Advertisement
E-Paper

পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ৪ গুণ বেশি, কোন বয়স থেকে বিপদ বাড়তে পারে?

এখনকার সময়ে কমবেশি অনেক মহিলাই থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগেন। সে জন্য নিয়মিত ওষুধও খেতে হয়। থাইরয়েড ভয়ের নয়, তবে থাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলির অনিয়মিত বিভাজন যদি শুরু হয়ে যায়, তখন তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কেন মহিলাদের থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২১
New study says, Women are four times more likely than men to be diagnosed with thyroid cancer

মহিলাদের থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কোন বয়সে বেশি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গলা ব্যথা মাঝেমধ্যেই ভোগায়। ওজনও বাড়ছে। রাতে ঘুম কম হয়, গলার কাছে ফোলা ভাব। কখনও বা হালকা ব্যথা, কখনও বা জ্বালা-জ্বালা অনুভূতি। থাইরয়েডের সমস্যা নয় তো? হতেই পারে। গলার নীচে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড থেকে এটা হয়। কমবেশি অনেক মহিলাই থাইরয়েডের সমস্যায় ভোগেন। নিয়মিত ওষুধও খেতে হয় সে জন্য। থাইরয়েড শুধু মহিলাদের নয়, পুরুষদেরও হয়। তা তেমন ভয়ের নয়। তবে যদি থাইরয়েড গ্রন্থির কোষগুলির অস্বাভাবিক ও অনিয়মিত বিভাজন শুরু হয়, তখনই তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

থাইরয়েড ক্যানসার নিয়ে বিশ্ব জুড়েই গবেষণা চলছে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণা বলছে, পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি। এর নেপথ্যে রয়েছে হরমোন জনিত নানা কারণ।

কেন মহিলাদের থাইরয়েড ক্যানসার বেশি হয়?

ক্যানসার মূলত শুরু হয় যখন থাইরয়েড কোষের ডিএনএ-তে বদল ঘটে। অর্থাৎ, কোষের ভিতরে রাসায়নিক বদল শুরু হয়। এর জন্য অনেকটাই দায়ী মহিলাদের ইস্ট্রোজেন হরমোন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই হরমোন থাইরয়েড কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। বয়ঃসন্ধি কালে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অথবা রজোনিবৃত্তির সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ওঠানামা হয়। ওই সময়েই হরমোনের গোলমালের কারণে থাইরয়েড কোষের বিভাজন শুরু হতে পারে, যা পরবর্তীতে গিয়ে ক্যানসারের রূপ নিতে পারে।

পরিবারে কারও ক্যানসার থাকলে তার থেকেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন না থাকলে, তার থেকেও থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

কোন বয়সে ঝুঁকি বেশি?

ভারতীয় মহিলাদের ৪০ বা ৪৫ বছরের পর থেকে থাইরয়েড ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে ইদানীং কালে বয়স ত্রিশ পার হওয়ার পরেও ক্যানসারে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণই হল হরমোনের গোলমাল যা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের অসংযমের কারণে দেখা দিচ্ছে। থাইরয়েড গ্রন্থিতে মাংসল পিণ্ড বা টিউমার হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। টিউমারের আকার খুব ছোট হলে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, কিন্তু একটু বড় হলে তার উপস্থিতি বাইরে থেকে বোঝা যায়। এ ছাড়া গলার স্বরে বদল আসে, কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যেতে বা অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে, কিছু গিলতে গেলে কষ্ট হয়, সংক্রমণ ছাড়াই একটানা কাশি ভোগায়।

থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়যোগ্য, এমনটাই বলছেন চিকিৎসকেরা। ক্যানসার চিকিৎসক শুভদীপ চক্রবর্তীর মতে, এই রোগ সাধারণত দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্যায়ে ধরা পড়ে। রোগ যে পর্যায়েই ধরা পড়ুক না কেন, অস্ত্রোপচারে সেরে যায় অনেক ক্ষেত্রেই। স্ক্যান করে যদি দেখা যায়, শরীরের অন্যত্র রোগ ছড়িয়েছে, রেডিয়ো আয়োডিন থেরাপি করে চিকিৎসা করা হয়। পুরো চিকিৎসার পর রোগ ফিরে আসার সম্ভাবনা একেবারেই কম৷ তবে যদি অনেক বেশি বয়সে গিয়ে ধরা পড়ে, তা হলে ভয়ের কারণ থেকেই যায়। সে কারণে থাইরয়েড থাকলে তার নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

Thyroid Cancer Risk cancer awareness
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy