আমপানের পরে টানা তিন দিন হাওড়ার একমাত্র জল প্রকল্প পদ্মপুকুর থেকে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ ছিল। গোটা শহর জুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল পানীয় জলের জন্য। জল প্রকল্পের সব পাম্পগুলিই ডুবে গিয়েছিল জলের তলায়। চড়া দামে জল কিনে খেতে হয়েছিল শহরবাসীকে। এ বার আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ের আগে পদ্মপুকুর জল প্রকল্পের জমা জল বার করতে ৪টি পাম্প কিনল পুরসভা। জল প্রকল্পের ভিতরে তৈরি করা হল কন্ট্রোল রুম।
গত বছর জল প্রকল্পের ভিতরে নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার না করায় জমা জল সরেনি। পাম্পগুলি রয়েছে মাটির অনেকটা নীচে, গর্তের ভিতরে। সেখানে জল ঢুকে যাওয়ায় সব ক’টি পাম্প একসঙ্গে খারাপ হয়ে যায়। ফলে সর্ম্পূণ ভেঙে পড়ে শহরের পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা। পানীয় জলের সঙ্কটে বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় জলের ১ লিটার ও ২ লিটারের বোতল।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বারের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার তাই জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্পের জমা জল বার করতে চারটি পাম্প কেনা হয়েছে। পাশাপাশি, সংলগ্ন এলাকায় নালা সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। কেএমডিএ, সেচ দফতর এবং হাওড়া পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে ভিতরের নালাগুলি পরিষ্কারের কাজ করছেন।
পুরসভার এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘নতুন পাম্পগুলির সাহায্যে ভূগর্ভে থাকা পাম্পের ভিতরে জল ঢুকলে পাইপের সাহায্যে সঙ্গে সঙ্গে তা বার করে দেওয়া হবে। এই পাম্পগুলি চালানোর জন্য যাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক থাকে, তা নিশ্চিত করতে সিইএসসির ইঞ্জিনিয়ারেরা গত শুক্রবার থেকেই কাজ করছেন।’’
ওই পুরকর্তা আরও জানান, জল প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমে থাকবে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। বড় কোনও বিপর্যয় হলে তারা পরিস্থিতি সামাল দেবে। একই সঙ্গে, পানীয় জলের যাতে কোনও সঙ্কট তৈরি না হয়, তার জন্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর থেকে পানীয় জলের বোতল ও পাউচ হাওড়া পুরসভাকে দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে কেএমডিএ–র তরফে ৫০টি পানীয় জলের গাড়িও আনা হবে। এ ছাড়া, হাওড়া শহরের ১৬টি স্কুলকে ঘূর্ণিঝড় আবাস হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪টিকে আলাদা করে কোভিড রোগীদের রাখার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। পুর এলাকার যে সব বাসিন্দা টালির চালের বাড়ি বা ভগ্নপ্রায় বাড়িতে বাস করেন, তাঁদের এই স্কুলগুলিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আমপানে শহরে প্রায় আড়াই হাজার গাছ উপড়ে পড়েছিল। বিদ্যুতের তারে গাছ পড়ে, তার ছিঁড়ে, খুঁটি উপড়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল গোটা শহর। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের দাপটেও পরিস্থিতি তেমন হতে পারে, সেই আশঙ্কায় সোমবারই পুরসভায় জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী ও পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অরূপ রায় এবং প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যরা।
পরে অরূপবাবু বলেন, ‘‘রাস্তায় গাছ পড়লে তা দ্রুত সরানোর জন্য একটি হাইড্রা মেশিন আনা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলার ১৪টি দল করা হয়েছে। ১৪টি থানায় ওই দল থাকবে। ৭টা বরোয় ও বালিতে কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে। কেএমডিএ ও এইচআইটির লোকজনও ওই কন্ট্রোল রুমে থাকবেন। মঙ্গলবার ও বুধবার আমি নিজে কন্ট্রোল রুমে থাকব।’’