কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, ১৫ বছরের পুরনো বাণিজ্যিক গাড়ি বাতিল করতে হবে। কিন্তু নির্দেশ মেনে সেই গাড়ি বাতিল করা হয় না বলেই অভিযোগ পরিবেশকর্মীদের। এ বার বাতিল করা গা়ড়ির নির্দিষ্ট তথ্য না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল জাতীয় পরিবেশ আদালতও। শুধু তাই নয়, যে ভাবে রাজ্য সরকার পুরনো প্রযুক্তির ‘ভারত স্টেজ (বিএস)-৩’ গাড়িকেও ঘুরপথে অনুমোদন দিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি এস পি ওয়াংদি। পরিবহণ প্রযুক্তিতে রাজ্যের পিছিয়ে থাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার তাঁর মন্তব্য, ‘‘সরকার কি গরুর গা়ড়ির যুগে ফিরতে চাইছে? তা হলে তো চিড়িয়াখানা থেকে জেব্রা ভাড়া করে গাড়ি চালাতে পারে!’’
কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ে মামলা করেছিলেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। তিনি জানান, জাতীয় পরিবেশ আদালত বলেছিল, শহরে বিএস-৩ গাড়ির উপরে রাশ টানতে হবে। সাত দিনের বেশি সেই গাড়ি শহরে থাকতে পারবে না। পণ্যবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে সেই নিয়ম প্রযোজ্য করা হলেও জেলা থেকে আসা যাত্রিবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে তেমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। এ তথ্য জানার পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। শুধু তাই নয়, দূষণ রোধে রাজ্য সরকারের কাজকর্মের প্রকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিচারপতির মন্তব্য, নির্দেশ নির্দিষ্ট ভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, তা জানাতে হবে। শুধু নির্দেশ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানালে হবে না।
সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে ‘ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরাম’ চলাকালীন সম্প্রতি ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় একটি দ্বিবার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে পরিবেশ দূষণের নিরিখে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৭৭। বায়ুদূষণের নিরিখে এই দেশ ১৭৮তম স্থানে। বাংলাদেশ, নেপাল, কঙ্গোর মতো দেশগুলির সঙ্গেই ভারত শেষ পাঁচে। পরিবেশবিদেরা বলছেন, ভারতের বায়ুদূষণের কী হাল, তা দিল্লি ও কলকাতার দিকে তাকালেই দেখা যায়। ওই রিপোর্টে এ-ও বলা হয়েছে, গাড়ির ধোঁয়া ও কঠিন জ্বালানি পোড়ানোর ফলে দূষণ বা়ড়ছে এবং শরীরে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ঢোকার (পিএম ২.৫ বা আড়াই মাইক্রন ব্যাসবিশিষ্ট ধূলিকণা) কারণে প্রতি বছর ভারতে মারা যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে ১৬ লক্ষ মানুষ। পরিবেশবিদদের বক্তব্য, এই বিপদ কলকাতার ক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ্য। যদিও পরিবেশমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি, কলকাতায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় না।’’
রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ আদালতে যে তথ্য জমা দিয়েছে, তা দেখে এ দিন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে তারা। মহানগরীর বায়ুদূষণ রোধে কী কাজ হচ্ছে, তা দেখভালের জন্য এ দিন একটি কমিটি তৈরি করেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। কমিটির মাথায় থাকছেন কেন্দ্রীয়
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আঞ্চলিক অধিকর্তা। থাকবেন রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং জাতীয় পরিবেশ প্রযুক্তি গবেষণা সংস্থা (নিরি)-র প্রতিনিধিরাও। দশ দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে কাজ শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ওয়াংদি। একই সঙ্গে রাজ্যে
ধোঁয়া পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণ ও তাদের নিয়মের আওতায় আনার প্রকল্প যে কার্যকর হয়নি, সে কথাও জানিয়েছে আদালত। ধোঁয়া মাপার জন্য খড়্গপুর আইআইটিকে দিয়ে যন্ত্র তৈরি করানোর কথা বলা হয়েছিল। এ দিন বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘তিন বছর ধরে এ সব কথা বলা হচ্ছে। অথচ কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’’