Advertisement
E-Paper

‘ঠিক কোন অংশ অবৈধ, স্পষ্ট করে দিক কলকাতা পুরসভা’! বাড়ি ভাঙার নির্দেশিকার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া অভিষেকের

কলকাতা পুরসভার ওই নোটিসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে রাজ্যে। দু’টি নোটিসের প্রথমটি পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। দ্বিতীয় নোটিসটি লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ২০:২৮
Abhishek Banerjee

বাড়ির ‘অবৈধ অংশ’ কোনটা? প্রশ্ন তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

তাঁর দু’টি ঠিকানায় অবৈধ নির্মাণ হয়েছে, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জোড়া নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সেই সংক্রান্ত বিষয় আলোচনায় উঠে আসায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি মাথা নত করবেন না। তাঁকে নোটিস পাঠানো হোক বা বাড়ি ভাঙা হোক, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখবেন। অর্থাৎ পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। সেই নোটিস জারির দিন তিনেক বাদে এই প্রথম জনসমক্ষে মুখ খুললেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। পুরসভার উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, বাড়ির ঠিক কোন অংশ অবৈধ ভাবে নির্মিত হয়েছে, সেটা স্পষ্ট করে দেওয়া হোক।

কলকাতা পুরসভার ওই নোটিসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে রাজ্যে। মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি, তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে ওই নোটিস পাঠিয়েছেন। দু’টি নোটিসের প্রথমটি পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। দ্বিতীয় নোটিসটি লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে গিয়েছে, যার পরিচিতি অভিষেকের সংস্থা হিসাবে। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারার কথা। ওই ধারা অনুযায়ী, কোনও বাড়ি বা নির্মাণের প্ল্যান-বহির্ভূত অবৈধ অংশ ভাঙার বা কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারেন পুর কমিশনার। তবে ভাঙার আগে ওই সম্পত্তির সংশ্লিষ্ট মালিককে পুরসভার নোটিস পাঠাতে হয়।

জোড়া নোটিসে দু’টি ঠিকানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে— ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২১ কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোড। বলা হয়েছে, ওই দুই ঠিকানায় যে নির্মাণ রয়েছে তাতে অনুমোদন-বহির্ভূত কিছু অংশ তৈরি করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে ওই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। যদি ওই অবৈধ অংশ সম্পত্তির মালিক না-ভাঙেন, তবে তা পুরসভা কেন ভেঙে দেবে না, তার কারণ দর্শাতে হবে। সাত দিনের মধ্যে পুরসভাকে নোটিসের জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি সেই জবাব সন্তোষজনক না-হয় তবে পুরসভা সাত দিনের কম নোটিসে ওই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। আর এই কাজ করতে পুরসভার যা খরচ হবে, তা দিতে হবে ওই সম্পত্তির মালিককে। শুধু তা-ই নয়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদিত নকশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুরসভাকে জমা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ‘অবৈধ’ নির্মাণ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতেই দৃশ্যত বিরক্ত হন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা এ সব প্রশ্ন করছেন, তাঁরা আগে পুরসভাকে প্রশ্ন করুন, অবৈধ অংশ কোনটা। আগে তারা জবাব দিলে আমিও প্রশ্নের উত্তর দেব। অবৈধ অংশ ‘মার্ক’ (চিহ্নিত) করে দিন। আমি জবাব দেব।’’

অন্য দিকে, কলকাতা পুরসভার অ্যাসিসর-কালেক্টর (দক্ষিণ) দফতরের তরফে ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের সম্পত্তি সংক্রান্ত এক নোটিস জারি করার পরেই বিষয়টি নিয়ে আরও এক চর্চা শুরু হয়েছে। পুরসভার নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রাঙ্গণটি প্রথমে মেসার্স অনিমেষ ট্রেডলিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস্ ইনফ্রা কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে পরিচিত হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, পুরনো কাঠামো ভেঙে সেখানে নতুন ভবন ‘শান্তিনিকেতন’ (অভিষেকের বাসভন) নির্মিত হলেও সম্পত্তিটির কর নির্ধারণ ‘মালিক-অধিকৃত’ হিসাবে করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই বাড়ির কর বর্তমানে দিচ্ছে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস্ ইনফ্রা কনসালটেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড’। কিন্তু সংস্থার জায়গায় বসবাস করা হচ্ছে। থাকছে অভিষেকের পরিবার।

Abhishek Banerjee KMC TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy