Advertisement
E-Paper

মেট্রোয় এ বার ‘আসল’ এসি রেক

এতদিন যে ক’টি বাতানুকূল রেক এসেছে, সবগুলিই পরীক্ষামূলক (প্রোটোটাইপ)। ফলে ওই রেকগুলিতে নিত্যই লেগে রয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটি। কিন্তু এ বার যে রেক দু’টি আসতে চলেছে, সেই দু’টি পরীক্ষামূলক নয়। রেক দু’টি সম্পূর্ণ ভাবেই তৈরি হয়ে আসছে বলে দাবি মেট্রো-কর্তাদের। এগুলিকে বলা হচ্ছে ‘রিজেনারেশন রেক’।

অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ০১:৩২

এতদিন যে ক’টি বাতানুকূল রেক এসেছে, সবগুলিই পরীক্ষামূলক (প্রোটোটাইপ)। ফলে ওই রেকগুলিতে নিত্যই লেগে রয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটি। কিন্তু এ বার যে রেক দু’টি আসতে চলেছে, সেই দু’টি পরীক্ষামূলক নয়। রেক দু’টি সম্পূর্ণ ভাবেই তৈরি হয়ে আসছে বলে দাবি মেট্রো-কর্তাদের। এগুলিকে বলা হচ্ছে ‘রিজেনারেশন রেক’। অর্থাৎ, এই রেকগুলি চালাতে গিয়ে যে বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করা হবে, তার অনেকটাই আবার ফিরে আসবে।

মেট্রো সূত্রের খবর, আগামী বছরের মার্চ মাসেই রেক দু’টি কলকাতা মেট্রোর হাতে পৌঁছবে। রেলের পেরাম্বুরের ইন্টিগ্র্যাল কোচ ফ্যাক্টরিতে এখন রেক দু’টিতে শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। এই নতুন রেক দু’টি এলে, লাইনে চালানোর জন্য কলকাতা মেট্রোর হাতে থাকবে মোট ১৬টি বাতানুকূল রেক। এর সঙ্গে থাকছে পুরনো ১৩টি সাধারণ রেক। পরের পর্যায়ে চিনে বরাত দেওয়া বাতানুকূল রেকগুলি নতুন বছরের শেষে আসতে শুরু করবে। ফলে ২০১৭-র শুরু থেকে বাতানুকূল রেক দিয়েই মেট্রো পরিষেবা চালানোর চেষ্টা করা হবে বলে দাবি করছেন মেট্রো কর্তারা।

কী পরিবর্তন করা হয়েছে রেক দু’টিতে?

মেট্রো সূত্রের খবর, কলকাতা মেট্রোতে যা রেক রয়েছে, সেগুলির মোটরের চেয়ে এই নতুন ট্রেনের মোটর সম্পূর্ণ নতুন প্রয়ুক্তির। মেট্রোর ইঞ্জিনিয়ারেরা জানিয়েছেন, আগের ডিসি মোটর চালানোর পরে কিছুটা যান্ত্রিক শক্তি ও বাকিটা তাপ তৈরি হত। এখন এসি মোটর হওয়ায় এই নতুন মোটর থেকে কিছুটা তৈরি হবে যান্ত্রিক শক্তি। বাকি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ফের ফিরে আসবে মেট্রোর তৃতীয় লাইনে। তাতে বিদ্যুতেরও অনেকটাই সাশ্রয় হবে। ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্য, খতিয়ে দেখা গিয়েছে, নতুন প্রযুক্তির ওই এসি মোটরে প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ ফিরে আসবে। অর্থাৎ, রেকগুলি বিদ্যুৎ ‘রিজেনারেট’ করবে।

নতুন ওই প্রযুক্তির সুবিধা কী?

এখন মেট্রোর সব চেয়ে বড় সমস্যা হল, কিছুক্ষণ চলার পরেই মোটর থেকে প্রচুর তাপ তৈরি হয়ে ব্রেক আটকে চাকা বন্ধ করে দেওয়া। মাঝেমধ্যে তাপের পরিমাণ আরও বেড়ে গিয়ে ধোঁয়া উৎপন্ন হওয়া। এ বার তাপ তৈরি না হলেই রেকগুলি আর মাঝপথে আটকে যাবে না। নিয়মিত মেরামতির হারও অনেকটাই কমে যাবে। কামরাগুলিও আগের কামরার থেকে অনেক বেশি মজবুত হবে। যাত্রাও হবে অনেক বেশি মসৃণ। দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা মাথায় রেকে কামরাগুলিতে লাগানো হচ্ছে সব এলইডি আলো।

তবে মেট্রো এখন যে পুরনো সাধারণ কামরাগুলি চালাচ্ছে, সেগুলির বেশির ভাগেরই আয়ু অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কোনও মতে জোড়াতাপ্পি দিয়ে রেকগুলিকে লাইনে চালাচ্ছেন মেট্রোকর্তারা। মেট্রোর সাধারণ পরিষেবা দিতে নিয়মিত লাগে ২৭টি রেক। এই নতুন দু’টি এবং ১৪টি বাতানুকূল রেক মিলে ১৬টি হবে। ফলে চিনের রেকগুলি কবে আসছে, তার উপরেই নির্ভর করছে কবে থেকে কলকাতা মেট্রো সব ক’টি মেট্রোতেই বাতানুকূল রেক চালাতে পারবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy