E-Paper

ঠিকাদারদের অনিয়মে রাশ টানতে জোড়া কমিটি, দাওয়াই পূর্ত দফতরের

পূর্ত দফতর সূত্রের খবর, কাজের গুরুত্ব ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী নজরদারি ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১২
নবান্ন।

নবান্ন। ফাইল চিত্র।

​রাজ্যের সরকারি নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ঠিকাদারদের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য পূর্ত দফতর। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, কাজ নিয়ে গাফিলতি বা আর্থিক অনিয়ম রুখতে ‘ডিবারমেন্ট’ (কালো তালিকাভুক্তকরণ) ও ‘সাসপেনশন’ (সাময়িক বরখাস্ত) কমিটিকে নতুন ভাবে সাজানো হচ্ছে। মূলত কোন ঠিকাদার সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে অথবা কার কাজের বরাত সাময়িক স্থগিত হবে, সেই সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতেই এই প্রশাসনিক রদবদল।

পূর্ত দফতর সূত্রের খবর, কাজের গুরুত্ব ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী নজরদারি ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। এর আগে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হত, যাতে অনেক সময়ে দেরির আশঙ্কা থাকত। এখন থেকে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কালো তালিকাভুক্তকরণ কমিটি এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির জন্য পৃথক একটি কমিটি কাজ করবে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে কোনও ঠিকাদার কাজে ফাঁকি দিলে বা কাঁচামালে কারচুপি করলে, দ্রুত সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

এই নতুন ব্যবস্থায় নজরদারির দায়ভার সরাসরি শীর্ষ আধিকারিকদের কাঁধে ন্যস্ত হয়েছে। কালো তালিকাভুক্তকরণ কমিটির মাথায় রাখা হয়েছে খোদ ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ এবং দফতরের পদাধিকারবলে সচিবকে। এ ছাড়াও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিটিতে অর্থ দফতরের পরামর্শদাতাদের রাখা বাধ্যতামূলক হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, কমিটির এই বিন্যাস প্রমাণ করে যে, অনৈতিক কাজের ক্ষেত্রে নবান্ন ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে। অর্থাৎ, প্রভাব খাটিয়ে বা নিম্নমানের কাজ করে পার পাওয়ার রাস্তা বন্ধ হতে চলেছে।

শুধু বড় প্রকল্প নয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, সামাজিক ক্ষেত্র ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে পৃথক পৃথক ‘সাসপেনশন’ (সাময়িক বরখাস্ত) কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জ়োনের চিফ ইঞ্জিনিয়ারদের আহ্বায়ক (কনভেনার) করা হয়েছে, যাতে সরাসরি কাজের জায়গা থেকে আসা অভিযোগের উপর ভিত্তি করে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করা যায়। এই বিকেন্দ্রীকরণের ফলে একটি নির্দিষ্ট স্তরে ফাইল আটকে থাকার আশঙ্কা কমবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে।

পুরনো ব্যবস্থার ত্রুটিগুলি দূর করে নতুন কাঠামোর লক্ষ্য হল ঠিকাদারদের মধ্যে দায়বদ্ধতা তৈরি করা। কোনও সংস্থা এক বার ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হলে এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তারা আর সরকারি কাজে অংশ নিতে পারবে না। নবান্ন মনে করছে, এই কঠোর ব্যবস্থার ফলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে ও সাময়িক বরখাস্তের খাঁড়া ঝুলতে থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গুণমান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে বাধ্য হবেন ঠিকাদারেরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Contractors West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy