E-Paper

নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে রামনবমীর শোভাযাত্রায় তারস্বরে ডিজে, সমান তালে অস্ত্রের প্রদর্শনও

সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মিছিল শেষ করার নির্দেশ থাকলেও জিটি রোড ধরে হাওড়া ময়দানে যখন মিছিল পৌঁছয়, ঘড়িতে তখন পৌনে ৭টা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:৩৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ ছিল, ৫০০ জনের বেশি লোক মিছিলে থাকতে পারবেন না। মিছিল শেষ করতে হবে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। বাজানো যাবে না ডিজে বক্স, রাখা যাবে না অস্ত্র। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, বৃহস্পতিবার শহরতলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় রামনবমীর মিছিলে হাঁটলেন নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লোক। তীব্র স্বরে বাজল ডিজে বক্স। সেই সঙ্গে চলল তলোয়ার, কাটারি, গদা, ত্রিশূলের মতো একাধিক অস্ত্রের প্রদর্শন। দিনের শেষে পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে, কোথাও আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ দিন হাওড়ায় রামনবমীর মিছিলে কার্যত গত বছরেরই পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মিছিল শেষ করার নির্দেশ থাকলেও জিটি রোড ধরে হাওড়া ময়দানে যখন মিছিল পৌঁছয়, ঘড়িতে তখন পৌনে ৭টা। এই মিছিল ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে পুরো জিটি রোড জুড়ে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

উল্লেখ্য, দু’বছর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ-সহ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃত্বে হওয়া রামনবমীর মিছিল ঘিরে স্থানীয় এক দল দুষ্কৃতীর সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল কাজিপাড়া মোড় থেকে জিটি রোডের ফজিরবাজার এলাকা। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছরই ওই মিছিলের সংগঠকদের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে পুলিশ। চলতি বছরেও পুলিশ মিছিল করার অনুমতি না দেওয়ায় আয়োজকেরাকলকাতা হাই কোর্টে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালত শর্তসাপেক্ষে ওই রুটে মিছিলের অনুমতি দেয়।

কিন্তু অভিযোগ, হাই কোর্টের কোনও নির্দেশই এ দিনের মিছিলে মানা হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই, প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ জোরদার হয়েছে। যদিও হাওড়ার নগরপাল অখিলেশ চতুর্বেদী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘পুরো শোভাযাত্রা শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় মিছিল শেষ হতে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। হাই কোর্টের নির্দেশ কোথাও অমান্য করা হয়েছে কিনা, তা দেখা হবে।’’

এ দিন নিউ টাউনে রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র দেখা যাওয়ায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। মিছিলের আয়োজকদের সঙ্গে বচসা বাধে পুলিশের। আয়োজকদের যদিও দাবি, মন্দিরে পুজোর জন্য এক জন অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। শোভাযাত্রায় অস্ত্র ছিল না। মিছিলে উপস্থিত রাজারহাট-নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়াও দাবি করেন, শোভাযাত্রায় অস্ত্র আনা হয়নি। উভয় পক্ষের বাদানুবাদের পরে অবশ্য শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে মেটে।

উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর থানার মোড় থেকে হওয়া রামনবমীর মিছিলে হাতে গদা নিয়ে অসুর বধের ডাক দেন খোদ কাঁচরাপাড়ার পুরপ্রধান কমল অধিকারী। নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বীরভূমের একাধিক জায়গায় রামনবমীর মিছিলে অস্ত্রের প্রদর্শন দেখা গিয়েছে। সিউড়ির শুঁড়িপুকুরপাড়া এলাকায় শোভাযাত্রায় এক যুবকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের মতো কিছু দেখে পুলিশ তাঁকে আটক করে আনে। ওই মিছিলে উপস্থিত, সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি যেখানে হেঁটেছি, সেখানে কোনও অস্ত্র ছিল না। শুধু পতাকা ছিল।’’ তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অস্ত্র নিয়ে মিছিল তো নির্বাচনী বিধিভঙ্গ। আমরা কমিশনকে জানাব।’’

পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে শোভাযাত্রায় কয়েক জনের হাতে দেখা গিয়েছে ত্রিশূল।ইসলামপুর ও কালিয়াগঞ্জে রামনবমীর শোভাযাত্রায় অস্ত্র দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলাশাসক বিবেক কুমার বলেন, “পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।” দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে রামনবমীর শোভাযাত্রায় বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুইকে তলোয়ার হাতে হাঁটতে দেখে পুলিশ আটকায়। কিন্তু লক্ষ্মণ জানান, দেবদেবীর হাতে তলোয়ার থাকে। তাই শোভাযাত্রায় তা নিয়ে হাঁটছেন। কাউকে আক্রমণ করার জন্য নয়।

পশ্চিম বর্ধমানের লাউদোহায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রামনবমী শান্তিতে পালন করবেন। প্রশাসনের যাঁরা আছেন, তাঁদেরও বলব, যেন কোনও অশান্তি না হয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

DJ Music

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy