পুরসভায় কর দিয়েও যাঁদের গভীর নলকূপের জল খেতে হচ্ছিল, তাঁরা পরিস্রুত পানীয় জলের স্বাদ পাবেন— দিন কয়েক আগেই এই সিদ্ধান্তের কথা আগাম জানিয়েছিলেন মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার, পুরসভার মেয়র পারিষদ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত সরকারি ভাবে গৃহীত হল।
পুর-প্রশাসনের এক কর্তা জানান, বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে পুরনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনে বিপদে পড়তে হয়েছে নতুন বাসিন্দাকে। ওই বাড়ি বা ফ্ল্যাটের অনুমোদিত প্ল্যান অমিল। যা কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (সিসি) পেতে জরুরি। কিন্তু তাঁরা কর দেন। অথচ সিসি না থাকায় জলের সংযোগ মেলেনি। তাঁদের দুর্দশার কথা ভেবেই নতুন করে ফেরুল লাগানোর অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান মেয়র। কোথাও চাহিদার কথা ভেবে ফেরুলের পরিমাণও বাড়ানো যেতে পারে বলে পুরবোর্ডে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট বাড়িটিতে আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা বেআইনি নির্মাণ কি না, সে সব খতিয়ে দেখতে চায় পুর-প্রশাসন। পুর-কমিশনারকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার বার করতে বলা হয়েছে। খুব শীঘ্রই তা চালু করতে চান মেয়র।
পাশাপাশি, এ দিনের বৈঠকে মেয়রের আর্থিক অনুমোদনের ক্ষমতা এক কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। এত দিন কোনও কাজে খরচের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুমোদন করার ক্ষমতা ছিল মেয়রের। তার বেশি খরচের জন্য মেয়র পারিষদে সিদ্ধান্ত নিতে হত।
কেন এই সিদ্ধান্ত? পুর-প্রশাসনের এক আমলা জানান, মেয়র পারিষদ ডেকে কাজের অনুমোদন করাতে অনেক সময় চলে যেত। তাই মেয়রের আর্থিক অনুমোদন ক্ষমতা বাড়ানো হল। যদিও বিরোধী কাউন্সিলরদের মতে, এ তো ক্ষমতার অপব্যবহার। মেয়র পারিষদের ক্ষমতাও খর্ব করার প্রক্রিয়া শুরু হল।