Advertisement
E-Paper

ভবানীপুর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার ওয়ার্ডেই নেই বিজেপির মণ্ডল অফিস! ২০২৬ সালে ভোটের লড়াই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ভোটের মাত্র মাস পাঁচেক আগে ভবানীপুর বিজেপির লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কারণ ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় যে মণ্ডলটি রয়েছে, তার কোনও অফিস নেই বলেই জানা যাচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১৪:৪৪
There is no BJP mandal office in CM Mamata Banerjee’s ward in Bhabanipur Assembly constituency

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার ডাক দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ভোটের মাত্র মাস পাঁচেক আগে ভবানীপুর বিজেপির লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কারণ, ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভায় যে মণ্ডলটি রয়েছে, তার কোনও অফিসই এখন নেই!

নির্দিষ্ট অফিস না থাকায় নেতা-কর্মীরা স্থায়ী ভাবে বসে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন না। তেমনই জানাচ্ছেন ভবানীপুর-২ মণ্ডলের বিজেপি কর্মীদের একাংশ। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির সংগঠন তিনটি মণ্ডলে বিভক্ত। কলকাতা পুরসভার ৭১, ৭৩ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে তৈরি বিজেপির ভবানীপুর মণ্ডল-২। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডেই বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতার। মুখ্যমন্ত্রীর গোটা পরিবারই ওই ওয়ার্ডের ভোটার। এ হেন একটি গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডলের অফিস না থাকা নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির একটি সূত্রের বক্তব্য, কয়েক মাস আগে পর্যন্ত ওই মণ্ডলের একটি অস্থায়ী অফিস ছিল। বর্তমানে সেটির আর কোনও অস্তিত্ব নেই। বিজেপি সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত হরিশ পার্কের উল্টো দিকে ভবানীপুর-২ মণ্ডলের একটি অফিস ছিল। ২ মে ভোটের ফল ঘোষণার দিন রাতেই কে বা কারা ওই অফিসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই দিন থেকেই ওই অফিসে আর বসতে পারেন না ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব। এর পরে লোকসভা ভোটের আগে ২০২৩ সালে তৎকালীন ভবানীপুর-২ এর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জিত শর্মার বাসভবন ২৬, স্কুল রোডের ছাদে একটি অস্থায়ী মণ্ডল অফিস তৈরি করে রাজনীতির কাজ শুরু করেন। গত মার্চ-এপ্রিল মাসে বিজেপির মণ্ডল স্তরে সভাপতি বদল শুরু হয়। পর পর তিন বার মণ্ডল সভাপতি থাকায় সঞ্জিতকে সরিয়ে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় শিবসাগর যাদবকে। তার পরেই ‘প্রাক্তন’ সভাপতির বাড়ির অফিসটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ভবানীপুর মণ্ডল-২-এর বর্তমান সভাপতি শিবসাগরের কথায়, “এখন আমাদের মণ্ডলের কোনও স্থায়ী অফিস নেই। এটা ঠিক। কিন্তু আমরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই নতুন অফিস তৈরি করে ভোটের লড়াইয়ে যাব।”

তবে নতুন অফিস কোথায় হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও জবাব দিতে পারেননি নতুন সভাপতি। প্রাক্তন সভাপতি সঞ্জিতের আবার দাবি, “আমার বাড়িতে কোনও দিনই কোনও পার্টি অফিস ছিল না। কারও বাড়িতে দলের কাজকর্ম হতেই পারে। তা বলে সেটা পার্টি অফিস হয়ে যায় না।” তাঁর আরও বক্তব্য, “শুধু মণ্ডল-২ কেন? ভবানীপুর মণ্ডল-১ এবং ৩-এরও কোনও অফিস নেই।” যদিও তবে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির এক সূত্র জানাচ্ছে, ভবানীপুর-১ মণ্ডল তৈরি হয়েছে কলকাতা পুরসভার ৬৩,৭০ এবং ৭২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। সেই মণ্ডলের একটি অফিস গিরিশ মুখার্জি রোডে রয়েছে। যদিও সেটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে না। ভবানীপুর মণ্ডল-৩ কলকাতা পুরসভার ৭৪ এবং ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে। সেই মণ্ডলের অফিস অরফ্যানগঞ্জ রোডে। সেই মণ্ডল অফিস সংলগ্ন এলাকাতেই বিরোধী দলনেতা সম্প্রতি বিজয়া সম্মিলনী করেছেন। ফলে সঞ্জিতের দাবি ঠিক নয় বলেই পাল্টা দাবি ভবানীপুর বিজেপির নেতাদের একাংশের। দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ খটিকের বক্তব্য, “২০২১ সালের ২ মে সারা রাজ্যের মতো ভবানীপুরেও আমরা আক্রান্ত হয়েছিলাম। সেই আক্রমণে আমাদের পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা ঠিক যে, এখন আমাদের কোনও পার্টি অফিস নেই। কিন্তু আমরা ভবানীপুরে শুধু মণ্ডল অফিসই নয়, ওয়ার্ড অফিসও তৈরি করে বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াই করব।”

Bhabanipur BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy