Advertisement
E-Paper

ফাঁসিয়ে দেওয়ার তত্ত্ব উস্কে দিল্লিতে ধৃত শানু

রেড রোড-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সাম্বিয়া সোহরাবের বন্ধু শানু অর্থাৎ শাহনাওয়াজ খানকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। একেবারে দিল্লি গিয়ে। রবিবার আদালতে পুলিশ জানিয়েছিল, বুধবার ভোরে গাড়িটি যে সাম্বিয়াই চালাচ্ছিলেন সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। তাই শানুকে কেন গ্রেফতার করা হল, সেই প্রশ্ন উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:৩৭

বৌবাজারের খান পরিবারের আশঙ্কাটাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল।

রেড রোড-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সাম্বিয়া সোহরাবের বন্ধু শানু অর্থাৎ শাহনাওয়াজ খানকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। একেবারে দিল্লি গিয়ে। রবিবার আদালতে পুলিশ জানিয়েছিল, বুধবার ভোরে গাড়িটি যে সাম্বিয়াই চালাচ্ছিলেন সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। তাই শানুকে কেন গ্রেফতার করা হল, সেই প্রশ্ন উঠছে।

সাম্বিয়াকে বাঁচাতে পুলিশ যে শেষ পর্যন্ত শানুকে ফাঁসাতে পারে এমন একটা আশঙ্কা তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে আগেই করা হচ্ছিল। সোমবার শানুকে গ্রেফতারের পরে তাঁর এক বন্ধুর অভিযোগ, ‘‘পুলিশের উপরমহলের একাংশের সঙ্গে সাম্বিয়ার বাবার যে রকম মাখামাখি, তার হিসেব তো পুলিশকে চোকাতেই হবে।’’ শানুকে চিহ্নিত করার জন্য রবিবার তাঁর দাদা খালিদকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছিল কলকাতা পুলিশের গুন্ডাদমন শাখা। এ দিন দিল্লি আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে খালিদ ক্ষোভ উগরে দিলেন— ‘‘সাম্বিয়ার পরিবারের অনেক টাকা। রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তিও যথেষ্ট।’’

Advertisement

কলকাতায় বৌবাজারের বাড়িতে বসে শানুর বোনও অভিযোগ করেন, ‘‘আমাদের পরিবার তদন্তে সব রকম সাহায্য করেছে। রবিবার সকালে শানু ফোন করার পরে আমরাই পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশকে সাহায্য করলাম, আর ওরা শানুকে ফাঁসিয়ে দিল!’’

ঘটনার দিনই সাম্বিয়ার দাদু অভিযোগ করেন, সাম্বিয়া নয়, অডি গাড়িটি চালাচ্ছিল শানু। লালবাজারের একাংশের সন্দেহ, সাম্বিয়ার দাদুর মন্তব্য হয়তো বৃহত্তর কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ। শুধু শানুর আত্মীয়-বন্ধুরাই নন, সাম্বিয়ার আর এক বন্ধু জনির দাদারাও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দাদাদের কাছে পাঠানো একটি ভিডিও ফুটেজেও জনি অভিযোগ করেছেন, ‘‘শানুই গাড়ি চালাচ্ছিল বলে আমাকে বয়ান দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।’’

রেড রোড-কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসারেরা এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। এক তদন্তকারীর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, অপরাধীকে কড়া শাস্তি দিতে হবে। অন্য দিকে সেনাবাহিনীর চাপ। সাম্বিয়াকে না ধরা পর্যন্ত আমরা চার দিন বাড়ি যাইনি। আমরা আমাদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ। আর কারও কাছে নয়।’’

পুলিশ যতোই অডি গাড়িতে সাম্বিয়ার সঙ্গে শানু ও জনির থাকার দাবি করুক না কেন, সেনাবাহিনী কিন্তু এই তত্ত্ব মানছে না। প্রথম দিন থেকেই সেনাবাহিনী বলে আসছে, ওই গাড়িতে এক জনই ছিল। এর প্রমাণ দেওয়ার জন্য একাধিক সাক্ষীও রয়েছে তাদের কাছে। শানু ধরা পড়ার বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনী কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। সোমবারে সেনার মুখপাত্র উইং কম্যান্ডার এস এস বিরদি শুধু জানান, তাঁরা ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর রেখেছেন।

কিন্তু শানুকে ধরার দরকার কী? গাড়ি না চালালেও কেন শানুর বিরুদ্ধে এতগুলো ধারা প্রযুক্ত হল? পুলিশ ও তদন্তকারীদের দাবি, বুধবারের ঘটনায় শানু গাড়ি না চালালেও তিনি কোনও ভাবেই গাড়িটি নিয়ে পালানোর সময় আটকানোর চেষ্টা করেননি। দুর্ঘটনার পরে পুলিশের কাছে তথ্য গোপনও করেছেন। গোয়েন্দাদের কথায়, ‘‘ঘটনার কথা চেপে গিয়ে, এলাকা ছেড়ে পালিয়ে, অপরাধ করেছেন শানু। তদন্তে অসহযোগিতাও করেছেন।’’ শানুর বিরুদ্ধে খুন ও খুনের চেষ্টা, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক অভিযোগে এনেছে পুলিশ।

কিন্তু ঘটনার পরে তো মহম্মদ সোহরাব এবং তাঁর বড় ছেলে আম্বিয়াও গায়েব। সেই হিসেবে তাঁরাও তো তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার নিয়ে তৎপরতা দেখাচ্ছে না কেন?

লালবাজারের মুখে কুলুপ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy