Advertisement
E-Paper

নিজের ঘর থেকে উদ্ধার যুবকের ক্ষতবিক্ষত দেহ

রহড়া বন্দিপুরের আনন্দপল্লির বাসিন্দা ওই যুবকের নাম মিলন মণ্ডল (৩২)। তিনি রহড়া বাজারে ভ্যানে করে আলু, পেঁয়াজ বিক্রি করতেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অগস্ট ২০২০ ০১:৪৮
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

ঘরে বসে ছেলে এক বন্ধুর সঙ্গে টাকাপয়সার হিসেব করছিলেন। রবিবার রাতে তখনই শেষবারের মতো ছেলেকে দেখেছিলেন বৃদ্ধ বাবা। এর পরে গোটা একটা দিন কেটে গেলেও ছেলে ঘর থেকে বেরোননি। মঙ্গলবারও একই অবস্থা দেখে শেষে দরজা খুলে বাবা দেখেন, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তাঁর ছেলে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপানোর চিহ্ন।

পুলিশ জানায়, রহড়া বন্দিপুরের আনন্দপল্লির বাসিন্দা ওই যুবকের নাম মিলন মণ্ডল (৩২)। তিনি রহড়া বাজারে ভ্যানে করে আলু, পেঁয়াজ বিক্রি করতেন। এর পাশাপাশি সুদের কারবারও ছিল মিলনের। আনন্দপল্লিতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে তিনি থাকতেন। মাসখানেক আগে তাঁর স্ত্রীরও অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তার পর থেকেই ওই যুবক মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন পরিজনেরা।

পুলিশ সূত্রের খবর, মিলনের দুই দাদা ‌নিখিল ও লিটন ওই বাড়ির কিছুটা দূরেই থাকেন। কিন্তু ছোট ছেলে মিলনের কাছেই থাকতেন বাবা নিরঞ্জনবাবু। তিনি কানে কম শোনেন, এমনকি মানসিক ভাবেও অসুস্থ। তিনি এ দিন বলেন, ‘‘ছেলে সব সময়ে চুপ থাকত। তাই সোমবার ওকে আর ডাকাডাকি করিনি। কিন্তু মঙ্গলবারও ঘর থেকে না বেরোনোয় ঢুকে দেখি মেঝেয় পড়ে রয়েছে।’’ নিরঞ্জনবাবু জানান, ঘরের আলমারিও লন্ডভন্ড ছিল। এমনকি, রবিবার রাতে বন্ধুর সঙ্গে বসে মিলন যে টাকা গুনছিলেন, তা-ও নেই। নিরঞ্জনবাবুর চেঁচামেচিতেই পড়শিরা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে আসে রহড়া থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানান, মিলনের মাথা, গলা ও যৌনাঙ্গে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ময়না-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, খুনের ঘটনাটি ঘটেছে দেহ মেলার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ রবিবার রাতে। তবে ধারালো কোনও অস্ত্রের হদিস এখনও মেলেনি বলেই দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, খুনের আগে মিলনের সঙ্গে কারও ধস্তাধস্তি হয়েছিল। তারও প্রমাণ মিলেছে। উধাও হয়ে গিয়েছে ওই যুবকের দু’টি মোবাইল ফোনও। ঘটনায় মিলনের এক বন্ধুকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন তদন্তকারীরা। কারণ মিলনের পরিজনেরা পুলিশকে জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে বিহারের বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল রহড়ার ওই যুবকের। বিহারের ওই যুবক কাজের সূত্রে আগরপাড়ায় থাকতেন। কিছু দিন আগে মিলনই আনন্দপল্লিতে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ওই যুবককে। মাঝেমধ্যে মিলনের দোকানেও দেখা যেত ওই যুবককে। তদন্তকারীরা জানান, রহড়া বাজারে একটি স্থায়ী দোকানের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে চার লক্ষ টাকা তুলেছিলেন মিলন। রবিবার রাতে পরিচিত ওই যুবককে নিয়ে এসে ঘরে বসে সেই টাকা গুনছিলেন। নিরঞ্জনবাবু বলেন, ‘‘ছেলে বলল খেয়ে শুয়ে পড়ো। আমি পরে খাব। কিন্তু কী থেকে যে কী হয়ে গেল!’’

Crime Death
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy