এক বছরেরও বেশি নিখোঁজ থাকার পরে বাড়ি ফিরলেন প্রৌঢ়।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে হরিদেবপুর থানা এলাকার নৃসিংহ দত্ত রোডে এক ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা ১০০ ডায়ালে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। হরিদেবপুর থানার সাব-ইনস্পেক্টর পৃথ্বীশ বসুর তৎপরতায় বৃহস্পতিবার সকালেই নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, বেলঘরিয়া থানা এলাকার দময়ন্তীনগরের বাসিন্দা তপন মজুমদার ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তপনবাবু নিখোঁজ হওয়ার পরে তাঁর পরিবারের তরফে বেলঘরিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাতে এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। মাথায় এলোমেলো চুল, গালে দাঁড়ি রাখা ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় প্রথমে তিনি পুলিশকে কিছুই বলতে চাননি। একাধিক বার পুলিশের তরফে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে শুধু ‘বেলঘরিয়া’ শব্দটুকু উচ্চারণ করেছিলেন ওই প্রৌঢ়। এর পরে রাতেই হরিদেবপুর থানা থেকে বেলঘরিয়া থানায় যোগাযোগ করা হয়। বেলঘরিয়া থানার তরফে বলা হয়, তাদের এলাকা থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। এর পরেই হরিদেবপুর থানার তরফে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির ছবি বেলঘরিয়া থানায় পাঠালে জানা যায়, তিনিই নিখোঁজ হওয়া সেই ব্যক্তি। বুধবার রাতেই হরিদেবপুর থানার তরফে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তপনবাবুর বাড়ির লোকেরা হরিদেবপুর থানায় আসেন। পুলিশ তপনবাবুকে তাঁদের হাতে তুলে দেন।
কিন্তু দেড় বছর ধরে নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে এতদিন সময় লাগল কেন? বেলঘরিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হলেও কেন তাঁকে খুঁজে পায়নি পুলিশ? এ প্রসঙ্গে বেলঘরিয়া থানার পুলিশ আধিকারিকেরা মন্তব্য করতে চাননি। তপনবাবুর আত্মীয় দুলালচন্দ্র রায় বলেন, ‘‘হরিদেবপুর থানার পুলিশের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সেখান থেকে সাহায্য না পেলে শ্যালককে খুঁজেই পাওয়া যেত না।’’ পুলিশ জানিয়েছে, মানসিক ভারসাম্যহীন তপনবাবু এতদিন ধরে ফুটপাতে থাকতেন। তাঁর চিকিৎসা যাতে শীঘ্রই শুরু করা যায়, সে বিষয়ে হরিদেবপুর থানার ওসি দেবাশিস চক্রবর্তী তপনবাবুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।