E-Paper

দমদমে রাস্তার কাজ চললেও বিকল্প পথ নেই! ঘুরপথে নাস্তানাবুদ

একসঙ্গে একাধিক রাস্তার কাজ হওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সমস্যা বাড়ছে রাতে। নাগরিকদের দাবি, রাস্তার কাজ হওয়া ভাল। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৮
বিকল্প পথ না থাকায় রাস্তা মেরামতির কাজের জেরে সমস্যায় পড়েছেন মানুষ। দমদম ক্যান্টনমেন্টের পি কে গুহ রোডে।

বিকল্প পথ না থাকায় রাস্তা মেরামতির কাজের জেরে সমস্যায় পড়েছেন মানুষ। দমদম ক্যান্টনমেন্টের পি কে গুহ রোডে। ছবি: স্নেহাশিস ভট্টাচার্য।

দু’টি রেলগেট সংলগ্ন রাস্তার কাজ হচ্ছে। ফলে সরাসরি যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ। কিন্তু বিকল্প পথ নেই! তাই ঘুরপথে তৃতীয় রেলগেট পার করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আবার দ্বিতীয় রেলগেট দিয়ে যদি যাওয়াও যায়, গেট পেরিয়ে এলাকায় ঢোকার একটি রাস্তা বন্ধ। ফলে রাতে বাড়ি ফিরতে নাজেহাল হচ্ছেন বলে অভিযোগ দমদম ক্যান্টনমেন্টের বাসিন্দাদের। সম্প্রতি ‘পথশ্রী’ ও ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে একাধিক রাস্তার কাজ একসঙ্গে চলছে দক্ষিণ দমদম ও দমদম পুর এলাকায়।

একসঙ্গে একাধিক রাস্তার কাজ হওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সমস্যা বাড়ছে রাতে। নাগরিকদের দাবি, রাস্তার কাজ হওয়া ভাল। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন।

পরিস্থিতি দেখে বিরোধীদের খোঁচা,— ভোট আসছে তাই ঘুম ভাঙছে প্রশাসনের। একসঙ্গে সব কাজ করতে গিয়ে এই সমস্যা হয়েছে। অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বছরভর পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ভোটের আগে বিরোধীদের ঘুম ভাঙে। তাই তাঁদের এমন অভিযোগ।

দমদম এবং দক্ষিণ দমদম পুরকর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, দিনরাত রাস্তা মেরামতির কাজ হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে গাড়ির যাতায়াতের ব্যবস্থা করেই কাজ হচ্ছে। তবে কাজ চলার কারণে গাড়ি চলাচলের পরিসর কমেছে। একটি রাস্তা সাময়িক কালের জন্যে বন্ধ হলে অন্য রাস্তা খোলা থাকবে। কাজ দ্রুত চলছে। শেষ হলেই সমস্যা মিটে যাবে। সে ক্ষেত্রে সাময়িক সমস্যা পোহাতে হবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা দীপক দাসের কথায়, ‘‘অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে রাত হয়। গাড়িতে ফেরার সময়ে দেখি, ১ এবং ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় রাস্তার কাজ চলছে। সেই ৩ নম্বর রেলগেট হয়ে ঢুকতে হচ্ছে। দু’দিন পরে দ্বিতীয় রেল গেট দিয়ে ঢোকা গেলেও সুভাষনগরে ঢোকার পথ বন্ধ। বাড়ির কেউ অসুস্থ হলে বাইরে থেকে অ্যাম্বুল্যান্সই তো রেলগেট পেরিয়ে আসতে পারবে না।’’

অন্য এক বাসিন্দার কথায়, কলকাতা থেকে দমদম ক্যান্টনমেন্টে যাতায়াতে যতটা পথ বা সময় লাগে, তার চেয়ে অনেক বেশি লাগছে এই পথ ঘুরে যেতেই। রাতে তো বোঝাই যাচ্ছে না, কখন থেকে কোন রাস্তা পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ থাকবে। আগে থেকে স্পষ্ট ঘোষণা বা রাস্তায় হোর্ডিং কিছুই রাখা হয়নি। দিনের বেলায়ও এর জেরে সমস্যায় পড়েন পড়ুয়ারা, নিত্যদিন কাজে বেরোনো মানুষ। হাতে অনেকটা বেশি সময় নিয়ে তাঁদের বেরোতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, যে সব রাস্তার কাজ চলছে, সে সব এলাকায় মানুষ অসুস্থ হলে বা জরুরি কারণে বেরোতে হলে কী ভাবে যাতায়াত করা সম্ভব? এতটা পথ ঘুরতে হবে কেন? বিকল্প রাস্তা থাকা প্রয়োজন ছিল। গলির রাস্তাও কেটে হঠাৎ করে সংস্কার হচ্ছে। কবে কাজ শেষ হবে, তা-ও জানানো হচ্ছে না।

অভিযোগ মানতে নারাজ দুই পুর কর্তৃপক্ষ। দমদম পুরসভার উপ পুরপ্রধান বরুণ নট্ট জানান, তাঁদের পুর এলাকায় রাস্তার কাজ চললেও গাড়ি যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টাও চলছে। আবার দক্ষিণ দমদম পুরসভার এক পুরকর্তা মৃন্ময় দাস জানান, রাস্তা মেরামতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও রাস্তার কাজের জেরে যাতায়াতে সাময়িক সমস্যা হলেও পুরো বন্ধ রয়েছে যোগাযোগ, এমন কোনও অভিযোগ আসেনি। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Dum Dum Road Conditions

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy