাতার কড়চা: কল্পনা থেকে বাস্তব

গত শতকের উপন্যাস, আমার বিপন্নতা, আর আমাদের দেশের প্রেক্ষিত অর্থাৎ এই সময়ের ভারতবর্ষ— সব কিছু মিলিয়েই তৈরি রচনাটি।

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০১৮ ০০:৩৫
Share: Save:

ই‌ংরেজ লেখক জর্জ অরওয়েল ১৯৪৯-এ লিখেছিলেন উপন্যাসটি। নামটি কোনও সংস্করণের প্রচ্ছদে, শব্দে লেখা: নাইনটিন এইটি-ফোর, কোনওটিতে আবার সংখ্যায়: ১৯৮৪। এটিকে অবলম্বন করেই ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বপ্নসন্ধানী-র নতুন প্রযোজনা, কর্ণধার কৌশিক সেনের অনুরোধে এ নাটক নির্দেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন দেবেশ চট্টোপাধ্যায়। স্বপ্নসন্ধানী-র নাট্যকর্মীদের নিয়ে এ নাটকের নির্মাণ যেমন দেবেশের (সঙ্গের ছবিতে মহড়ায়), তেমনই এটির বঙ্গমঞ্চোপযোগী রচনাও তাঁর, বললেন ‘‘আক্ষরিক অনুবাদ তো নয়ই, এমনকী উপন্যাসের নাট্যরূপও নয় এটি। গত শতকের উপন্যাস, আমার বিপন্নতা, আর আমাদের দেশের প্রেক্ষিত অর্থাৎ এই সময়ের ভারতবর্ষ— সব কিছু মিলিয়েই তৈরি রচনাটি। অরওয়েল তাঁর লেখায় রাষ্ট্রের যে ভয়াবহ স্বৈরতান্ত্রিক ছবি কল্পনা করেছিলেন, আজ আর তা মোটেও কল্পনা নয়, ঘোর বাস্তব। অরওয়েলের কল্পনার সেই ছবি যেন আজ প্রতি দিন প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি। উপন্যাসের আধারে ভর করে তাই সমসময়কেই তুলে আনতে চেয়েছি। নাটকটির নাম রেখেছি— ১৯৮৪?’’ ক্ষমতার বিরুদ্ধে যে কোনও ভাবনাই আজ ‘থট ক্রাইম’, রাষ্ট্র তাই অনবরত চাপ তৈরি করছে মুক্ত চিন্তার একা মানুষের উপর, ভয় দেখাচ্ছে তাকে। জ্ঞানচর্চার সমস্ত ভাষা ভুলিয়ে দিতে চাইছে রাষ্ট্র, মুছে দিতে চাইছে ইতিহাস, চালু করতে চাইছে যে ‘নিউস্পিক’, সেগুলি স্লোগানের মধ্য দিয়ে এ নাটকে পেশ করছেন দেবেশ: ‘মুক্তিই দাসত্ব’, ‘অজ্ঞানতাই শক্তি’। এ নাটকে সাউন্ড ডিজ়াইন করেছেন শ্রেয়াণ চট্টোপাধ্যায়, ‘‘পীড়াদায়ক ধাতব শব্দের ব্যবহারে এক কর্কশ আবহ তৈরি করেছি, যাতে পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা টের পান দর্শক।’’ দীনেশ পোদ্দারের আলো, সঞ্চয়ন ঘোষের মঞ্চ। স্বপ্নসন্ধানী-র নাট্যোৎসবের প্রথম দিনে, ২৭ মে মিনার্ভা থিয়েটারে সন্ধে সাড়ে ৬টায় প্রথম অভিনয়।

Advertisement

অনুপকুমার

‘‘বলেছিলাম ‘তুমি এত ভালো অভিনয় করো, কিন্তু তা সত্ত্বেও ঐ একই রকম চরিত্রে অভিনয় করো কেন?’ উত্তরে অত্যন্ত খেদের সঙ্গে অনুপ বলেছিল— ‘পাই না তো কি করব’।’’ তরুণ মজুমদার লিখেছেন অনুপকুমারকে নিয়ে। তরুণবাবুর ছবিতে একের পর এক স্মরণীয় অভিনয় তাঁর। পিতৃদত্ত নাম সত্যেন্দ্রনাথ দাস, তবে ‘অনুপকুমার’ নামেই সুপরিচিত। বাবা ধীরেন্দ্রনাথ দাস গায়ক সুরকার অভিনেতা, মা বিজয়া দেবী। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ‘হালবাংলা’ ছায়াছবিতে প্রথম অভিনয়, ‘সংগ্রাম’ ছবিতে মাস্টার অনুপ, আর পুরোপুরি অনুপকুমার ‘ধাত্রী দেবতা’ ছবিতে। প্রায় চারশো ছায়াছবি, পেশাদারি মঞ্চে ষাটটি নাটক, যাত্রাপালা, রেডিয়ো নাটক করেছেন। তাঁকে নিয়ে ‘চৌরঙ্গী’ পত্রিকা ‘অনুপকুমার সংখ্যা’ প্রকাশ করল। সুহৃদ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘অনু’ ছড়া “হলে পরে পঞ্চাশ, তুই যদি বন যাস... হে দাস, এ দাসেরে, রেখো নেক নজরে।” দিয়েই শুরু। পারিবারিক অনুপকুমার, অন্তরঙ্গ অনুপকুমার, নাট্য-চিত্রে অনুপম, রাজনীতিক অনুপকুমার প্রভৃতি নানা পর্বে বহু বিশিষ্ট জন কলম ধরেছেন। অভিনীত চলচ্চিত্র, নাটক, যাত্রার তালিকা, দুষ্প্রাপ্য ছবি, অনুপকুমার অভিনীত ছবির পোস্টার সংযোজনে সঙ্কলনটি সমৃদ্ধ হয়েছে।

Advertisement

রূপটান

‘‘পরিবেশ নিয়ে অনেক উদ্যোগই দায়সারা, কিন্তু আমাদের সঙ্কল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ’’— বলছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন। ‘‘আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে এই মিউজ়িয়াম।’’ ২৫ বৈশাখ সকালে ভারতীয় সংগ্রহশালায় খুলে দেওয়া হল সত্তর কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত চারখানি গ্যালারি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী, সংগ্রহশালার নির্দেশক রাজেশ পুরোহিত এবং ভারতীয় বনস্পতি এবং প্রাণিতত্ত্ব সর্বেক্ষণের নির্দেশকদ্বয়। উদ্ভিদ, স্তন্যপায়ী, অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং বাস্তুতন্ত্রের এই গ্যালারিগুলি দীর্ঘ কাল বন্ধ ছিল সংস্কারের জন্য। বছরে ১১ লক্ষ দর্শক আসেন এই সংগ্রহালয়ে। রাজ্যপাল আরও বেশি করে সংগ্রহালয়ে অনলাইন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে হর্ষ বর্ধন জনগণকেগ্রিন গুড ডিডনামে কিছু নিয়ম আরও বেশি করে পালন করবার অনুরোধ করেন। ভারতীয় সংগ্রহশালায় বহু ব্যয়ের এই রূপটান কতখানি সার্থক হল, তা বলে দেবে সময়।

পরিবেশ নিয়ে

শুধুমাত্র ব্যবসা বা পেশায় আটকে থাকতে মন চায়নি, ইচ্ছে ছিল প্রকৃতি নিয়ে কিছু একটা করবার। সেই সুপ্ত ইচ্ছে থেকেই ১৯৯৩ সালে আত্মপ্রকাশ করে একটি পত্রিকা ‘এনভায়রন’, বলছিলেন পত্রিকার মূল স্থপতি বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী। এদের সদস্য এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে। বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ইত্যাদি নানা বিষয়ে বিশেষ ভাবে অনালোকিত দিকগুলি তুলে আনবার চেষ্টা করে পত্রিকাটি। দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল ২৫টি ঘটনাবহুল বছর। সম্প্রতি কোয়েস্ট মলের স্টারমার্ক বই বিপণিতে একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রকাশ পেল পত্রিকাটির সাম্প্রতিক সংখ্যা। এটি সাজানো হয়েছে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র এবং মেরু ভল্লুকের কাহিনি দিয়ে।

লাভলক প্লেস

এখনকার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের লাভলক প্লেসের একটি বাড়িতে থাকতেন রাজেশ খন্না, এমত অভিনব তথ্য উঠে এল আলোচনায়। তবে তিনি মুম্বইয়ের অভিনেতা নন! ১৮ মে আন্তর্জাতিক সংগ্রহশালা দিবস উপলক্ষে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ মিউজ়িয়াম এবং ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল একটি অনুষ্ঠানইতিহাসের খোঁজ: লাভলক প্লেসশীর্ষকে। এ দিনের আলোচনায় ছিলেন এলাকার প্রবীণরা। স্কটিশ সাহেব আর্থার স্যামুয়েল লাভলক (১৮৫২-১৯০৩) পেশায় ছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ওঁর সংস্থা লাভলক অ্যান্ড লিউস কোম্পানির অফিস ছিল ম্যাঙ্গো লেনে। তিনি থাকতেন বালিগঞ্জ প্লেসে। পরে ওঁর সংস্থা মিশে যায় প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্স-এর সঙ্গে। আজও কিন্তু এই অঞ্চলের রাস্তা বহন করে চলেছে তাঁর নামের স্মৃতি। সেই ইতিহাসের খোঁজেই আমন্ত্রিত হয়ে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দেন প্রবীণরা। সাতানব্বই বছরের আরতি মুখোপাধ্যায় থেকে প্রবীরকুমার মিত্র বা অনুশীলা রায়, অমিত চৌধুরী প্রত্যেকেই যোগ দেন এই আলোচনায়। উঠে এল সে কালে রাস্তা ধোওয়া, শাঁখের শব্দ, গ্যাসবাতি, মানুষজন আর এই অঞ্চলের প্রাচীন স্থাপত্যগুলির কথা। কিউরেটর স্বরূপ ভট্টাচার্যের হাতে ১৯১৬ সালের মানচিত্র তুলে দিলেন সীমা মিত্র। আরও অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রাচীন কিছু সামগ্রী সংগ্রহশালার হাতে তুলে দেওয়ার।

অন্য উপল

উপল সেনগুপ্ত কে? অনেকেই বলবেন, চন্দ্রবিন্দুর গায়ক। আনন্দবাজারে বা ফেসবুকে যাঁরা উপলের কার্টুন দেখেছেন, তাঁরা বলবেন, ‘‘দারুণ আঁকিয়ে!’’ ‘ওপেনটি বায়োস্কোপ’ ছবির দর্শক বলবেন, ‘‘খুব ভাল সঙ্গীত পরিচালক!’’ ইউটিউব-এ একটি ছোট ফিল্ম দেখে কেউ তাঁর সম্পাদনা সম্পর্কেও উচ্ছ্বসিত হতে পারেন। বন্ধুরা বলবেন, ‘‘উপল খেলাচ্ছলে কাগজ দিয়ে জীবজন্তু ফুলপাখি যা বানাতে পারেন, শুধু ওই ‘অরিগ্যামি’ করলেও নাম হত!’’ বাংলা সাংস্কৃতিক জগতের অনেকেই বলবেন, ‘‘উপলদা না থাকলে কে ঘড়ি ঘড়ি পিকনিক বেড়ানো আর নিত্যি হইহই আয়োজন করত? বচ্ছরকার ছাদের জলসা, যার ভাল নাম ‘রুফটপ কনসার্ট’, তা-ই বা অর্গানাইজ় করত কে?’’ আর ২৫ মে, আইসিসিআর প্রেক্ষাগৃহে যাঁরা উপলের একক লোকসঙ্গীতের অনুষ্ঠান শুনতে যাবেন, অবাক হবেন ব্যান্ডের গানের ছকের বাইরে অন্য উপলকে পেয়ে। অনুষ্ঠান সন্ধে সাড়ে ছ’টায় শুরু, সঙ্গত করবেন কিছু বন্ধু, গান ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার এই নেমন্তন্নের নাম ‘উপলক্ষ্য ফোক’।

বৈজয়ন্তিকা

‘‘এ নাটকের কাহিনি-অংশ কাল্পনিক। পটভূমি শান্তিনিকেতন-বিশ্বভারতী, কেন্দ্রে রবীন্দ্রনাথ।’’ বলছিলেন নাটককার দেবাশিস মজুমদার, শূদ্রক-এর সাম্প্রতিক প্রযোজনা ‘বৈজয়ন্তিকা’-র নির্দেশকও তিনি, ‘‘শিক্ষার যে নতুন ঠিকানার সন্ধানে প্রায় একশো পনেরো বছর আগে বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামে শিক্ষাকেন্দ্রের পত্তন করেন রবীন্দ্রনাথ, যে ঠিকানা কোনও দেশকালের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল না, আন্তর্জাতিক মুক্ত পরিসরই অবলম্বন ছিল যার, বর্তমানে সেই ঠিকানা লোপের চেষ্টার বিরুদ্ধেই আজকের বিশ্বভারতীকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তোলে, প্রতিবাদ করে তরুণ শিক্ষার্থীরা। তাদের এ বিদ্রোহ কেবল কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে নয়, আবিশ্ব ফ্যাসিস্ট মানসিকতারও বিরুদ্ধে।’’ গোটা নাটকে ছাত্রছাত্রীদের এই প্রতিবাদের ভাষাও অভিনব, তা রবীন্দ্রনাথেরই গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, চিঠিপত্র, বক্তৃতা, সংলাপ ইত্যাদির আশ্রয়ে তৈরি। এ যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে রবীন্দ্রদর্শনকে নতুন করে উপলব্ধি করা। আগামী অভিনয় ২৬ মে অ্যাকাডেমিতে দুপুর ৩টেয়। সঙ্গে নাট্যদৃশ্যে ইন্দ্রাণী মৈত্র ও তপন মুখোপাধ্যায়।

ফিরে দেখা

‘গল্পের ফেরিওলা’ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ১৫৬তম জন্মদিন (জন্ম ১২ মে ১৮৬৩) উপলক্ষে এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবের অঙ্গ হিসেবে অক্সফোর্ড বুকস্টোরে আয়োজিত হয়েছিল এক অনুষ্ঠান। ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যস্থতায় প্রশ্নবাণ, উপেন্দ্রকিশোর কি কেবল শিশুসাহিত্যিক? দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, প্রসাদরঞ্জন রায়, দেবাশীষ দেবের বক্তব্যে উঠে এল নানা কাহিনি। দেবাশিস জানালেন, শিশু সাহিত্যিকের পাশাপাশি প্রকাশক, মুদ্রক, দেশে হাফটোন ছবির প্রচলক, নিজের লেখার সঙ্গে মানানসই অলঙ্করণের পথিকৃৎ, চিত্রগ্রাহক, আরও হরেক গুণের সমষ্টি উপেন্দ্রকিশোর। প্রসাদরঞ্জন জানালেন, ঠাকুরদার কাছে শোনা, স্কুলে পড়াকালীন উপেন্দ্রকিশোর বাবা ও ঠাকুরদাকে জমি জরিপের কাজ করতে দেখতেন, আর সেখান থেকেই হয়তো আঁকার প্রতি আগ্রহ। দেবাশীষ বলেন, শিশুদের শাসন করা বা উপদেশ দেওয়া নয়, যাতে সাগ্রহে শিশুরা বই পড়ে সেই দিকটায় বেশি নজর দিতেন উপেন্দ্রকিশোর। তাঁর আঁকা ছবিতে ছোটরা যাতে নিজের মতো করে নিজেদের খুঁজে পাওয়ার রসদ পায় সে দিকে লক্ষ রাখতেন। সব মিলিয়ে ফিরে দেখা এক আশ্চর্য ব্যক্তিত্বকে।

সুন্দরবন চর্চা

সুন্দরবন এবং নদীবাঁধএই দুটি বিষয় নিয়ে বিতর্কের কোনও শেষ নেই! ‘‘প্রকৃতির বাধাবন্ধনহীন যে যাত্রা, তাকে যখন মানুষ বাধা দিতে চায়, সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয় সেখানেই।’’— এ কথা বলেন তুষার কাঞ্জিলাল। অন্য দিকে, নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রের মতে, ‘‘ঔপনিবেশিক কাল থেকে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধীরে ধীরে নষ্ট হয়েছে।’’ মাটিবাঁধ, স্লুইস গেট, বৃক্ষরোপণ বা ভেটিভার ঘাসইত্যাকার নানাবিধ উপায়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা এখনও চলছে প্রতিনিয়ত। এই বিষয়টি এ বারের প্রচ্ছদকাহিনি হয়ে উঠেছেশুধু সুন্দরবন চর্চাপত্রিকাটিতে (সম্পা: জ্যোতিরিন্দ্রনারায়ণ লাহিড়ী)। একথা অনস্বীকার্য, সুন্দরবনের জনজীবনের অস্তিত্ব আজ পুরোপুরি বাঁধনির্ভর। অতএব এই সংখ্যাটি মূল্যবান হয়ে উঠেছে এই বিষয়টি ঘিরে বিশেষজ্ঞদের মতামত, প্রামাণ্য ছবি, পরিসংখ্যান এবং মানচিত্রের সংযোজনে। রয়েছে বাঁধ তৈরির ইতিবৃত্ত থেকে মিস্ত্রি-কনট্রাকটর, বেলদার-কোড়াদার, সরকারি আধিকারিকের মত। সঙ্গে সুন্দরবন সংক্রান্ত ঘটনাপঞ্জি, গ্রামনামের ইতিহাস এবং বইপত্রের খবর উল্লেখযোগ্য।

যোগসূত্র

বা‌ংলার লোকসঙ্গীত ওঁর কাছে বেঁচে থাকার শ্বাস! পেশাগত ভাবে বায়োস্ট্যাটিস্টিক্সের অধ্যাপক ড. সুস্মিতা দত্ত এখন থাকেন আমেরিকার গেইন্সভিলে। স্ট্যাটিস্টিক্স নিয়ে ডক্টরেট করেছেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এখন ফ্লরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরো সময়ের অধ্যাপক। আমেরিকান স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ফেলো। যুক্ত রয়েছেন আরও অনেক সংস্থার সঙ্গে। অধ্যাপনার পাশাপাশি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন নারীদের উন্নয়নের বিষয়ে। বাংলার সঙ্গে ওঁর যোগসূত্র গান। ‘‘যত কাজ থাক, রেওয়াজে আমি বসবই’’ বলেন তিনি। ‘‘ওটাই আমাকে বিদেশে দেশের কথা মনে করায়।’’ মূলত বাংলা রাগপ্রধান এবং নজরুলগীতির চর্চা করেন তিনি। সঙ্গে রয়েছে বাংলার লোকসঙ্গীত। হিন্দি ভজন বা গজলেও বেশ দক্ষ। সুস্মিতার জন্ম কলকাতায়। মা প্রভাতী রায়ের উৎসাহেই তিনি বাংলা গানে আকৃষ্ট হন ছোটবেলায়। তালিম নিয়েছিলেন পণ্ডিত কুমার বসুর ভাই জয়ন্তর কাছে। বঙ্গসম্মেলন এবং বঙ্গমেলাতে ওঁর গান এখন প্রশংসিত। অনুষ্ঠান করেছেন আমেরিকা, পোল্যান্ড-সহ বিভিন্ন স্থানে। কিছু কাল আগে পণ্ডিত দেবজ্যোতি বসুর পরিচালনায় প্রকাশ পেয়েছিল একটি নজরুলগীতির সঙ্কলন। আর এ বারে আধুনিক বাংলা গান।বৃষ্টি বাদল ঝড়’ (আশা অডিয়ো) শীর্ষক অডিয়ো সিডিটি প্রকাশ পেল রোটারি সদনে। গানগুলি লিখেছেন শ্রীজাত এবং সুর করেছেন পণ্ডিত শুভেন চট্টোপাধ্যায়। এই সিডি প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভাট।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.