আগামী মাস থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের নিখরচায় যাতায়াত করার ব্যবস্থা চালু করছে রাজ্যের নতুন সরকার। কিন্তু, চালু পরিকাঠামোয় ওই পরিষেবা শুরু করতে সরকারি পরিবহণ নিগমগুলিরআধিকারিকদের অগুনতি সমস্যার প্রাচীর ডিঙোতে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে কার্যত ধুঁকতে থাকা এবং সম্পূর্ণ নুয়ে পড়া সরকারি বাস পরিষেবাকে ফেরসোজা করার পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে তাঁদের।
আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছন, পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসের অভাব থেকে শুরু করে জ্বালানি খাতে বিপুল বকেয়া, বাসরক্ষণাবেক্ষণের টাকা সময়ে হাতে না পাওয়ার মতো একাধিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে সামর্থ্যের অনেকটাই খুইয়ে বসেছিল সরকারি পরিবহণ নিগমগুলি। সেখান থেকে সমস্যা মিটিয়ে সরকারি বাসপরিষেবার হাল ফেরাতে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিগমের আধিকারিকদের নিয়ে নবান্নে কয়েক দফায় বৈঠকে বসেছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজ্য পরিবহণ নিগম, দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম, ট্রামকোম্পানি এবং ভূতল পরিবহণ নিগমের মতো সরকারি সংস্থাগুলির কার হাতে কতগুলি বাস কী অবস্থায় আছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বসে যাওয়া কতগুলি বাসকে কী ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে তা ফের পরিষেবার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ওই খাতে সম্ভাব্য খরচের রূপরেখাও তৈরি করতে বলা হয়েছে।
সোমবার নবান্নে রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকেই মহিলাদের জন্য সরকারিবাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা চালু হবে। কলকাতা ছাড়া দূরপাল্লার বাসেও ওই ব্যবস্থা চালু হবে। আপাতত যে বাস রয়েছে, সেগুলিদিয়েই ওই পরিষেবা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিগমগুলির সমস্যা মেটাতে জ্বালানি খাতে বকেয়া মেটানো ছাড়াও কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যাগুলি খতিয়েদেখে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দফতর সূত্রের খবর।
বিগত সরকারের সময় থেকে রাজ্য পরিবহণ নিগম এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলির তেল এবং গ্যাস কোম্পানির কাছেবকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি টাকা। ওই বিপুল বকেয়ার কারণে বিভিন্ন ডিপো থেকে ডিজ়েলের জোগানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ। ফলে, রাস্তায় বাস নামাতেও সমস্যা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে ২০০টি সিএনজি চালিত বাতানুকূল বাসের বরাত দেওয়া হয়েছিল। তারমধ্যে ১৩০টি বাস এসে পৌঁছেছে বলে খবর। বিভিন্ন রুটে ওই সব বাস দেওয়া হলেও সিএনজির জোগান পর্যাপ্ত না হওয়ায় পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। কসবা ছাড়া শহরের আর কোথাও সিএনজির পাম্পিং স্টেশন নেই। ফলে ওই পাম্পিং স্টেশনে সিএনজিভরতে মাঝেমধ্যে ১০-১১ ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ। দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ নিগমের বেলঘরিয়া ডিপোয়সিএনজি ভরার একটি নতুন পরিকাঠামো তৈরি করা হলেও জেলা প্রশাসনের অনুমতির অভাবে গত ছ’মাস ধরে তা পড়ে রয়েছে বলে খবর। ওই পরিকাঠামো চালু হলে সমস্যা অনেকটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফলে অন্য সব পরিবহণ নিগমে নানাবিধ সমস্যা মিটিয়ে ফের পরিষেবা শুরু করার প্রশ্নে সরকারি তৎপরতা থাকায় আশার আলো দেখছেন দফতরেরআধিকারিকেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা বলেন, ‘‘সরকারি পরিবহণ নিগম নিয়ে আগ্রহটাই হারিয়ে যেতে বসেছিল। নতুন সরকারের তৎপরতা সে দিক থেকে যথেষ্ট ইতিবাচক।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)