E-Paper

অস্থায়ী জরুরি বিভাগেই চলছে কাজ, পরিকাঠামো নিয়েও বহু প্রশ্ন

শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, ট্রমা কেয়ারের প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকেই সোজাসুজি দু’টি লিফ্ট। যার একটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আবার প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকে বাঁ হাতে অস্থি শল্য চিকিৎসকদের বসার জায়গার পাশেও রয়েছে আরওএকটি লিফ্ট এবং বেসমেন্টে যাওয়ার সিঁড়ি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪৫
ঘটনার পরে ঘিরে রাখা হয়েছে আর জি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারের সেই লিফ্ট। শুক্রবার।

ঘটনার পরে ঘিরে রাখা হয়েছে আর জি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারের সেই লিফ্ট। শুক্রবার। —নিজস্ব চিত্র।

ভাঙচুরের পরে ১৯ মাস কেটে গিয়েছে। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ খোলা যায়নি এখনও। বদলে ট্রমা কেয়ার ভবনের একতলায় সরু জায়গায় গাদাগাদি ভিড়ের মধ্যেই চলছে অস্থায়ী জরুরি বিভাগ।জরুরি বিভাগ কবে পুরনো জায়গায় ফিরবে, জানেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে পুলিশ-প্রশাসনের কেউই!এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার শেষ রাতে ট্রমা কেয়ার বিভাগে লিফ্টে থেঁতলে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আর জি করের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সঙ্গেই উঠছে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও একাধিক গাফিলতির দিক। যেমন উঠেছিল আর জি করের ভিতরে চিকিৎসক-পড়ুয়াকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পরে। সেই সময়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে তাঁদের জন্য বিশ্রামকক্ষ, পুরুষ ও মহিলা চিকিৎসকদের আলাদা শৌচাগার এবং প্যানিক বাটন-সহ হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু কাজ কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল, ট্রমা কেয়ারের প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকেই সোজাসুজি দু’টি লিফ্ট। যার একটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে। আবার প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকে বাঁ হাতে অস্থি শল্য চিকিৎসকদের বসার জায়গার পাশেও রয়েছে আরওএকটি লিফ্ট এবং বেসমেন্টে যাওয়ার সিঁড়ি। রোগীর পরিজন থেকে চিকিৎসকদের একাংশের অভিযোগ, তিনটি লিফ্টেই মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ট্রমা কেয়ারের বেসমেন্টে রয়েছে রেডিয়োথেরাপি বিভাগ। সিঁড়ি দিয়েই সকালে ওই বিভাগে যান রোগীরা। কিন্তুবিকেলের পরে ওই সিঁড়ির মুখে থাকা গ্রিলের দরজা তালাবন্ধ থাকে। অন্য দিকে, লিফ্ট ব্যবহার করে কেউ যাতে বেসমেন্টে সহজে নামতে না পারে, তার জন্য লিফ্টের ঘরের সামনে গ্রিলের গেটে তালা দেওয়া থাকে। সেই কারণে বেসমেন্টে লিফ্ট থেকে বেরোতে পারেননি অরূপ ও তাঁর পরিবার। এমনকি, প্রয়োজনেরসময়ে মেলেনি চাবিও। জরুরি অবস্থায় লিফ্ট বা সিঁড়ির মুখের দরজার চাবি কোথায় পাওয়া যাবে, তার সদুত্তর মেলেনি টালা থানা, হাসপাতালের নিরাপত্তায় থাকা সিআরপিএফ বাহিনী অথবা বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী— কারও কাছেই। ঘটনার পরেও ট্রমা কেয়ারে কোনও লিফ্টকর্মীর দেখা মেলেনি।

অভিযোগ, ট্রমা কেয়ার ভবনের অপারেশন থিয়েটার চত্বর ও জরুরি বিভাগে কোথাও রোগী বাপরিজনদের জন্য শৌচাগার নেই। প্রয়োজনে তাঁদের যেতে হয় হাসপাতালের মূল গেটের কাছে সুলভ শৌচালয়ে। প্রশ্ন হল, কেন হাসপাতালের ভিতরে সেই ব্যবস্থা থাকবে না? কেন অস্ত্রোপচারের জন্য অপেক্ষমাণ রোগীকে নীচে নিয়ে আসতে হবে? জানা যাচ্ছে, আর জি করে লিফ্ট রয়েছে ৩০-৩২টি। প্রতিটি লিফ্টে চার শিফ্‌টে এক জন করে ডিউটিতে থাকলে অন্তত ১২০ জন কর্মীর থাকার কথা। কিন্তু তা নেই।

সূত্রের খবর, পূর্ত দফতরের অধীনে থাকা ওই লিফ্টগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যে বেসরকারি সংস্থার, তাদের উপরে নজরদারিরও তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানান, ঘটনার পরে স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিদল আর জি করে গিয়ে সব কিছু দেখেছে। তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিক একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে। সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ আরও অভিযোগ, অস্থায়ী জরুরি বিভাগ ও ট্রমা কেয়ার বিভাগে প্রতিদিন রোগীর এমনই ভিড় থাকে যে, মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীদের স্থানান্তরিত করতেই অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়। চিকিৎসকদের অনেকেই আবার জানাচ্ছেন, জরুরি বিভাগে পাইপলাইনের মাধ্যমে শয্যার সামনে অক্সিজেন সরবরাহের ছ’টিব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু তার থেকে বেশি রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে সমস্যা তৈরি হয়। হাসপাতালের এক কর্তার দাবি, ‘‘বিষয়টি এখনও সিবিআইয়ের তদন্তের আওতায় রয়েছে। তাই পুরনো জরুরি বিভাগ খোলা সম্ভব হচ্ছে না।’’

এ দিন উপাধ্যক্ষের কাছে একটি দাবিপত্র জমা করেছে ওই মেডিক্যাল কলেজের স্টুডেন্টস বডি এবং রেসিডেন্ট ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন। চিকিৎসক তৃণেশ মণ্ডল জানান, তাতে অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে লিফ্টম্যানের অনুপস্থিতি, যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশাসনিক গাফিলতি-সহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার দাবি তোলা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

RG Kar Case rg kar hospital poor infrastructure RG Kar Medical College And Hospital

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy