Advertisement
E-Paper

এখনও সকলকেই আপন করে নেয় এলাকাটা

বাড়ি থেকে পা বাড়ালে যেখানে পা পড়ে, সেটাই তো পাড়া! এখান থেকেই উত্তরণের পথে পা বাড়িয়েছি। আবার দিনের শেষে মেলে শান্তি।

অমিত সেন

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০১:০৪
ছবি:শৌভিক দে

ছবি:শৌভিক দে

বাড়ি থেকে পা বাড়ালে যেখানে পা পড়ে, সেটাই তো পাড়া! এখান থেকেই উত্তরণের পথে পা বাড়িয়েছি। আবার দিনের শেষে মেলে শান্তি।

ঠিকানা হেমচন্দ্র নস্কর রোড হলেও পাড়াটা কিন্তু বেলেঘাটার অবিনাশচন্দ্র ব্যানার্জি লেন। পাড়ার প্রথম বাড়িটাই আমাদের বলে, মজা করে বলি প্রবেশপথ।

বৃহত্তর পরিবারের মতো কিছু সুখস্মৃতি, কিছু তিক্ততার মাঝে রয়েছে অদৃশ্য টান। সেকেলে বাড়ি আর হাল আমলের বহুতল মিলে পাড়ার ভারসাম্য বজায় রেখেছে। নতুন-পুরনো বাসিন্দারা মিলেমিশে থাকে। পাড়াটা আগের চেয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। নিয়মিত জঞ্জাল সাফ হয়। রাতেও বেশ ঝলমলে। এলাকার উন্নয়নে কাউন্সিলর আগ্রহী। যে কোনও সমস্যায় পাশে থাকেন।

তবু কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন, বাড়ির সামনে, ফুটপাথের ওই এক চিলতে সবুজ জায়গাটা গ্রিল দিয়ে ঘেরা থাকলেও কারা যেন মাঝেমধ্যেই বোতল, ক্যান ফেলে যায়।

সম্পর্কের যোগসূত্রটা ধরে রাখতে পাড়ার মহিলাদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। একটা হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপও আছে। হারায়নি বিপদ-আপদে পাশে থাকার প্রবণতা।

নানা পরিবর্তনের মাঝে ফিকে হয়ে এসেছে আড্ডার ছবি। তবে আজও কিছু মানুষের আড্ডা বসে পাড়ার মোড়ে, চায়ের দোকানে। তবে পুজোয় আড্ডার জমজমাট ছবিটা এখনও অমলিন। এমনকী, যাঁরা পাড়া ছেড়ে অন্যত্র বাস করছেন তাঁরাও ওই সময়ে পাড়ায় ফেরেন। সাংস্কৃতিক মনস্ক বাসিন্দাদের নিয়ে নাটক, গান-সহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

সকালটা শুরু হয় কোলাহলে। কিছু স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের গন্তব্য কাছের সুভাষ সরোবর। আগে সকালটা শুরু হতো খেলাধুলোয়। মাঠে নয়, ফুটপাথেই এখন হয় জমজমাট ফুটবল-ক্রিকেট। অতীতে এ পাড়ার নিজস্ব একটা খেলা ছিল যার নাম আড়িয়াবান্দা। অনেকটা কাবাডির মতো। সেটাও হারিয়েছে। বন্ধ হয়েছে ১৫ অগস্ট আর ২৬ জানুয়ারির ক্রিকেট প্রতিযোগিতা, যার সঙ্গে জড়িয়ে পাড়ার মানুষের আবেগ। ফুটপাথের এক দিকে গাড়ির পার্কিং এবং কিছু জায়গায় গাছ লাগানোয় কমেছে খোলা জায়গা। রাস্তায় গাড়ি চলাচল এতটাই বেড়েছে যে, ফুটপাথে খেলাধুলো বিপজ্জনক।

কাছেই বি সরকারের বাজার, আর আছে রাসমণি বাজার। সেখানে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় সব কিছু। বেলেঘাটা মেন রোডে রয়েছে প্রাচীন একটি শীতলা মন্দির। পাড়াতেই রয়েছে একটি নার্সিংহোম।

কমেছে বিজয়ার সময়ে বাড়ি বাড়ি প্রণামের রীতিটা। মনে পড়ে, আমরা একটা ঠোঙা হাতে বাড়ি বাড়ি প্রণাম করতে যেতাম। দু’-চারটে নাড়ু-নিমকি খেয়ে যখন পেটে আর জায়গা থাকত না, চুপচাপ সেই ঠোঙায় ভরে ফেলতাম। এ সব আজ গল্প কথা। সে সময়ে এই পাড়াতেই থাকতেন ক্রিকেটার মন্টু বন্দ্যোপাধ্যায়, ফুটবলার যামিনী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

চারপাশে যখন দেখতে দেখতে বাড়ছে প্রাদেশিকতার প্রভাব, তখন আমাদের এই পাড়াটা মনেপ্রাণে আজও ষোলোআনা বাঙালি। কিছু কিছু অবাঙালি পরিবার থাকলেও, সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কার্যত বাঙালি হয়ে উঠেছেন তাঁরাও। এটাই এ পাড়ার মাহাত্ম্য। সকলকে সে আপন করে নেয়।

লেখক চিকিৎসক

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy