স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) কলকাতার গ্লোবাল মার্কেট্স ইউনিট (জিএমইউ)-এর কার্যালয়ের লিজ় বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি একটি নোটিস জারি করে জওহরলাল নেহরু রোডের জীবন সুধা ভবনের ১১ থেকে ১৬তলা পর্যন্ত ব্যবহৃত জায়গার লিজ় বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ওই ভবনেই এত দিন এসবিআইয়ের বৈদেশিক মুদ্রা ও গ্লোবাল মার্কেট্স সংক্রান্ত কাজকর্ম চলত। নোটিসে এক মাসের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে, মুম্বইয়ে ট্রেজ়ারি ও ফরেক্স কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত করার পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই কলকাতা থেকে জিএমইউ ইউনিটটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০১৫ সালে তৎকালীন এসবিআই চেয়ারপার্সন অরুন্ধতী ভট্টাচার্যের উদ্যোগে কলকাতায় গ্লোবাল মার্কেট্স ইউনিট ও সেন্ট্রালাইজ়ড গ্লোবাল ব্যাক অফিস (সিজিবিও) স্থাপিত হয়। লন্ডন, হংকং ও নিউ ইয়র্কের মতো বিদেশি কেন্দ্রগুলিকে সহায়তা দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক অফিস হিসাবে কাজ করত এই ইউনিট। যদিও এসবিআই-এর কলকাতায় ১, স্ট্র্যান্ড রোডে ‘সমৃদ্ধি ভবন’ নামে বিশাল নিজস্ব ভবন রয়েছে। সেখানে একাধিক দফতর, রাজ্য ব্যাঙ্কের আর্কাইভ্স ও মিউজ়িয়াম, আঞ্চলিক কার্যালয় এবং বিভিন্ন পরিষেবাকেন্দ্র চালু রয়েছে। তবুও জীবন সুধা ভবনের জিএমইউ কার্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন:
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজের একটি মঞ্চ ‘ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চ’ (বিবিডিবিএম)। তারা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-র কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া জিএমইউ বন্ধ করার কোনও পদক্ষেপ যেন না করা হয়। বিবিডিবিএম জানিয়েছে, জীবন বিমা নিগমের (এলআইসি) মালিকানাধীন ভবনটি ছাড়ার বিষয়ে এসবিআই ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে শুরু করেছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রকে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটি অনুরোধ করেছে, জিএমইউ কলকাতার ব্যাঙ্কিং লাইসেন্স আত্মসমর্পণের অনুমতি যেন না দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, নিয়ন্ত্রকের অনুমোদন ছাড়া এই ধরনের পদক্ষেপ আরবিআই-এর আইনি ক্ষমতাকে খর্ব করবে।
সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সৌম্য দত্ত বলেন, ‘‘এই ইউনিটের মাধ্যমে পূর্ব ভারতে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং কার্যকলাপের পরিকাঠামো গড়ে উঠেছিল এবং বহু প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছিল। জিএমইউ বন্ধ হলে বিশেষায়িত ব্যাঙ্কিং পরিষেবা হারানোর পাশাপাশি পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের আর্থিক প্রবেশদ্বার হিসাবে কলকাতার গুরুত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’’