এ বার থেকে কোনও অপরাধে ‘অভিযুক্ত’ নাবালকেরাও আগাম জামিনের আর্জি জানাতে পারবে। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। তবে, এই রায়ের ক্ষেত্রে তিন বিচারপতি ঐকমত্যে পৌঁছননি। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের মতে, নাবালকদের আগাম জামিনের আর্জি জানানোর আইনি সংস্থান আছে। কিন্তু বিচারপতি বিভাস পট্টনায়ক দ্বিমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, নাবালক অভিযুক্তদের পুলিশ জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হাজির করায়। সেই নাবালককে ছেড়ে দেওয়া হবে, না কি হোমে পাঠানো হবে, তা বোর্ড ঠিক করে। তাই আগাম জামিনের আর্জি জানানোর সুযোগ দিয়ে নাবালকের মৌলিক অধিকার রক্ষা হবে, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না।
কোর্টের খবর, ২০২১ সালে রঘুনাথগঞ্জের কয়েক জন নাবালক অভিযুক্তের মামলা থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেই মামলায় বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি বিভাস পট্টনায়কের ডিভিশন বেঞ্চ ওই নাবালকদের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করেছিল। কিন্তু নাবালকদের আগাম জামিনের আর্জি জানানোর আইনি সংস্থান আছে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সুপারিশ করা হয় প্রধান বিচারপতিকে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী এই তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ গড়া হয়। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে এক মামলায় হাই কোর্টেরই আর এক ডিভিশন বেঞ্চ মেনে নিয়েছিল,নাবালকের আগাম জামিনের অধিকার আছে। কিন্তু বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি পট্টনায়কের ডিভিশন বেঞ্চ সেই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে।
তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে নাবালকের আগাম জামিনের অধিকার নিয়ে বিস্তর শুনানি হয়। মামলাকারীর হয়ে বক্তব্য পেশ করেন অয়ন ভট্টাচার্য-সহ ১৭ জন আইনজীবীর একটি দল। রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী দেবাশিস রায় ও সুমন দে। কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে বক্তব্য পেশ করেন হিমাংশু দে ও অরুণকুমার মাইতি।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের পর্যবেক্ষণ, গ্রেফতারের অর্থ কোনও ব্যক্তির স্বাধীনতা খর্ব করা। গ্রেফতার করে হোমে রাখলেও নাবালকের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। তাই এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নাবালকের আগাম জামিনের আর্জি জানানোর সংস্থান থাকা উচিত। বিচারপতি সেনগুপ্তের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষও।
বিচারপতি পট্টনায়ক অবশ্য জানান, নাবালক অভিযুক্তের ক্ষেত্রে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেয়। বহু ক্ষেত্রে নাবালক অভিযুক্তকে হোমে না রাখলে সে ফের অপরাধের সংস্পর্শে আসতে পারে, অথবা শারীরিক, মানসিক ক্ষতির শিকারও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগাম জামিন নাবালকের পক্ষে উপকারী পদক্ষেপ হবে, সে কথা বলা যায় না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)