কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে খুব সহজেই ফোনের অন্দরে ঢুকে পড়ছে সাইবার অপরাধীরা। তার পরে হাতিয়ে নিচ্ছে জরুরি ও ব্যক্তিগত তথ্য। ডিজিটাল প্রযুক্তির যত উন্নতি হচ্ছে, ততই সাইবার প্রতারণার হার বাড়ছে। তাই ফোন সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত সেটিংসে গিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় বদল করে নিতে হবে।
কী কী বদল করবেন ফোনের সেটিংসে?
টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করুন
এটি প্রাথমিক কাজ। গুগ্ল অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপল আইডি-তে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন অন করুন। এর ফলে পাসওয়ার্ড জানলেও অন্য কেউ আপনার ফোনে লগ-ইন করতে পারবে না।
অ্যাপের নিরাপত্তা
ফোনের সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি অপশনেযান। সেখানে গিয়ে ‘পারমিশন ম্যানেজার’-এ গিয়ে দেখুন কোন কোন অ্যাপ অনুমতি ছাড়াই আপনার ফোনের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা লোকেশন ব্যবহার করছে। সন্দেহজনক অ্যাপগুলি ফোন থেকে মুছে ফেলুন।
গুগ্ল প্লে প্রোটেক্ট
গুগ্ল প্লে স্টোর বা বাইরে ইন্টারনেট থেকে যদি কোনও অ্যাপ ডাউনলোড করেন, তা হলে আগে ‘ইমপ্রুভ হার্মফুল অ্যাপ ডিটেকশন’-এ যান। সেটিংস থেকে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে গুগ্ল প্লে প্রোটেক্ট অন করে দিলেই প্লে স্টোর সেই অ্যাপটিকে স্ক্যান করা শুরু করবে। যদি ক্ষতিকর কিছু পায়, তা হলে সতর্ক করবে।
আরও পড়ুন:
লক-স্ক্রিন নোটিফিকেশন
ফোনের সেটিংস থেকে লক-স্ক্রিন নোটিফিকেশন অপশনটি চালু করে দিন। এতে ফোন লক থাকা অবস্থায় কেউ আপনার ফোনে আসা মেসেজ বা ওটিপি দেখতে পাবে না।
ভিপিএনের ব্যবহার
রেল স্টেশন, বিমানবন্দর হোক কিংবা হোটেল— সুযোগ পেলেই বিনা পয়সার ওয়াইফাই ব্যবহার করবেন না। নিখরচার ওয়াইফাই-এ সুরক্ষার ভিত কতটা মজবুত তা আপনি জানে না। এই ধরনের ওয়াইফাই-এ তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি থাকে। যদি প্রয়োজনে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হয়, তা হলে ভাল মানের ভিপিএন ব্যবহার করুন।
বায়োমেট্রিক লক
বায়োমেট্রিক লক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি) ব্যবহার করুন। পিন বা প্যাটার্নের ক্ষেত্রে জটিল কিছু বেছে নিন।
সিম কার্ডের সুরক্ষা
আপনার সিম কার্ডে একটি ‘সিম পিন’ সেট করুন। এতে ফোন চুরি হলেও কেউ আপনার সিম অন্য ফোনে লাগিয়ে আপনার ওটিপি ব্যবহার করতে পারবে না। ফোনের সেটিংয়ে গিয়ে ‘সিকিউরিটি’ বা ‘সিম কার্ড লক’ অপশনে গিয়ে এটি করতে হবে।
আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক যদি মাঝেমধ্যেই উধাও হয়ে যায় ও দীর্ঘ সময় ধরে না আসে, তা হলে দ্রুত কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন। এটি ‘সিম ক্লোনিং’-এর লক্ষণ হতে পারে।