Advertisement
E-Paper

বাজি কিনতে ভূতেরাই ভরসা তিন বন্ধুর

কুমোরটুলির বাসিন্দা তিন বন্ধু— ষষ্ঠ শ্রেণির সুমিত চৌধুরী, সপ্তম শ্রেণির দেবকুমার পাল ও রাজ রায়ের হাতের তৈরি ভূত জোড়ার প্রত্যেকটিই ডাকিনী যোগিনী। এক জোড়া ভূতের দাম শুরু ৮০০ টাকা থেকে।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৮ ০১:২২
ভূত বানাতে ব্যস্ত তিন বন্ধু। কুমোরটুলিতে। নিজস্ব চিত্র

ভূত বানাতে ব্যস্ত তিন বন্ধু। কুমোরটুলিতে। নিজস্ব চিত্র

বাজি কিনতে বাবা-মায়ের কাছে হাত পাততে মোটেই রাজি নয় তারা। তাই ভরসা ভূতেরাই! বাজি কিনতে কালীপুজোর আগে তাই চার জোড়া ভূত বানিয়ে ফেলেছে কুমোরটুলির তিন পড়ুয়া। পাড়ায় যাদের পরিচিতি তিন মূর্তি হিসেবে।

কুমোরটুলির বাসিন্দা তিন বন্ধু— ষষ্ঠ শ্রেণির সুমিত চৌধুরী, সপ্তম শ্রেণির দেবকুমার পাল ও রাজ রায়ের হাতের তৈরি ভূত জোড়ার প্রত্যেকটিই ডাকিনী যোগিনী। এক জোড়া ভূতের দাম শুরু ৮০০ টাকা থেকে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তিন বন্ধু এখন ব্যস্ত ভূতের মুখে রং করার কাজে। সুমিত বলে, ‘‘এখনও ভূতের চোখ করা বাকি। আরও কিছু ছোটখাটো কাজও বাকি রয়েছে। খদ্দের এসে যদি দেখে এখনও ভূত তৈরি নয়, তা হলে বিক্রি হবে কী করে?’’ আর দেবকুমার বলছে, ‘‘গত বছর দু’জোড়া বানিয়েছিলাম। কালীপুজোর আগের রাতে দু’টোই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। এ বার তাই দু’জোড়া ভূত বেশি বানাচ্ছি।’’

দেবকুমারের পরিবার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত। সুমিত ও রাজের পরিবারের দোকান রয়েছে কুমোরটুলিতে। তবে মাঝেমাঝে ছোট প্রতিমাও বানিয়ে থাকেন তাঁরা। পরিবারের থেকেই ভূত তৈরিতে হাতেখড়ি হয়েছিল এই তিন বন্ধুর। সুমিত জানাচ্ছে, ভূত বানানোর ভাবনাটা মাথায় এসেছিল গত বছর। পটুয়াপাড়ায় অন্য মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আস্ত প্রতিমা তৈরির চেয়ে সহজে ভূত বানানো যাবে— এই ভাবনা থেকেই ভূত তৈরিতে হাত লাগিয়েছিল ওই তিন স্কুলপড়ুয়া। প্রথম বছরে তৈরি দু’জোড়া ভূত বিক্রির টাকা তারা তুলে দিয়েছিল বাবা-মায়ের হাতে। এ বারে অবশ্য ফুলঝুরি-রংমশাল-চরকিই ‘পাখির চোখ’ সুমিত-দেবকুমারদের। রাজ বলে, ‘‘এ বার আর মা-বাবার থেকে বাজির টাকা চাইব না। নিজেরাই বাজি কেনার পয়সা ভূত বিক্রি করে

তুলে নেব।’’

ভূত বানানোর প্রস্তুতি অবশ্য দুর্গাপুজোর বিসর্জনের সময়েই শুরু করে দিয়েছিল সুমিতেরা। বিসর্জনের সময়ে পাড়ার লোকের সাহায্য নিয়ে গঙ্গা থেকে তুলে এনেছিল কয়েকটি লক্ষ্মীপ্রতিমার কাঠামো। তার পরে তাতেই মাটি লেপে শুরু হয় ভূত তৈরির কাজ। আর পড়াশুনা? সুমিত বলছে, ‘‘১২ তারিখ স্কুল খোলার পরেই পরীক্ষা। তাই লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকেই ভূত বানাচ্ছি। বিকেলে ক’দিন আর খেলতে যাচ্ছি না।’’

এ বছর কালীপুজোর আগে কুমোরটুলি ছেয়ে গিয়েছে রকমারি ভূতে। ডাকিনী-যোগিনী থেকে শুরু করে মেছো ভূত, কঙ্কাল ভূত— কে নেই! প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি ভূত তৈরিতে মন দিয়েছেন বেশ কিছু মৃৎশিল্পীও। এ বছরে ভূতের বাজার গত কয়েক বছরের তুলনায় ভাল বলে জানাচ্ছেন শিল্পীরা। তাই কুমোরটুলিতে ভূতেদের রমরমা। এক শিল্পী রাজু মাঝি বলেন, ‘‘এ বার বেশ কয়েকটি কঙ্কাল ভূত বানিয়েছি। এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গিয়েছে কয়েকটি।’’

আপাতত ভূত বিক্রির অপেক্ষায় তিন মূর্তি।

Friends Idol Money Fire Cracker
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy