তার কাজ ছিল সরকারি কর্মীর ভুয়ো পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম ভুয়ো নথি তৈরি করা। একটি চক্রের সঙ্গে হাত লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কারবার চালিয়ে আসছিল সে। অবশেষে একটি ব্যাঙ্ক প্রতারণার মামলার তদন্তে নেমে সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। ধৃতের নাম রশিদ মাহমুদ। তাকে নিয়ে এই প্রতারণার ঘটনায় পাঁচ জন ধরা পড়ল।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, সেচ, বন এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী পরিচয়ে ভুয়ো নথি দাখিল করে প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিল অভিযুক্তেরা। বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের নজরে আসতেই তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। তদন্তে গোয়েন্দারা জেনেছেন, রাজ্য সরকারের কর্মী পরিচয় দিয়ে ব্যাঙ্ক ঋণের জন্য আবেদন করত অভিযুক্তেরা। সরকারি কর্মীর পদাধিকার অনুযায়ী তৈরি করা হত ভুয়ো স্যালারি স্লিপ এবং ঋণ পাওয়ার জন্য দরকারি যাবতীয় নথি। গোটা চক্রে ব্যাঙ্কের এক কর্মী জড়িত থাকায় কোনও নথি যাচাই না করেই ঋণ পাইয়ে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরবর্তী কালে সেই টাকার ভাগ যেত প্রত্যেকের কাছে।
এই প্রতারণার ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে অবশ্য তারা জামিন পায়। যদিও অধরা ছিল চক্রের অন্যতম মাথা আলাউদ্দিননামে এক ব্যক্তি। শেষে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই রশিদের নাম উঠে আসে। বুধবার রাতে তিলজলা থেকে রশিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
লালবাজার সূত্রের খবর, রশিদ বাঁকুড়ার বাসিন্দা। সে-ই মূলত ভুয়ো নথি তৈরি করত। এই কাজের জন্য সে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়েছিল। তবে, এই চক্রটি কত দিন ধরেসক্রিয়, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা। এক পুলিশকর্তা বলেন, ‘‘এই চক্রে আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা, তা দেখা হচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)