আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো কলকাতায় চলে এসেছেন। শনিবার সকালে সস্ত্রীক কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে সোজা গিয়েছেন তালতলার মাদার হাউসে। এর পর কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন রুবিয়ো। সেখানে গিয়ে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করবেন।
গত ১৪ বছরে এই প্রথম আমেরিকার কোনও বিদেশসচিব পশ্চিমবঙ্গে এলেন। কলকাতা দিয়ে চার দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন রুবিয়ো। ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর সমাজমাধ্যমে রুবিয়োর কলকাতা সফরের কথা জানিয়েছেন। লিখেছেন, ‘‘বিদেশসচিব রুবিয়ো কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন। এটা ওঁর প্রথম ভারত সফর। শনিবারই আমরা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করব। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কোয়াড-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আগামী কয়েক দিনে আমাদের আলোচনা চলবে।’’
আরও পড়ুন:
শেষ বার কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব হিসাবে এসেছিলেন হিলারি ক্লিন্টন। ২০১২ সালে এই মে মাসেই তিনি কলকাতায় পা রাখেন। রুবিয়োর সফরসূচি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর। সেখানে বলা হয়েছে, মাদার হাউস থেকে রুবিয়োরা যাবেন কলকাতার চিলড্রেন্স হোমে। তার পর দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন। দুপুরে সেখানেই দেখা করবেন মোদীর সঙ্গে। আগামী ২৬ মে পর্যন্ত রুবিয়ো ভারতে থাকবেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, দিল্লি ছাড়াও তাঁর আগরা, জয়পুরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
কলকাতা বিমানবন্দরে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। শনিবার সকালে। ছবি: পিটিআই।
চলতি মাসেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল ঘটে গিয়েছে। প্রথম বার এ রাজ্যে সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকার বিদেশসচিবের এই কলকাতা সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। শুধু কলকাতা নয়, পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের আবহে রুবিয়োর ভারত সফরের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। ভারত বরাবর আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় সমস্যার সমাধান এবং শান্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছে। হরমুজ় প্রণালীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও বার বার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের প্রভাব সারা বিশ্বের জ্বালানির উপর পড়েছে। জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ভারতেও ধারাবাহিক ভাবে পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বাড়ছে। শনিবার নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। গত ১০ দিনে এই নিয়ে তিন বার পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম বেড়ে গেল ভারতে। কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে এ বিষয়ে রুবিয়োকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তরে জানান, আমেরিকার দারুণ বন্ধু ভারত। এ দেশের মন্ত্রী এবং কোয়াড দেশগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মুখিয়ে আছেন বলেও জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব।
উল্লেখ্য, ভারত সফরের শেষ দিনে অর্থাৎ, ২৬ মে কোয়াডের বৈঠকে যোগ দেবেন রুবিয়ো। তাঁর ভারত সফরে আসার অন্যতম উদ্দেশ্য ওই বৈঠক। কোয়াডের সদস্য দেশ অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং, জাপানের বিদেশমন্ত্রী মোটেগি তোশিমিৎসুর সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সেই বৈঠকে থাকবেন।