Advertisement
E-Paper

আসানসোলে ভাঙল তৃণমূল কার্যালয়, হাওড়ায় ‘বুলডোজ়ার নীতি’-বিরোধী কর্মসূচিতে তৃণমূলকে ‘না’ পুলিশের!

শুক্রবার আসানসোলের বার্নপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বুলডোজ়ার দিয়ে ভাঙা হয়। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিল স্টিল অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া বা সেলের ইসকো কর্তৃপক্ষ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৯:১৬
Bulldozer

আবার বুলডোজ়ার চলল তৃণমূল কার্যালয়ের উপরে। —নিজস্ব চিত্র।

আসানসোলের শিল্পতালুকে বুলডোজ়ার চলছেই। আবার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল তৃণমূলের একটি কার্যালয়। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, রেল, সেল-কে সঙ্গে নিয়ে মর্জিমাফিক কাজ করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব বলছেন, আইন না-মেনে কার্যালয় হলে ভাঙা তো হবেই। এর মধ্যে হাওড়ায় হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ‘বুলডোজ়ার নীতি’র বিরুদ্ধে কর্মসূচি করতে চেয়ে এ বারও অনুমতি পেল না তৃণমূল।

শুক্রবার আসানসোলের বার্নপুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বুলডোজ়ার দিয়ে ভাঙা হয়। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিল স্টিল অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া বা সেলের ইসকো কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, সরকারি জমি দখল করে এই কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। ভাঙার আগে কয়েক বার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পদক্ষেপ করা হয়নি। তাই তাঁরাই বুলডোজ়ার চালিয়ে কার্যালয় ভেঙে দিয়েছেন।

তৃণমূল মেনে নিয়েছে ওই নির্মাণ অবৈধ। কিন্তু তাদের কাছে আগাম নোটিস আসেনি বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কার্যালয় এবং অবৈধ নির্মাণে হাত দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দল। তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ‘‘আমরা বিধানসভা ভোটে হেরেছি। মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছি। কিন্তু তার পর যে ভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাদের একের পর এক পার্টি অফিস ভাঙা হচ্ছে, তা দেখে আমরা বিস্মিত।’’ ওই নেতাদের দাবি, রেল-সেল-কে নিয়ে বিজেপি কেবলমাত্র তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙতেই উদ্যোগী।

শুক্রবার হুগলিতেও বুলডোজ়ার চলেছে। উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী দাঁড়িয়ে থেকে বুলডোজ়ার চালান টোল আদায়ের অফিসে। কোন্নগর রেল স্টেশনের আন্ডারপাসে টোল গেট বসিয়ে টাকা তোলা হত। দীপাঞ্জন কোন্নগর পুরসভায় গিয়ে টোল আদায়ের অনুমতি সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলেন আগেই। তিনি জানান, পুরসভা কোনও কাগজ দেখাতে পারেনি। আন্ডারপাসে টোল আদায়ের জন্য ২০০৮ সালে লিজ় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পর সেই অনুমোদনপত্রের নবীকরণ হয়নি। ওই ভাবেই চলছিল টোল আদায়।

গত শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের বাইরে বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদ করে আরপিএফ। প্রায় দেড়শো দোকান, ট্রলি এবং ডালা বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিজেপি সরকারের ‘বুলডোজ়ার নীতি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জানাতে হাওড়া স্টেশন এবং শিয়ালদা স্টেশনে প্রতিবাদসভার ডাক দিয়েছিল রাজ্য তৃণমূল। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ স্টেশনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের নেতৃত্বে প্রতিবাদসভা হলেও হাওড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক থাকার কারণে স্টেশনের বাইরে তৃণমূলের সভার কোন অনুমতি দেয়নি হাওড়া সিটি পুলিশ। শুক্রবারও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও একই প্রতিবাদ সভার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়। বিকেল ৪টে নাগাদ মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায় এবং দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরীর নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা হাওড়া স্টেশনের বাইরে বাসস্ট্যান্ডের কাছে জড়ো হন। তৃণমূলের হাওড়া সদরের চেয়ারম্যান এবং মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অরূপ অভিযোগ করেন, প্রতিবাদসভার অনুমতি দিচ্ছে না পুলিশ। তিনি বলেন, ‘‘হাওড়া স্টেশনের বাইরে আরপিএফের পক্ষ থেকে হকারদের দোকান ভেঙে ফেলা হয়, যা অত্যন্ত অমানবিক। শুক্রবার প্রতিবাদমঞ্চ তৈরি করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তা সরিয়ে দেওয়া হয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের সরানো যাবে না। এ ব্যাপারে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’’

অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে ‘অবৈধ নির্মাণ’ নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। তার প্রেক্ষিতে শিলিগুড়ি পুরনিগমে গঠিত হল বিশেষ দল। পুরনিগমের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ১৩ সদস্যের বিশেষ দল গড়া হয়েছে। শহরে প্ল্যান পাশ ব্যতীত কতগুলি নির্মাণ আছে, এমন কতগুলো নির্মাণের কাজ চলছে শহরে, তা নিয়ে ১৫ দিনের রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে। যদিও বিল্ডিং বিভাগের মেয়র পরিষদ তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, ‘‘যেমন তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তেমন ভাবেই সব তথ্য ও রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’’ যদিও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙতে গিয়ে বেগ পেলেন পুরকর্মীরা।

Bulldozer TMC BJP TMC Party Office
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy