E-Paper

হাওড়ায় ফের চলল বুলডোজ়ার, বস্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় নিরাশ্রয় দেড় হাজার

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই জায়গায় বসবাসের পরে রেলের তরফে পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করায় এ দিন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দা-সহ সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই কর্মীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৭:০৯
ঠাঁইহারা: চোখের সামনে বুলডোজ়ার এসে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বস্তির একের পর এক ঘর। কোথায় থাকবে, কী খাবে, কোথায় পড়াশোনা করবে, কী ভাবে স্কুলে যাবে— কোনও প্রশ্নেরই উত্তর নেই ওদের কাছে। আপাতত সঙ্গী একরাশ উদ্বেগ আর চোখের জল। মঙ্গলবার, হাওড়ার শালিমারে।

ঠাঁইহারা: চোখের সামনে বুলডোজ়ার এসে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বস্তির একের পর এক ঘর। কোথায় থাকবে, কী খাবে, কোথায় পড়াশোনা করবে, কী ভাবে স্কুলে যাবে— কোনও প্রশ্নেরই উত্তর নেই ওদের কাছে। আপাতত সঙ্গী একরাশ উদ্বেগ আর চোখের জল। মঙ্গলবার, হাওড়ার শালিমারে। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না-করেই হাওড়ায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালাল দক্ষিণ-পূর্ব রেল। এক সপ্তাহ আগে হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় বস্তি উচ্ছেদের পরে মঙ্গলবার সকালে হাওড়ারই শালিমারে রেলের জমি দখল করে দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে থাকা নেপালি বস্তির প্রায় ১৫০টি ঘরবাড়ি, দোকানপাট বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল রেল। এর ফলে ভরা বর্ষায় আশ্রয় হারালেন প্রায় দেড় হাজার বাসিন্দা। যার মধ্যে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মহিলা ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই জায়গায় বসবাসের পরে রেলের তরফে পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করায় এ দিন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দা-সহ সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই কর্মীরা। যদিও তাতে উচ্ছেদ বন্ধ হয়নি। রেলের বক্তব্য, গত এক সপ্তাহ ধরে জবরদখলকারী বাসিন্দাদের উঠে যেতে বার বার মাইকে প্রচারের পাশাপাশি নোটিসও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই এই অভিযান করতে হয়েছে।

এ দিন সকাল থেকে রেলরক্ষী বাহিনী, রেল পুলিশ, হাওড়া সিটি পুলিশ ও র‍্যাফ মোতায়েন করে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব রেল। চারটি বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় শালিমারের নেপালি বস্তির প্রায় ১৫০টি ঘরবাড়ি ও দোকান। ভাঙা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায় বাসিন্দাদের। এ দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বস্তির বাসিন্দাদের সামনেই তাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিচ্ছে বুলডোজ়ার। তারই মধ্যে সংসারের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে রাস্তায় বসে আছেন সেখানকার বহু বাসিন্দা। ভাঙা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে চলেছে অষ্টম শ্রেণির নীতীশ কুমার ও তার বোন, ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া পায়েল কুমার। কোথায় থাকবে, কী ভাবে পড়াশোনা করবে— তা ভেবেই পাচ্ছে না তারা। ওই বস্তির বাসিন্দা টুম্পা সরকার বলেন, ‘‘আমরা এখানে দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, একটি হোটেলও চালাই। এ জন্য আমাকে প্রতি মাসে রেলরক্ষী বাহিনীকে ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। আমাদেরট্রেড লাইসেন্স আছে। এর পরেও কী করে আমাদের হোটেল, বাড়ি ভেঙে দেয়?’’

এ দিন রেলের উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে ডিওয়াইএফআই নেতা সুমিত্র অধিকারী ঘটনাস্থলে এসে বলেন, ‘‘শালিমারে উচ্ছেদ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। মঙ্গলবার তা নিয়ে আদালতে শুনানিও রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই এ দিন রেল ও রাজ্য সরকারের তরফে সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বাড়িঘর, দোকান বুলডোজ়ার দিয়ে ভাঙা হয়েছে।’’

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘‘দেড়শোরও বেশি বাড়িঘর, হোটেল, দোকান বেআইনি ভাবে গজিয়ে উঠেছিল। সেগুলি বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হল। এর আগে বাসিন্দাদের উঠে যাওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bulldozer Eviction Howrah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy