×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

বইমেলা সরলে পুণ্যার্থী শিবির নয় কেন, প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে

নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ জানুয়ারি ২০২০ ০৩:১১
অপরিষ্কার: গঙ্গাসাগর যাত্রীদের শিবির সংলগ্ন এলাকায় ইতিউতি ছড়িয়ে আবর্জনা। মঙ্গলবার, ময়দানে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক

অপরিষ্কার: গঙ্গাসাগর যাত্রীদের শিবির সংলগ্ন এলাকায় ইতিউতি ছড়িয়ে আবর্জনা। মঙ্গলবার, ময়দানে। ছবি: বিশ্বনাথ বণিক

দূষণের কারণে এক সময়ে ঢাকুরিয়ায় গোবিন্দপুর রেল কলোনি উচ্ছেদ হয়েছিল। ময়দান থেকে সরে গিয়েছিল বাঙালির ঐতিহ্যের বইমেলাও। তা হলে দূষণের কারণে কেন বাবুঘাটে ময়দান থেকে সরবে না গঙ্গাসাগরের পুণ্যার্থীদের শিবির। এমনই প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশকর্মীরা।

শহরের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর পুণ্যার্থীদের শিবির অন্যত্র সরানো উচিত বলেই মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা। এমনকি আদালতে মামলাও হয়েছে। বারবারই প্রশ্ন উঠেছে, সব কিছু জেনেও শহরের প্রাণকেন্দ্রকে এ ভাবে কেন দিনের পর দিন দূষিত হতে দিচ্ছে প্রশাসন। তাঁদের দাবি, শহরের বাইরে জেলার দিকে কোনও ফাঁকা জায়গায় শিবির হতে পারে। এমনকি হাওড়া, শিয়ালদহের মতো স্টেশনগুলি থেকেই পুণ্যার্থীদের গঙ্গাসাগরের রওনা করিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁরা মনে করেন, এই ব্যবস্থা করলে অন্তত বাবুঘাট কিংবা ময়দানের ওই সব এলাকা দূষণের হাত থেকে বাঁচবে।

কলকাতা পুরসভা সূত্রেই খবর, অনেক দিন আগে গঙ্গাসাগরের পুণ্যার্থীদের জন্য ময়দান এলাকার বদলে শিবির করার জন্য ডায়মন্ড হারবার রোডে একটি ফাঁকা জমির কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন: ধূমপান-বিরোধী সভায় অনুপস্থিত পুরসভা ও পুলিশ

মেয়র ফিরহাদ হাকিম আগেই জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে বাবুঘাটেই পুণ্যার্থীদের ওই শিবির হয়। গঙ্গা সামনে থাকায় বহু পুণ্যার্থী স্নান সেরে গঙ্গাসাগরে যাত্রা করেন। তা ছাড়া, শহরের মধ্যে এমন কোনও জায়গা নেই, যেখানে এত সংখ্যক পুণ্যার্থীকে রাখা যেতে পারে।

পাল্টা বক্তব্যে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন নগর পরিকল্পনাবিদ দীপঙ্কর সিংহের কথায়, ‘‘শহরের মূল কেন্দ্রকে ঠিক রেখে আশপাশে গঙ্গার তীরবর্তী কোনও ফাঁকা জায়গায় এই শিবির করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ময়দানের দূষণ তো কমবেই, এমনকি শহরের ভারসাম্য সঠিক ভাবে বজায় থাকবে।’’

আরও পড়ুন: মেট্রোর কাজে বন্ধ হবে রাস্তা, খোঁজ বিকল্পের

দীপঙ্করবাবু জানান, এমনিতেই শহরের লোকসংখ্যা বিভিন্ন কারণে প্রতিদিন বাড়ছে। তার উপরে বছরের এই সময়ে বাড়তি কয়েক লক্ষ মানুষের ভিড়, নগর সভ্যতার পরিকাঠামোর উপরে অনেকটাই চাপ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত চাপ বাড়ে পয়ঃপ্রণালীর উপরে। এর সঙ্গে মাঠে কাঠ জ্বালিয়ে রান্নাবান্না কিংবা আগুন পোহানোর মতো বিষয়গুলি বায়ুদূষণ বহু অংশে বাড়িয়ে তোলে।

পুরসভারই আর এক আধিকারিকের মতে, ওই পুণ্যার্থীদের আদতে শহরের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। তবে বাবুঘাটের উল্টো দিকে ময়দানের ওই জায়গাটিকেই তাঁরা শিবিরের ঠিকানা বলে এত দিন ধরে জেনে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসন চাইলেই পুণ্যার্থীদের সেই অভ্যাসের বদল ঘটাতে পারে। শহরের ভিতরে তাঁদের না ঢুকিয়ে শহরের বাইরে থেকেই গঙ্গাসাগরের উদ্দেশে রওনা করিয়ে দেওয়া উচিত প্রশাসনের।’’

পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের কথায়, ‘‘ওই ধরনের কাজকর্ম শহরের ফুসফুস নষ্ট করছে। বহু দিন ধরে হয়ে আসছে বলেই যে ওই শিবির ওখানেই করতে হবে তার কোনও অর্থ নেই। বহু দিনের বইমেলাও ময়দান থেকেই সরানো হয়েছিল।’’ তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের মেলায় বায়ু ছাড়াও শব্দদূষণ হয়। সর্বোপরি যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করার ফলে ভূগর্ভস্থ জলও দূষিত হচ্ছে। পয়ঃপ্রণালীর উপরে চাপ বাড়ায় তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আদালতকে বিষয়টি জানানো হলেও তা নিয়ে কোনও শুনানি হয়নি।

Advertisement