শরীরে একাধিক আঘাত ছিল অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের। পায়ের হাড়ও ভেঙেছিল এক দুর্ঘটনায়। এর পরেও শরীরচর্চা করতেন নিয়ম মেনেই। বিবেকের মনের জোর ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেছেন তারকাদের ফিটনেস প্রশিক্ষক বিনোদ চন্না। অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, শিল্পা শেট্টি, এমনকি জন আব্রাহমের মতো বলি তারকাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বিনোদ। তবে বিবেকের মতো পরিশ্রম খুব কম জনই করেছেন বলেই মত তাঁর। সম্প্রতি এক টিভি-শোয়ে বিনোদ জানিয়েছেন, শরীরের একাধিক চোট-আঘাত নিয়েও ভোর সাড়ে ৫টায় উঠে ব্যায়াম করতেন অভিনেতা। ওজনও কমিয়েছিলেন। কী ধরনের ব্যায়াম তিনি করতেন, তার বিবরণ দিয়েছেন প্রশিক্ষক।
এক দুর্ঘটনায় পায়ের হাড় ভাঙে বিবেকের। আরও নানা আঘাতও ছিল শরীরে। অস্ত্রোপচারের পরে হরমোনের বদলের কারণে ওজন খুবই বেড়ে গিয়েছিল তাঁর। এ রকম অবস্থাতেই ব্যায়াম শুরু করেন বিবেক। সেই সময়ে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বিনোদ চন্না। ভাঙা পায়ের জন্য খুব বেশি লম্ফঝম্প বা ভারী ব্যায়াম করা যেত না। তাই শুরুটা হয়েছিল হালকা স্ট্রেচিং ও যোগাসন দিয়ে। ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ৬টা অবধি শরীরচর্চা করতেন বিবেক। এক দিনের জন্যও ফিটনেস রুটিন বাদ যেত না। সেই সঙ্গে ডায়েটও মেনে চলতেন তিনি।
কী ধরনের ব্যায়াম করতেন বিবেক?
ডায়নামিক স্ট্রেচিং: শরীরের সমস্ত পেশির ব্যায়াম হয় এতে। ধীরে ধীরে হাত, পা, শরীরের উপরের ও নীচের ভাগ নাড়াচাড়া করতে হয়। যেমন—লেগ সুইং, আর্ম সার্কল, বা ওয়াকিং লাঞ্জেস এর মধ্যে পড়ে।
আরও পড়ুন:
জয়েন্ট মোবিলিটি: ঘাড়, কাঁধ, কোমর এবং গোড়ালির ব্যায়াম করতে হয়। বিবেকের যেহেতু হাঁটু ও গোড়ালিতে আঘাত ছিল, তাই সেই অংশের অস্থিসন্থির ব্যায়াম করতেন তিনি। এই ধরনের ব্যায়ামে আঘাতের জায়গায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, পেশির জোরও বাড়ে।
সূর্য নমস্কার: ভোরে উঠে সূর্য নমস্কার দিয়ে যোগব্যায়াম শুরু করতেন। এর ১২টি আসন শরীরের জড়তা ও ওজন কমাতে সাহায্য করে।
কী কী স্ট্রেচিং করতেন?
বেসিক স্কোয়াট
বেসিক স্কোয়াটে দু’টি পা অল্প ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এ বার চেয়ারে বসার মতো ভঙ্গি করতে হবে। দু’টি জিনিস মাথায় রাখতে হবে। এক, শরীরের উপরের অংশ সামনে ঝুঁকবে না, কাঁধ সোজা থাকবে। নয়তো কোমরে চাপ পড়বে। দুই, ওঠা-বসার সময়ে গোড়ালিতে জোর দিতে হবে।
ফরোয়ার্ড ফোল্ড
সোজা হয়ে দাঁড়ান। তার পর কোমর ভেঙে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের পাতা স্পর্শ করার চেষ্টা করুন। মাথা যতটা সম্ভব নীচের দিকে ঝোঁকান। প্রথম প্রথম পায়ের পাতা স্পর্শ করতে সমস্যা হবে, ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে। সারা শরীরের স্ট্রেচিং হবে এই ব্যায়ামে।
চেস্ট ওপেনার স্ট্রেচ
চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। কাঁধ সোজা রেখে দুই হাত পিঠের দিকে নিয়ে যান। এ বার পিঠের দিকে এক হাত দিয়ে অন্য হাত ধরুন। পিঠ টানটান রেখে দুই হাত যতটা সম্ভব পিছনের দিকে টানুন। বুক প্রশস্ত হবে, ওই অবস্থানে ২০-৩০ সেকেন্ড থাকুন। গভীর ভাবে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। ৩০ সেকেন্ড পরে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
পিলাটেজ়
ওজন কমায়, শরীরের গড়ন সুন্দর করে পিলাটেজ়। পেশির জোরও বৃদ্ধি করে। স্লিপ ডিস্ক, ফ্রোজ়েন শোল্ডার, স্পন্ডিলোসিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস— এই ধরনের সমস্যা থেকে অনেকাংশেই মুক্তি দেয় পিলাটেজ়। এতে যোগব্যায়াম, ফিটনেস ট্রেনিং, ফিজ়িয়োথেরাপিও জুড়ে যায়।