প্রয়াত হলেন রিজওয়ানুর রহমানের মা কিসওয়ার জাহান। বুধবার পৌনে ৮টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৮১। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন কিসওয়ার জাহান। মৃত্যুর সময় পাশে ছিলেন বড় ছেলে রুকবানুর রহমান । তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তাঁদের পার্ক সার্কাসের বাড়িতে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বলেন রুকবানুরের সঙ্গে। রুকবানুর বর্তমানে নদীয়া জেলার চাপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের বিধায়ক।
রাতে নিজের এক্স হ্যান্ডলে শোকপ্রকাশ করে পরিবার পরিজনকে সমবেদনা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “ওঁর সঙ্গে আমার গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। আমায় উনি আপনজন হিসাবে খুব ভালবাসতেন। আমি প্রতি ইদে ওঁর সাথে দেখা করতে যেতাম। কত পুরোনো স্মৃতি আজ মনে আসছে। আমার হৃদয়ে উনি চিরদিন থাকবেন। আমি রুকবানুর-সহ ওর পরিবার-পরিজন সকলকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই।”
রহমান পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার রাতে বাড়িতেই থাকবে কিসওয়ার জাহানের দেহ । বৃহস্পতিবার তাঁকে পার্ক সার্কাসের কবরস্থানে তাঁর শেষকৃত্য হতে পারে। ২০০৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মারা যান কিসওয়ার জাহানের ছোট ছেলে রিজওয়ানুর । সন্দেহজনক অবস্থায় রেললাইনে ছোট ছেলের মৃতদেহ পাওয়ার পর কিসওয়ার জাহান ছেলের মৃত্যুর জন্য রিজওয়ানের স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা টোডির পিতা অশোক টোডিকে দায়ী করেন । সঙ্গে তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কর্তা জ্ঞানবন্ত সিংহ এবং অজয় কুমারকেও ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে বিচার চেয়ে পথে নেমেছিলেন । সেই সময় বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে রিজওয়ানুরের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারপতি চেয়ে কিসওয়ার জাহানের পাশে দাঁড়িয়েছিল মমতা-সহ তৃণমূল। সেই থেকেই মমতার সঙ্গে রহমান পরিবারের সম্পর্ক দৃঢ় হয় । পরে রিজওয়ানুরের দাদা তৃণমূলে যোগদান করে বিধানসভার সদস্য হয়েছেন । শেষ দিন পর্যন্ত বড় ছেলে রুকবানুরের কাছেই থাকতেন কিসওয়ার। বড় ছেলে ছাড়াও পুত্রবধূ এবং দুই নাতনিকে রেখে গিয়েছেন তিনি।