বিধানসভা ভোটের প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসে ‘বিহারীবাবু’র মাখানো ঝালমুড়ি খেয়ে সুদূর নেদারল্যান্ডসেও প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেই ঝালমুড়ি বিক্রেতা এখন হুমকির মুখোমুখি! অভিযোগ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেতে হুমকিবার্তা পাচ্ছেন ফোনে। ইতিমধ্যে ঝাড়গ্রাম থানায় অভিযোগ করেছেন ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউ। ঝালমুড়ি বিক্রেতার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সাদাপোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে দোকানের আশপাশে। কিন্তু তাতে আতঙ্ক কাটছে না সাউ পরিবারের।
গত ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রামে ভোটপ্রচারে এসেছিলেন মোদী। সড়কপথে ফেরার সময় তাঁর কনভয় দাঁড়িয়েছিল ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড়ের কাছে। ‘চবনলাল স্পেশ্যাল ঝালমুড়ি’ দোকান থেকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭ আসন পাওয়ার পর অনেক জায়গাতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা ঝালমুড়ি বিলি করে এবং খেয়ে বিজয় উৎসব উদ্যাপন করেছেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন পর্যন্ত ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি পোস্ট করেছিলেন সমাজমাধ্যমে। এখন মোদীর জন্য ঝালমুড়ি বানানো বিক্রম পড়েছেন ঘোর সমস্যায়।
জানা যাচ্ছে, ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে টেক্সট মেসেজ এবং হোয়াটস্অ্যাপে ধারাবাহিক ভাবে হুমকি পেয়েছেন তিনি। প্রথম প্রথম বিষয়টি উড়িয়ে দিলেও ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশের অভিযোগ করেছেন বিহারের আদি বাসিন্দা। পুলিশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী বিক্রমের দোকান থেকে ঝালমুড়ি খাওয়ার পরে তাঁর দোকানের ভিড়, বিক্রিবাটা বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ। এমনকি, অবস্থা এমন হয়েছে যে, গত কয়েক দিন ধরে ওই এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। এখন আরও নজরদারি বাড়ছে। অন্য দিকে, বিক্রম এবং তাঁর পরিবার এতটাই আতঙ্কিত যে সংবাদমাধ্যমের সামনে এখন মুখ খুলতে চাইছেন না। ঝালমুড়ি দোকানে পরিবার সূত্রে খবর, ভিডিয়ো কলে তাঁকে অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ এবং সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞেরা তদন্ত শুরু করেছেন। যে সব নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। নিরাপত্তার সব দিক যেমন খতিয়ে দেখা হচ্ছে তেমন অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে তদন্তও শুরু হয়েছে।’’