ভাঁড় ভর্তি চায়ে চুমুক দিতেই বিপত্তি। জিভ পুড়ে মারাত্মক জ্বলুনি শুরু। আর সেই যন্ত্রণায় কটকটিয়ে ব্যথা কান এবং মাথাতেও।
স্বাভাবিক। কারণ, মুখের ভিতরে থাকা অজস্র স্নায়ু কান ও মাথার স্নায়ুর সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় পরষ্পরের সঙ্গে জুড়ে থাকে। তা ছাড়া যন্ত্রণার শেষ সেখানেও নয়। জিভ পুড়ে মুখের ভিতর ফোস্কা পড়লে তার পরে অন্তত দিন কয়েক খাওয়াদাওয়ারও বারোটা পাঁচ। যা-ই খাবেন জ্বালা করবে জিভ। খাবারের স্বাদ তো পাবেনই না তেমন। উল্টে খাবার থেকে পুড়ে যাওয়া জিভে ক্ষত বাড়তে পারে। ছড়াতে পারে সংক্রমণ। তবে গরম পানীয়ে জিভ পুড়ে যাওয়ার পরে কয়েকটি পদক্ষেপ করতে পারলে সেই সমস্যা কিঞ্চিত কমতে পারে।
কী করবেন?
১. দ্রুত ঠান্ডা করুন : জিভ পোড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুড়ে যাওয়া জায়গায় ঠান্ডা জল দিন। কুলকুচি না করলেও চলবে। বদলে মুখের মধ্যে ঠান্ডা জল নিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এতে জিভের তন্তুতে থাকা তাপ কমে যাবে। ফলে ক্ষত গভীর হবে না। তবে ঠান্ডা জলের বদলে বরফ দেওয়ার দরকার নেই। ফ্রিজের ঠান্ডা জল বা হাতের কাছে তা না থাকলে যেকোনও সাধারণ তাপমাত্রার থেকে ঠান্ডা জল দিলেও হবে। সরাসরি বরফ জিভে চেপে ধরলে ‘আইস বার্ন’ হয়ে উল্টো ক্ষতি হতে পারে।
২. মধু ব্যবহার করুন : মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল ক্ষমতা রয়েছে। তা ছাড়া তা আরামদায়কও। ঠান্ডা জল দিয়ে জ্বালা কমলে এক চামচ মধু জিভের পোড়া জায়গায় লাগিয়ে রাখুন। এটি জিভকে আর্দ্র রাখবে এবং ফোসকা পড়ার ঝুঁকি কমাবে।
৩. চিনি বা মিছরি : পোড়া জায়গায় সামান্য চিনি ছিটিয়ে দিতে পারেন। চিনি গলে যাওয়ার সময় জ্বালা ভাব অনেকটাই কমিয়ে দেয়। স্বাদকোরকের অস্বস্তিও কমায়।
৪. দই বা ঠান্ডা দুধ : এক চামচ ঠান্ডা টক দই বা ঠান্ডা দুধ মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন। এটি জিভের ওপর একটি প্রলেপ তৈরি করে, যা জ্বালা কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
৫. অ্যালোভেরা জেল : যদি বাড়িতে ‘এডিবল’ বা খাওয়ার জন্য নিরাপদ অ্যালোভেরা জেল থাকে, তবে তা সামান্য লাগাতে পারেন। এটি দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে।
কী করবেন না?
এড়িয়ে চলুন: জিভ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লঙ্কা, গোলমরিচ বা লেবুর রসজাতীয় খাবার খাবেন না। এতে জ্বালা বাড়বে।
গরম খাবার নয়: অন্তত আগামী ২৪ ঘণ্টা খুব গরম কিছু খাবেন না।
নুন জল: নুন জল দিয়ে কুলকুচি করবেন না, এতে জ্বালা বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ : যদি দেখেন জিভ অতিরিক্ত ফুলে গেছে, ব্যথা হচ্ছে এবং তা কমছেই না বা ফোসকা বড় হয়ে গেছে, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।