Advertisement
E-Paper

নাগেরবাজার তদন্তে সিআইডি, কিছুই সন্দেহজনক ‘দেখেননি’ অজিতের বোন

মঙ্গলবার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০১৮ ১৩:৩৬
বিস্ফোরণস্থলে বুধবার তদন্তে সিআইডি আধিকারিকরা। নিজস্ব চিত্র।

বিস্ফোরণস্থলে বুধবার তদন্তে সিআইডি আধিকারিকরা। নিজস্ব চিত্র।

নাগেরবাজার বিস্ফোরণের তদন্তভার হাতে নিল রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি)। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বেশি রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যারাকপুর পুলিশের কমিশনার রাজেশ কুমারের সঙ্গে কথা বলেন। গোটা বিষয়টি খোঁজ নেন তিনি।

মঙ্গলবার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এলাকার বিধায়ক এবং মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন সিআইডি তদন্তের। বুধবার সকালেই স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সিআইডি ডিআইজি (অপারেশনস) নিশাত পারভেজ তার পরেই আনন্দবাজারকে বলেন, “আমরা তদন্তভার নিয়েছি। আজই আমাদের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে যাবে। মঙ্গলবারও আমাদের বম্ব ডিজপোজাল স্কোয়াডের অফিসাররা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।”

সিআইডি সূত্রের খবর, একজন ডেপুটি পুলিশ সুপার (ডিএসপি) পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল গঠিত হয়েছে। তাঁরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পাশাপাশি, হাসপাতালে গিয়েও আহতদের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা ঘটনার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করবেন।

আরও পড়ুন: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আগুন, আতঙ্কে হুড়োহুড়ি, রাস্তায় নামিয়ে আনা হল রোগীদের​

অন্য দিকে মঙ্গলবার রাতেই দমদম থানার পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন), ৩০৭ (খুনের চেষ্টা), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত), ১২০ বি (ষড়যন্ত্র) এবং বিস্ফোরক আইনে অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তের বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

নাগেরবাজার বিস্ফোরণের পর বোমার খোঁজে তল্লাশি সিআইডি-র বোমা বিশেষজ্ঞদের। ছবি: পিটিআই।

এখনও আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ফল বিক্রেতা অজিত হালদার রয়েছেন। সিআইডি আধিকারিকরা মনে করছেন, এই মামলায় অজিতের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে সিআইডি আধিকারিকরা মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তাঁদের অনুমান, অজিতের ফলের ডালার কাছেই ওই সকেট বোমাটি রাখা ছিল।

নাগেরবাজার বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে সিআইডি, দেখুন ভিডিয়ো:

ব্যারাকপুর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ইতিমধ্যেই অজিতের বোন যমুনা মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলেছেন। যমুনারও ফলের দোকান রয়েছে অর্জুনপুরে। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তিনি ভাইয়ের সঙ্গে কাজিপাড়ায় গিয়েছিলেন। ভাইয়ের ফলের ডালা সাজিয়ে দিয়ে তিনি নিজের দোকান খুলতে যান। পুলিশকে দেওয়া তাঁর বয়ান অনুযায়ী, সকাল ন’টার একটু আগেই তিনি অজিতকে নিয়ে দোকান খুলতে যান। তখন ফুটপাথ ঝাঁট দেওয়ার সময় কোনও ব্যাগ বা সন্দেহজনক কিছু তাঁর নজরে পড়েনি বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন যমুনা।

আরও পড়ুন: বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হয়েছিল দু’কেজির সকেট বোমা, ধারণা সিআইডি-র

সেখান থেকেই তদন্তকারীরা মনে করছেন, অজিতের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অজিত কাউকে দেখেছেন কি না সেটা জানা দরকার। কিন্তু এখনও অজিতের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁর কোমরে এবং পেটে প্রচুর স্‌প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। বিস্ফোরণের অভিধাতে কোমর, পেটের মাংসও খুবলে গিয়েছে। প্রচুর রক্তপাত হয়েছে তাঁর।

সিআইডি সূত্রে খবর— আহতদের আঘাতের ধরন; কী ধরণের স্‌প্লিন্টার আহতদের দেহে পাওয়া গিয়েছে; পুড়ে যাওয়ার ধরনটাই বা ঠিক কী রকম— সে বিষয়ে তদন্তকারীরা তথ্য নেবেন। যদিও মঙ্গলবারই ব্যারাকপুর পুলিশ ঘটনাস্থল খুলে দিয়ে সমস্ত ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে পরিষ্কার করে দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা আসার আগেই পরিষ্কার করে দেওয়া হল ঘটনাস্থল? যদিও ব্যারাকপুর সিটি পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের দাবি, মঙ্গলবারই রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ছুটির দিন হওয়ায় কোনও বিশেষজ্ঞকে পাওয়া যায়নি। এই দফতরের শীর্ষে রয়েছেন এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিক হরমনপ্রীত সিংহ। ব্যারাকপুর পুলিশের দাবি, সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই এবং সিআইডির বম্ব ডিজপোজাল এবং ডিটেকশন স্কোয়াডের আধিকারিকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

কলকাতার ঘটনা এবং দুর্ঘটনা, কলকাতার ক্রাইম, কলকাতার প্রেম - শহরের সব ধরনের সেরা খবর পেতে চোখ রাখুন আমাদের কলকাতা বিভাগে।

Crime Explosion Nagerbazar Blast CID Dumdum Blast
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy