Advertisement
E-Paper

আইএসআইয়ে বৃক্ষচ্ছেদনে কী করে অনুমতি? বনকর্তার জবাব তলব করলেন রাজ্য সরকারের বন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান

আইএসআইয়ে গাছ কাটা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, কর্মী এবং আধিকারিকদের একাংশ। তার পরেই গাছ কাটা আপাতত বন্ধ করার নির্দেশ দেন আইএসআই-এর নবনিযুক্ত অধিকর্তা (ডিরেক্টর) অয়নেন্দ্র বসু।

অমিত রায় ও সারমিন বেগম

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০০
The state government has indicated strict action in the case of illegal felling of trees in ISI

আনন্দবাজার ডট কম-এ আইএসআই ক্যাম্পাসের গাছ কাটা সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তৎপর বন দফতর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট’ (আইএসআই) ক্যাম্পাসে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে উদ্যোগী হল পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন পর্ষদ। গাছ কাটার প্রয়োজন কেন, কী ভিত্তিতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল— এই সব নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর শুরু করলেন রাজ্যের বন উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তপন দাশগুপ্ত। এ ব্যাপারে পর্ষদেরই ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভিপান কুমার সুদের কাছে জবাব তলব করা হয়েছে। পর্ষদ সূত্রে দাবি, জবাবে সন্তুষ্ট না হলে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে। সোমবার আনন্দবাজার ডট কম-এ খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেন বন দফতরের কর্তারা। বৃক্ষচ্ছেদনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা। বিষয়টি তাঁর গোচরে না থাকলেও, তিনি এ বিষয়ে বন দফতরের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

ক্যাম্পাসের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বন দফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন আইএসআই কর্তৃপক্ষের একাংশ। সে সময় এ বিষয়ে জড়িত ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক আঝিকারিক রবীন্দ্র কুমারের দাবি, গত ডিসেম্বরে বন দফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই গাছ কাটার কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই কয়েকটি গাছ কেটেও ফেলা হয়েছে। তবে বর্তমানে গাছ কাটার সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন আইএসআই-এর নবনিযুক্ত অধিকর্তা (ডিরেক্টর) অয়নেন্দ্র বসু। কারণ, এই গাছ কাটা শুরু হতেই আপত্তি তোলেন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, কর্মী এবং আধিকারিকদের একাংশ।

বিটি রোডের ধারে বরাহনগরে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইএসআই কলকাতার ক্যাম্পাসে থাকা বেশ কয়েকটি গাছ কাটার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিকারিক (সিইও, অর্থ) রবীন্দ্র দাবি করেন, তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন বনকর্মীরা। বন দফতরের নথি বলছে, ক্যাম্পাসের মধ্যে ৬৫টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সব গাছ ‘মৃত’ নয়। ৬৫টি গাছের মধ্যে ১২টি ‘মৃত’ বলে উল্লেখ ছিল বন দফতরের নথিতে।

এই গাছ কাটার খবর আনন্দবাজার ডট কম-এ প্রকাশিত হওয়ার পরই শোরগোল পড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরাও। ঘটনার কথা জানতে পেরে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বন উন্নয়ন পর্ষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘আমি খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, গাছ কাটা আপাতত স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি জানতে আমি আমার সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের দ্বারস্থ হব। কারণ, এতগুলি গাছ কেটে দিয়ে পরিবেশের ক্ষতি হোক, তা আমরা কোনও ভাবেই চাই না। তাই এমন পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে থাকার কোনও সুযোগ নেই।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy