বিধাননগরে বেআইনি নির্মাণের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলা শুরু করল বুলডোজ়ার।
সদ্য ভেঙেছে বিধাননগর পুর বোর্ড। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের উপরে চাপ এসেছে অবিলম্বে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার। ভাঙার তালিকায় ১০০টি এমন নির্মাণকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলির নির্মাণ পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে বলে আধিকারিকেরা জানান। শুক্রবারই বিধাননগর পুর এলাকার জগৎপুরে একটি বেআইনি নির্মাণ বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে বেআইনি হলেও যে সব নির্মাণে ইতিমধ্যেই লোকজন বসবাস শুরু করেছেন, সেগুলির বিরুদ্ধে এখনও কোনও কঠিন পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলেই খবর।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের কিছু আগে রাজারহাট-গোপালপুর ও বিধাননগর পুরসভাকে মিশিয়ে বিধাননগর কর্পোরেশন তৈরি হয়। সল্টলেকের দিকে বেআইনি নির্মাণের ততটা বাড়াবাড়ি না থাকলেও ওই সমস্যায় জর্জরিত ছিল রাজারহাট-গোপালপুর পুর এলাকা। অতীতে জাল নকশা (ডি প্ল্যান) তৈরি করেও বহুতল তৈরির ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছে রাজারহাট এলাকায়। যে কারণে বেআইনি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় বিধানগর পুরসভার দিকে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার আঙুল উঠেছে।
তৃণমূল শাসিত বিধাননগর পুর বোর্ডের অধীনে রাজারহাট-গোপালপুর ও রাজারহাট-নিউ টাউনের বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি নির্মাণের পিছনে তৎকালীন পুরপ্রতিনিধিদের একাংশের মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বার বার। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বিধাননগর পুরসভার যে সব পুরপ্রতিনিধি গ্রেফতার হয়েছেন বা গা-ঢাকা দিয়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ বেআইনি নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে ততটা সক্রিয় ছিলেন না বলে বিভিন্ন সময়ে শোনা গিয়েছিল।
জানা গিয়েছে, সল্টলেকে কিছু বেআইনি নির্মাণকে চিহ্নিত করেছে পুরসভা। তার মধ্যে যে সব জায়গায় গ্যারাজ ঘিরে বাণিজ্যিক কাজকর্ম চলছে, সেগুলিও ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ দিন জগৎপুরে যে নির্মাণটি ভাঙা হয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে বৈধ নকশা-সহ কোনও ধরনের কাগজপত্র না থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুর আধিকারিকেরা জানান, নির্মাণকারীদের বিভিন্ন সময়ে কাজ বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে ও পুরসভায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। নির্মাণটির আশপাশে পুর আইন মেনে কোনও ছাড় দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। তবু সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে অতীতে একাধিক বার নানা ধরনের বাধা এসেছে। এমনকি সেই সমস্যার কথা তৎকালীন পুরসভার শীর্ষ মহলকে জানিয়েও বিশেষ লাভ হয়নি বলেই অভিযোগ।
বিধাননগর পুরসভা সূত্রের খবর, সরকারের তরফে অতি দ্রুত বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কড়া নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল এবং সরঞ্জামের অভাব রয়েছে পুরসভায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শেষ করতে বেসরকারি সংস্থাকে বরাত দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এ দিন থেকে সল্টলেক-সহ বিধাননগর পুর এলাকায় রাস্তা দখল করে থাকা হকারদেরও নোটিস দেওয়া শুরু হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)