Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

শৌচাগার ও রান্নার জায়গা ছাড়াই তৈরি পুর-অঙ্গনওয়াড়ি

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
৩০ নভেম্বর ২০১৪ ০০:৫৬

শিশুদের পড়াশোনা এবং পুষ্টিমূলক কর্মসূচি চালানোর জন্য শহর জুড়ে প্রায় ৩ কোটি টাকায় ৫৪টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু একটিতেও শৌচালয় বা রান্নাঘর গড়েনি কলকাতা পুরসভা! অধিকাংশ জায়গায় নেই খাওয়ার জলের ব্যবস্থাও!

রাজ্য সমাজকল্যাণ দফতরের হাতে কেন্দ্রগুলি হস্তান্তরের সময়ে এই বিচ্যুতি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে টানাপড়েন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশু ও কর্মীদের দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা থাকার কথা। ওই দীর্ঘ সময়ে তিন থেকে ছয় বছরের ছোট্ট শিশুরাও কি শৌচাগারে যেতে পারবে না? শৌচাগার ব্যবহারের সুবিধে পাবেন না অঙ্গনওয়াড়ির মহিলা কর্মীরাও? রান্নার আলাদা জায়গা না-থাকলে পুষ্টিকর খিচুড়ি রাঁধা হবে কোথায়? খাবারের পরিচ্ছন্নতা কী ভাবে বজায় থাকবে? এই সব কোনও প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারছেন না কলকাতার পুরকর্তারা। সমাজকল্যাণ দফতরের আধিকারিকেরাও এই অর্ধসমাপ্ত কেন্দ্রের দায়িত্ব নিতে রাজি নন।

সমাজকল্যাণ সচিব রোশনী সেনের কথায়, “অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরির একটা স্ট্যান্ডার্ড মডেল রয়েছে। কলকাতা পুরসভা তার তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো কী করে তৈরি করল, জানি না। আমি পুর-কমিশনার খলিল আহমেদকে সব জানিয়েছি। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আমাদের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট অফিসারেরা (সিডিপিও) এই শৌচালয়হীন-রান্নাঘরহীন কেন্দ্রগুলির দায়িত্ব নিতে চান না।”

Advertisement

সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের টাকায় গত প্রায় আড়াই বছর ধরে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি তৈরি হয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, এক-একটি কেন্দ্র গড়তে লেগেছে ৩-৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, ৫৪টি কেন্দ্র তৈরিতে মোট তিন কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হয়েছে। সমাজকল্যাণ দফতরের অভিযোগ, এত খরচ করে পর্বতের মূষিক প্রসব হয়েছে। কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এ ব্যাপারে বলেন, “আমি এ বিষয়ে অভিযোগ শুনেছি। বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েও পাঠিয়েছি। পুরসভার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির যা যা ত্রুটি রয়েছে, তা ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ কলকাতার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উপরে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল। সমীক্ষক দলের প্রধান অধ্যাপিকা অরিজিতা দত্তের কথায়, “যত দিন না নতুন কেন্দ্রগুলিতে শৌচালয়-রান্নাঘর তৈরি হচ্ছে, তত দিন কর্পোরেশনের ওয়ার্ড অফিসগুলিতে কেন সকালের দিকে তিন-চার ঘণ্টা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালানোর ব্যবস্থা হচ্ছে না?” পুরকর্তারা এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি।

তবে সারা ভারত জুড়ে যখন সমস্ত শিক্ষাকেন্দ্রে শৌচালয় গড়ার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে, তখন খাস কলকাতার বুকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরির সময়ে পুরসভা কী করে সেটি বাদ দিল, সেই প্রশ্ন উঠেছে। খলিল আহমেদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দিতে চাননি। পুর-ইঞ্জিনিয়ারেরা কী ভাবে এই নির্মাণ করলেন? ডিরেক্টর জেনারেল (সিভিল) পান্তুকুমার দুয়ার উত্তর, “কলকাতায় জায়গা পাওয়াই কঠিন ব্যাপার। অনেক কষ্টে এক-একটি কেন্দ্রের জন্য যতটা জায়গা মিলেছে, তাতে আলাদা করে শৌচালয় বা রান্নাঘর তৈরি করা যায়নি।”

সমাজকল্যাণ দফতরের একাধিক আধিকারিক জানান, কলকাতা শহরে তাঁদের দফতর পরিচালিত ১৫১৬টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সচল রয়েছে। তার মধ্যে ১৪৫২টি কেন্দ্র কোনও না কোনও ক্লাবের ঘর ভাড়া করে চলে। ভাড়ার অঙ্ক সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা। কলকাতা শহরে এত কম টাকায় অনেক ক্লাবই আর ভাড়া দিতে রাজি হচ্ছে না। সম্প্রতি সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চেকের মাধ্যমে ভাড়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে সমাজকল্যাণ দফতর। অনেক ক্লাব তাতেও আপত্তি জানিয়েছে। তারা অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইছে না। কলকাতা পুরসভা দফায়-দফায় কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বানিয়ে দিলে ক্লাবগুলির দাক্ষিণ্যের উপরে নির্ভর না করলেও চলত সমাজকল্যাণ দফতরের কর্তাদের। কিন্তু সেই পুরসভাই রান্নাঘর ও শৌচাগারহীন এক-একটি খুপরি ঘর সমাজকল্যাণ দফতরের হাতে তুলে দিয়ে তাঁদের আশায় জল ঢেলেছে।

আরও পড়ুন

Advertisement