E-Paper

থেরাপিতেই জোর, ডিমেনশিয়া পরিচর্যায় দ্বিতীয় কেন্দ্র শহরে

কী এই ডিমেনশিয়া? মস্তিষ্কে থাকে কোটি কোটি নিউরন। মানবদেহে তথ্য আদানপ্রদান হয় নিউরনের মাধ্যমেই। শরীরের বেশ কিছু রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে নিউরন ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরে যায়। যা ডিমেনশিয়ার কারণ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩৬

—প্রতীকী চিত্র।

ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের জন্য শহরে দ্বিতীয় ডে-কেয়ার ইউনিটের উদ্বোধন হল। অ্যালঝাইমার’স অ্যান্ড রিলেটেড ডিজ়অর্ডারস সোসাইটি অব ইন্ডিয়া (এ আর ডি এস আই), কলকাতা চ্যাপ্টারের এই কেন্দ্রটি রয়েছে নিউ টাউনে। মঙ্গলবার সেটির উদ্বোধন করেন হিডকোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন।

কী এই ডিমেনশিয়া? মস্তিষ্কে থাকে কোটি কোটি নিউরন। মানবদেহে তথ্য আদানপ্রদান হয় নিউরনের মাধ্যমেই। শরীরের বেশ কিছু রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে নিউরন ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরে যায়। যা ডিমেনশিয়ার কারণ। এর ফলে মানুষের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তা করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্তের স্মৃতি, চিন্তা-ভাবনা, কথা বলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে কমে যায় দৈনন্দিন কাজ করার কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও।

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ সারে না। তবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। সে জন্য চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে ওষুধ, মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন, শারীরচর্চা, সুষম খাদ্য ও পরিবারের যত্নের প্রয়োজন।

ক্রমবর্ধমান এই রোগে বিশ্বে প্রায় ৫.৭ কোটি মানুষ আক্রান্ত। এই পরিসংখ্যান ২০২১ সালের। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ডিমেনশিয়া রোগীর সংখ্যা ১৫ কোটি হতে পারে। এই মুহূর্তে ভারতে ৮৮ লক্ষ মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। কিন্তু রোগীর যত্নের দিকটি ভীষণ ভাবে অবহেলিত।

চিকিৎসকদের মতে, রোগীকে স্বাস্থ্যকর খাবার, ওষুধের সঙ্গেই নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট থেরাপি, যোগাভ্যাসে থাকতে হবে। অথচ অনেক সচ্ছল পরিবারেও লোকবলের অভাব সেই সুযোগ থেকে আক্রান্তদের বঞ্চিত করছে। তাঁদের জন্য এমন ডে-কেয়ার সেন্টার অনেকটাই বড় আশ্রয় হতে পারে বলে মত চিকিৎসকদের।

সোম থেকে শনিবার এই কেন্দ্র খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। যেখানে দু’বার চা, ফল, দুপুরের সুষম আহার দেওয়া হবে। থাকবে মস্তিষ্ক সঞ্চালনার বিভিন্ন রকম খেলা, কিছু ব্যায়াম, সাংস্কৃতিক বা গঠনমূলক কাজ। সকলের সঙ্গে আড্ডার পরিবেশ।

এ আর ডি এস আই-এর কলকাতা চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি নীলাঞ্জনা মৌলিক বলেন, “ভোটের পরেই পরিষেবা শুরু হবে। ডিমেনশিয়া নিয়ে এই সংগঠন কলকাতায় কাজ শুরু করে ১৯৯৯ সালে। ২০০৭ সালে প্রথম ডে-কেয়ার সেন্টার হয় সার্ভে পার্কে। দ্বিতীয় সেন্টার করতে ১৯ বছর অপেক্ষা করতে হল, যেখানে একসঙ্গে ২০ জনকে বিশেষ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে রেখে শুশ্রূষা করা যাবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Dementia Symptoms Dementia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy