Advertisement
E-Paper

সল্টলেকে দুর্ঘটনা প্রাণ নিল শিক্ষকের

ফের দুর্ঘটনা সল্টলেকে। ফের মৃত্যু। এ বার পাঁচ নম্বর সেক্টরে। রবিবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে নবদিগন্ত উড়ালপুলের কাছে। দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম দিব্যেন্দু পাল (৫৩)।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:৩৬
দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি। (ইনসেটে) দিব্যেন্দু পাল। — নিজস্ব চিত্র

দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি। (ইনসেটে) দিব্যেন্দু পাল। — নিজস্ব চিত্র

ফের দুর্ঘটনা সল্টলেকে। ফের মৃত্যু। এ বার পাঁচ নম্বর সেক্টরে। রবিবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে নবদিগন্ত উড়ালপুলের কাছে। দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম দিব্যেন্দু পাল (৫৩)। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি সায়েন্স বিভাগে শিক্ষকতা করতেন।

পুলিশ জানায়, এ দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ নিউ টাউনের দিক থেকে গাড়ি চালিয়ে বাইপাসের দিকে যাচ্ছিলেন দিব্যেন্দুবাবু। উড়ালপুল পার করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মেট্রো প্রকল্প এলাকায় একটি পিলারে গিয়ে ধাক্কা মারে গাড়িটি। এর পরেই উল্টে যায় সেটি।

সেই সময়ে রাজ্য প্রশাসনের এক আমলা অমিত চৌধুরী নিজের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানের কাজে সল্টলেক থেকে নিউ টাউন যাচ্ছিলেন। নবদিগন্ত উড়ালপুলের কাছে তিনি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে অনেকেই দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে যাননি। অমিতবাবু গিয়ে দেখেন, একটি গাড়ি সেখানে উল্টে পড়ে, তা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। পুলিশ জানায়, অমিতবাবু ও তাঁর দুই সঙ্গী মিলে গাড়িটি সোজা করেন। গাড়ির ভিতরে এক দিকে পড়ে ছিলেন দিব্যেন্দুবাবু। কাচ ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশও।

সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় দিব্যেন্দুবাবুকে। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে পিজি-তে স্থানান্তরিত করা হয়। অমিতবাবু বলেন, ‘‘আমি প্রথমে ওঁর পরিচয় জানতাম না, পরে জেনেছি। ওঁর মোবাইল থেকেই পরিবারের লোকজনদের খবর দিই। ভেন্টিলেশন ও অন্যান্য ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ওঁকে বাঁচাতে পারলাম না।’’

দিব্যেন্দুবাবুর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে। কাঁকুড়গাছিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসনে স্ত্রী তনুশ্রী এবং মেয়ে তিতলিকে নিয়ে থাকতেন তিনি। তিতলি আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দিব্যেন্দুবাবুর পরিচিতেরা জানান, এ দিন সকালে তিনি নিউ টাউনে একটি কাজে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম শিক্ষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দিব্যেন্দুবাবু। ওয়েবকুটা-র কর্মসমিতিতে সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ, রেজিস্ট্রার সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। উপাচার্য বলেন, ‘‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রেই ওঁর পরামর্শ পেয়েছি।’’ ওয়েবকুটা-র সাধারণ সম্পাদক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ বলেন, ‘‘দিব্যেন্দুর চলে যাওয়া বাম শিক্ষক আন্দোলনে একটি বড়সড় ধাক্কা।’’ শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দিব্যেন্দুবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে বলেন, ‘‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে যে কোনও মৃত্যুই দুর্ভাগ্যজনক। খুবই খারাপ লাগছে।’’

Teacher died Accident
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy