E-Paper

হাওড়া থেকে মেট্রো চেপে বইমেলা, ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা গিল্ডের

কলকাতা সংলগ্ন জেলা যেমন হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান থেকেও মানুষ আসতে পারবেন সহজে।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মেট্রোর নতুন নতুন পথ খুলেছে। হাওড়া থেকে ধর্মতলা, শিয়ালদহ ছুঁয়ে সল্টলেক। আবারবিমানবন্দর-নোয়াপাড়া রুটে মেট্রো করে ধর্মতলা হয়ে সল্টলেক। তাই কলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড মনে করছে, এক দিকে জেলার বইপ্রেমী মানুষ এবংঅন্য দিকে কলকাতার বইপ্রেমী মানুষের মেলায় আসা সহজ হওয়ায় কয়েক গুণ বেশি ভিড় হবে এ বারের কলকাতা বইমেলায়। ভিড়নিয়ন্ত্রণে তাই আরও বেশি সতর্কতা নিচ্ছে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড।

গিল্ড জানাচ্ছে, বইমেলার মাঠে সিসি ক্যামেরা এ বার বেশিসংখ্যক বসানো হবে। এ ছাড়া খুব ভিড় হলে বইমেলায় ঢোকার গেটও কিছু ক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হতে পারে। বইমেলার রিং রোডেভ্রাম্যমাণ বই বিক্রেতারা যেন রাস্তায় বিক্রিবাটা না করেন, সেই বিষয়েও কড়া নজরদারি থাকবে।

গিল্ড কর্তৃপক্ষের মতে, এ বার সল্টলেক থেকে হাওড়া পর্যন্ত টানা মেট্রো হয়ে যাওয়ায়শুধু হাওড়া শহরবাসীরই বইমেলায় আসার সুবিধা হয়নি, জেলার বিভিন্নপ্রান্তের বইপ্রেমীরাও মেলায় আসতে পারবেন। কলকাতা সংলগ্ন জেলা যেমন হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান থেকেও মানুষ আসতে পারবেন সহজে। কারণ এত দিন তাঁরাহাওড়ায় এসে কলকাতা বইমেলায় পৌঁছতে বাস ধরে সল্টলেকে যেতেন বা অন্য কোনও ভাবে শিয়ালদহপর্যন্ত গিয়ে মেট্রো ধরে বইমেলায় যেতে হত।

এ বছর অবশ্য হাওড়া স্টেশন চলে এলে সহজেই সেখান থেকে মেট্রো ধরে আধ ঘণ্টারও কম সময়ে বইমেলার মাঠে ঢুকে পড়তে পারবেন। আবার দক্ষিণ কলকাতারবইপ্রেমীদের মেলায় মেট্রো করে আসতে কোনও ভাবে শিয়ালদহে যেতে হত। সেখান থেকে মেট্রো ধরে তাঁদের বইমেলায় পৌঁছতে হত। এ বার দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দারা মেট্রো ধরে প্রথমে ধর্মতলায়, তার পরে সেখান থেকেফের মেট্রো ধরে সল্টলেকের বইমেলার মাঠে পৌঁছতে করুণাময়ী বা সেন্ট্রাল পার্কে নেমে পড়তে পারবেন। একই ভাবে বিমানবন্দরবা বরাহনগর, দক্ষিণেশ্বর এলাকার বাসিন্দারাও নোয়াপাড়া মেট্রো রুট ধরে ধর্মতলায় পৌঁছেমেট্রো ধরে সোজাসুজি সল্টলেকে যেতে পারবেন।

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানান, গত বার বইমেলায় সব থেকেবেশি ভিড় হয়েছিল শেষ শনিবার। সে দিন ৪ লক্ষের মতো মানুষ বইমেলায় এসেছিলেন। যাতায়াতের সুবিধার জন্য এ বার মেলারমাঠে আসা সর্বাধিক মানুষের সংখ্যাটা বাড়বে বলে গিল্ড মনে করছে। সেই সঙ্গে রোজমেলায় আসা মানুষের সংখ্যাও অন্য বারের থেকে অনেকটাই বাড়বে বলে আশা। ত্রিদিব বলেন, ‘‘ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগেবইমেলায় যখন টিকিট কেটে ঢুকতে হত, তখন খুব ভিড় হলে টিকিট বিক্রি কিছু ক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হত। এখন তো টিকিট কেটে মেলায়ঢুকতে হয় না। কিন্তু এ বার যদি দেখা যায়, খুব ভিড় হচ্ছে, তখন কিছু ক্ষণের জন্যে বইমেলার প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হতে পারে। এ ছাড়াসিসি ক্যামেরার সংখ্যা আগের থেকে বাড়বে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে আবারও বৈঠক করব। আমাদের নিজস্বনিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে।’’

বইমেলার শুরু ২২ জানুয়ারি। শেষ ৩ ফেব্রুয়ারি। বইমেলার কর্তারা জানাচ্ছেন, এ বার বইমেলা চলাকালীন চার দিন টানা ছুটিথাকবে। ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার। ওই দিন আবার সরস্বতীপুজো। তার পরে শনিবার, রবিবার ছুটি। ফের ২৬ জানুয়ারি সোমবারপ্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটি। ওই চার দিন সব থেকে বেশি ভিড়থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন গিল্ড কর্তৃপক্ষ।

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে জানান, ভিড় বাড়বেতাই এ বার বইমেলা কোনও ভাবেই ঘিঞ্জি হতে দেওয়া চলবে না। গত বছর লিটল ম্যাগাজিনের স্টল মিলিয়ে ১০৭৪টি স্টল ছিল। এবারও প্রায় সে রকম সংখ্যকই স্টল থাকছে। সামান্য কয়েকটি স্টল হয়তো বাড়তে পারে। সুধাংশু বলেন, ‘‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা ভেবে এ বারেও বাংলাদেশের স্টল থাকবে না। বাংলাদেশেরযে ফাঁকা জায়গা, সেখানে কিছুটা ফাঁকা রেখে কিছুটা খাবারের স্টল এবং বইয়ের দু’-একটি ছোট স্টল থাকতে পারে। সুধাংশুআরও জানান, ভিড়ের কথা ভেবে গিল্ডের নজর থাকবেবইমেলার রাস্তাগুলো ফাঁকা রাখতে। মেলার ভিতরে যে রিং রোড রয়েছে,সেখানে কোনও ভ্রাম্যমাণ বই বিক্রেতাকে বসতে দেওয়াহবে না। রিং রোড পুরোটাই ফাঁকা রাখা হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kolkata Metro

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy