Advertisement
E-Paper

মরণাপন্ন রোগীর প্রাণ বাঁচাল ‘কৃত্রিম ফুসফুস’, নতুন আবিষ্কারে অসাধ্যসাধন করলেন ভারতীয় চিকিৎসক

ফুসফুস ছাড়াই রোগী বাঁচলেন ৪৮ ঘণ্টা। অসাধ্যসাধন করল কৃত্রিম ফুসফুস। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে নজির গড়লেন ভারতীয় চিকিৎসক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫০
Indian doctor invent Artificial Lung system to keep patient alive for 48 hours

ভারতীয় চিকিৎসকের তৈরি কৃত্রিম ফুসফুস প্রাণ ফেরাল রোগীর। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শরীরে আর সাড়া জাগছিল না। পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল ফুসফুস। ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস ফুসফুসের সিংহভাগ গ্রাস করে ফেলেছিল। এই অবস্থায় ফুসফুস প্রতিস্থাপন ছাড়া গতি ছিল না। কিন্তু এমন রোগীর ক্ষেত্রে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াও হত বিপজ্জনক। তাই সংক্রমণ না কমা অবধি রোগীর শরীরে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস চালিয়ে যাওয়ার কাজটি করল ‘কৃত্রিম ফুসফুস’। যান্ত্রিক উপায়ে ফুসফুসের বিকল্প এই পদ্ধতিটি রোগীকে নতুন জীবন দান করেছে। আর এই নয়া আবিষ্কারই সাড়া ফেলে দিয়েছে গোটা বিশ্বে। এর নেপথ্যে রয়েছেন একজন ভারতীয় চিকিৎসক যাঁর নাম অঙ্কিত ভরত।

আমেরিকার শিকাগো শহরের নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের চিকিৎসকেরা কৃত্রিম ফুসফুসের সাহায্যে এক জন মুমূর্ষু রোগীকে টানা ৪৮ ঘণ্টা ফুসফুস ছাড়াই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে যা কখনও হয়নি। চিকিৎসক অঙ্কিত ভরত কোভিডের সময়েও সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন করে আলোচনায় এসেছিলেন। আরও এক নতুন আবিষ্কার নিয়ে ফের চর্চায় তিনি।

কী ভাবে কাজ করল কৃত্রিম ফুসফুস?

ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হন বছর তেত্রিশের এক যুবক। ভাইরাসের সংক্রমণ এত ভয়ানক ভাবে হয় যে, তিনি ‘অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম’-এ আক্রান্ত হয়ে পড়েন। ফুসফুসে প্রদাহ বাড়তে থাকে। শ্বাসকষ্ট মারাত্মক হয়ে দেখা দেয়। এমন অবস্থাতে ফের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার জোড়া সংক্রমণে ফুসফুস কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে ফুসফুস প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও গতি থাকে না।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখেন চিকিৎসকেরা। অঙ্কিত ভরত জানিয়েছেন, রোগীর ফুসফুস জল ও শ্লেষ্মায় ভরে উঠেছিল। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতেই পারছিলেন না তিনি। তাই তাঁকে একমো সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। একমোর দ্বারা রক্তে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাউডের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। তবে ১০০ শতাংশ অক্সিজেন সাপোর্ট সত্ত্বেও তাঁর শরীরে অক্সিজেন পৌঁছচ্ছিল না। ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছিল। কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণও দেখা দিয়েছিল। একমাত্র ফুসফুস প্রতিস্থাপনই ছিল উপায়। কিন্তু সেখানেও সমস্যা ছিল। দাতার থেকে নেওয়া ফুসফুস রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করলে সেটিও সংক্রমিত হত। তাই সংক্রমণ না কমা অবধি অপেক্ষা করতেই হত। এই সময়টাতে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস চালিয়ে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই তাঁরা তৈরি করেন ‘কৃত্রিম ফুসফুস’। এমন এক যান্ত্রিক পদ্ধতি যা হার্ট থেকে ফুসফুসে ও ফুসফুস থেকে হার্টে স্বাভাবিক ভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। শরীরে কোষে কোষে অক্সিজেনও পৌঁছে দেয়। এই কৃত্রিম ফুসফুস দিয়েই টানা দু’দিন স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নেন রোগী। তাঁর সংক্রমণও সেরে যায়।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোগীকে ভেন্টিলেশনে রেখে বা একমো সাপোর্টেও কাজ না হলে সেখানে কার্যকরী হতে পারে ‘কৃত্রিম ফুসফুস’। কোনও রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রোগীর শরীরে সেটি বসানো যাবে ও স্বাভাবিক ফুসফুসের মতোই কাজ করবে। সঙ্কটাপন্ন রোগীদের উপর সেটির পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

organ transplant Lung Diseases
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy