Advertisement
E-Paper

শ্বশুরবাড়িতে ‘নির্যাতন’, মৃত্যু দগ্ধ তরুণীর

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে ১১টার পরেও রান্না শেষ হয়নি। সে দিন সুমিতার শ্বাশুড়ি মেনকা দাস নিজেই রান্না করছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৮ ০২:৫৯

এক বধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী, দেওর-সহ শ্বশুরবাড়ির চার সদস্যের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বুধবার দুপুরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় সুমিতা দাস (৩৭) নামে ওই বধূর। তাঁর প্রতিবেশীরা অভিযোগ তুলেছেন, গায়ে আগুন ধরিয়ে খুন করা হয়েছে ওই তরুণীকে। ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার গভীর রাতে দগ্ধ অবস্থায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয় সুমিতাকে। বুধবার দুপুরে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। সুমিতার ভাই সুমন্ত দাসের অভিযোগ, সোমবার রাত ৩টে নাগাদ ওই বধূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কোনও খবরই দেওয়া হয়নি তাঁর বাড়িতে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে ১১টার পরেও রান্না শেষ হয়নি। সে দিন সুমিতার শ্বাশুড়ি মেনকা দাস নিজেই রান্না করছিলেন। সুমিতার স্বামী শ্যামল দাস ও দেওর প্রবীর দাস বাড়ি ফিরে খাবার না পেয়ে অশান্তি শুরু করেন।

আরও পড়ুন: স্তন্যপান করান শৌচালয়ে’, বিতর্কের ঝড়ে শপিং মল

তখন রান্না শেষ না হওয়ার দায় চাপে সুমিতার উপরে। অভিযোগ, এর পরেই তাঁর শ্বশুর-শ্বাশুড়ির উস্কানিতে শুরু হয় সুমিতার উপরে নির্যাতন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই রাতে সুমিতাকে বেধড়ক মারধর করেন প্রবীর ও শ্যামল। ওই তরুণীর পোশাকও ছিঁড়ে দেওয়া হয়।

শ্যামলকে (বাঁ দিকে) ঘিরে ধরে বিক্ষোভ সুমিতার (ডান দিকে) পরিজনেদের। বুধবার, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। —নিজস্ব চিত্র

পুলিশ জেনেছে, তখনকার মতো ঘটনাটি মিটেও যায়। কিন্তু বেশি রাতে সুমিতার চিৎকারে পাড়ার সকলের ঘুম ভেঙে যায়। বাসিন্দারা বেরিয়ে দেখেন, আগুন ধরে গিয়েছে সুমিতার সারা শরীরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তৎপরতা দেখা যায়নি শ্বশুরবাড়ির লোকেদের মধ্যে। শেষে পড়শিদের চাপের মুখে সুমিতাকে হাসপাতালে নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।

পরিবার সূত্রের খবর, ন’বছর আগে বড়তলা থানা এলাকার গোপীমোহন স্ট্রিটের বাসিন্দা শ্যামল দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় গোয়াবাগানের বাসিন্দা সুমিতার। শ্যামল কেটারিংয়ের কাজে যুক্ত। তাঁদের আট বছরের এক সন্তান রয়েছে। সুমিতার পরিজনেদের অভিযোগ, নিয়মিত অশান্তি লেগেই থাকত শ্বশুরবাড়িতে। কথায় কথায় মারধর করা হত তাঁকে। স্থানীয় বাসিন্দা মামণি বিশ্বাসের অভিযোগ, অকথ্য নির্যাতন চালানো হত সুমিতার উপরে। সেলাই করে সংসারে সাহায্য করতেন তিনি। কিন্তু শ্যামল ও প্রবীর নেশা করে এসে মারধর করতেন ওই তরুণীকে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ সুমিতার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সুমিতার পরিবার ও প্রতিবেশীরা হাজির হন হাসপাতালে। সেখানেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। রাতে মারধরের অভিযোগ স্বীকার করে নেন শ্যামল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘খাওয়াদাওয়া নিয়ে অশান্তি হয়েছিল। মারধর করেছিলাম। পরে সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল।’’ তাঁর দাবি, প্রবীর মারধর করেননি। শ্যামলের আরও দাবি, সকলে ঘুমিয়ে পড়ার পরে নিজেই গায়ে আগুন দেন সুমিতা। তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে সঙ্গেসঙ্গে তাঁরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন বলেও দাবি শ্যামলের।

পুলিশের এক কর্তা জানান, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।

Crime Death
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy