রাস্তার মোড়ে বচসা চলছিল। হঠাৎ দাদাকে মাটিতে ফেলে কাটারি দিয়ে কোপাতে থাকলেন ভাই। সোমবার বরাহনগরের ফরোয়ার্ড কলোনিতে এই দৃশ্য দেখে হতচকিত স্থানীয়েরা চেঁচামেচি শুরু করেন। তখনই পালিয়ে সোজা থানায় আত্মসমর্পণ করেন ভাই। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে দাদার মৃত্যু হয়। মৃতের নাম দিলীপ দেব (৬০)। অভিযুক্ত ছোট ভাই সজল দেবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফরোয়ার্ড কলোনিতে প্রায় সওয়া ২ কাঠা জমিতে একটি দোতলা বাড়ি ও কয়েকটি টালির চালের ঘর দিলীপবাবুদের। তাঁরা পাঁচ ভাই, এক ভাই প্রয়াত। এ দিন অভিযোগে দিলীপবাবু স্ত্রী মিত্রা জানান, দোতলা বাড়িটি তাঁর স্বামীর নামে দানপত্র করেছিলেন শাশুড়ি। দর্জিপাড়ায় পৈতৃক দোকান চালাতেন দিলীপবাবু। পৈতৃক জমিতে ফ্ল্যাট তৈরি নিয়ে বিবাদের জেরেই এই ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানান, এ দিন দুপুরে বাড়ি ফিরছিলেন দিলীপবাবু। সে সময়ে বাড়ির কাছেই ফরোয়ার্ড কলোনি স্কুলের সামনে পথ আটকান পেশায় ঠিকাদার সজল। তাঁদের বচসা বাধে। বিষয়টি স্থানীয়েরা জানতেন বলেই কেউ এগোননি। দিলীপবাবুর চিৎকারে তাঁরা দেখেন, সজল কাটারির কোপ মারছেন। চেঁচামেচিতে পালান সজল। আরজিকরে দিলীপবাবুর অস্ত্রোপচার হলেও তাঁেক বাঁচানো যায়নি। তাঁর থুতনি, পেট, কাঁধ, হাত ও গালে চোট লেগেছিল।
মিত্রাদেবী বলেন, ‘‘আড়াই বছর ধরে ফ্ল্যাট তৈরির জন্য আমার স্বামীকে চাপ ও হুমকি দিচ্ছিল ভাসুর-দেওরেরা। আমাদের বাড়ি বাদ দিয়ে ফ্ল্যাট করতে বলাতেই অশান্তি।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, স্থানীয় দুই প্রোমোটারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বড় ভাসুর প্রদীপ ও ছোট দেওর সজল তাঁদের বাড়ি ছেড়ে দিতে ভয় দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু মত পাল্টাননি দিলীপবাবু। স্থানীয়েরা জানান, বাকি ভাইয়েরা বেশ কিছু দিন আগেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, জমির ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে অশান্তি চলছিল। মীমাংসার জন্য কয়েক বার ওয়ার্ড কমিটি আলোচনাতেও বসে। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর অঞ্জন পাল বলেন, ‘‘বহু বার আলোচনাতেও ফল হয়নি। একেবারেই পারিবারিক বিষয়, তাই বেশি জড়াতে চাইনি। কিন্তু এমন ঘটবে ভাবিনি।’’
পুলিশ জানায়, সজলই রক্তমাখা কাটারি নিয়ে বরাহনগর থানায় এসে স্বীকার করেন, পারিবারিক অশান্তির জেরে তিনি তাঁর দাদাকে কুপিয়ে খুন করেছেন। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার নীরজ সিংহ বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি নিজেই দোষ স্বীকার করার পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃতের স্ত্রীর থেকে অভিযোগও নেওয়া হয়েছে।’’