উত্তর দিনাজপুরের আদালত থেকে জেলে যাওয়ার পথে পুলিশকর্মীদের গুলি করে এক বিচারাধীন বন্দির পালানোর ঘটনার পরে আদালতে বন্দিদের ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে হাজির করানোর নির্দেশ জারি করেছিল ভবানী ভবন। তাই এখন রাজ্য জুড়ে সেই সংক্রান্ত কাজ চলছে। বর্তমানে ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বিচারাধীন বন্দিদের সশরীরে আদালতে না নিয়ে গিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করানো হচ্ছে। যদিও তাতে সন্তুষ্ট নন রাজ্য পুলিশের কর্তারা। সূত্রের দাবি, কিছু জেলায় এই হার ৪০-৫০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। রাজ্যের সর্বত্রই যাতে সার্বিক ভাবে নয়া ব্যবস্থা চালু হয়, তার জন্য জেলা স্তরের আদালতগুলির সঙ্গে আলোচনা করতে পুলিশ আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের এক কর্তা জানান, প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রেই যাতে বিচারাধীন বন্দিদের ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এজলাসে হাজির করানো যায়, আদালতের সঙ্গে কথা বলে সেটাই নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বন্দিদের জেল থেকে আদালতে যাতায়াতের ঝক্কি যেমন থাকবে না, তেমনই আর্থিক সাশ্রয় হবে প্রশাসনের। গত বুধবারের হিসাব অনুযায়ী, ব্যারাকপুর কমিশনারেট, বসিরহাট পুলিশ জেলা, কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুরের মতো কয়েকটি জেলায় প্রায় ৮০ শতাংশ মামলায় বিচারাধীন বন্দিদের আদালতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করানো হচ্ছে। আবার মুর্শিদাবাদের মতো কিছু জেলায় এই হার অনেকটাই কম।
রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, শুধু বিচারাধীন বন্দিরাই নন, বিভিন্ন মামলায় পুলিশকর্মীরাও যাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু তা সর্বত্র চালু হয়নি বলে অভিযোগ। জেলা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, পুলিশকর্মীদের নিজের ইউনিটে বসেই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা হয়ে ওঠেনি। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ, পরিকাঠামো তৈরি না হওয়া। বিভিন্ন থানার সঙ্গে আদালতের সংযোগ স্থাপনের কথা থাকলেও তা সর্বত্র হয়নি বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে প্রতিটি থানায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আলাদা একটি ঘর বরাদ্দ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও সব জায়গায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিকাঠামো যাতে উন্নত করা যায়, তার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কাজে বিচার বিভাগের সহায়তা যাতে পাওয়া যায়, তার জন্য আদালত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা স্তরের পুলিশকর্মীদের।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)