অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক গৃহবধূর। মৃতার নাম খুরশিদা বিবি (২১)। তাঁর বাড়ি বন্দর এলাকার সাতঘরা বাই লেনে। এই ঘটনায় মৃতার বাবা তাঁর জামাই-সহ খুরশিদার তিন ননদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার ভিত্তিতে খুরশিদার এক ননদ মাসকুরা বিবিকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে নাদিয়াল থানার পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চার বছর আগে খুরশিদার সঙ্গে বিয়ে হয় সাতঘরা বাই লেনেরই বাসিন্দা এক যুবকের। ওই দম্পতির দুই সন্তান। একটির বয়স সাত মাস, অন্যটি বছর দেড়েকের। খুরশিদার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন স্বামী।
খুরশিদার মা-বাবার বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি কাছাকাছি। মা ইয়াসমিনা বিবির অভিযোগ, ‘‘জামাইয়ের অত্যাচারে থাকতে না-পেরে মেয়ে দিন সাতেক আগে আমার কাছে চলে এসেছিল। এর আগেও জামাই ওর উপরে অত্যাচার করত। গত ২৪ অগস্ট সন্ধ্যায় এক আত্মীয় আমাকে ফোন করে জানান, মেয়ে পুড়ে গিয়েছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখি, মেয়ের সারা শরীর জ্বলছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার মেয়েকে যারা মেরে ফেলল, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিক।’’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই রাতেই ৮০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় খুরশিদাকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি মারা যান। তার পরেই মৃতার বাবা আসগর আলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পেশায় দর্জি আসগরের চার ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে খুরশিদা ছিলেন মেজো। এ দিন ফোনে আসগর বলেন, ‘‘জুয়া, মদের ঠেকে আড্ডা ছিল জামাইয়ের। ওর কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’’ ঘটনা প্রসঙ্গে লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘‘বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’’