Advertisement
E-Paper

Accident: বিনা হেলমেটে বাইকে, রাতে গাড়ির ধাক্কায় মৃত কিশোর

ধর্মতলা থেকে ডাফরিন রোড ধরে খিদিরপুর রোডের দিকে যাচ্ছিল বাইক দু’টি। উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি ধাক্কা মারে বাইকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৬:৪৭
বাইক দুর্ঘটনায় মৃত।

বাইক দুর্ঘটনায় মৃত। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য

হেলমেট পরে মোটরবাইক চালাতে একাধিক বার প্রশাসনের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু তার পরেও নাগরিকদের একাংশ যে সেই কথা কানে তুলছেন না, বুধবার রাতে ফের তার প্রমাণ মিলল। বেপরোয়া গতিতে হেলমেট ছাড়াই মোটরবাইক চালাতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হল বাইক-আরোহী এক কিশোরের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম মনু দাস (১৬)। বাইকের চালক, বছর ষোলোর ইমরাজ খান সঙ্কটজনক অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাতে ১২টা নাগাদ রবীন্দ্রনগর থানা এলাকার আক্রা ফটকের বাড়ি থেকে দু’টি মোটরবাইকে পাঁচ বন্ধু শহর ঘুরতে বেরিয়েছিল। একটি বাইকে ছিল ইমরাজ এবং মনু, অন্য বাইকে তাদের তিন বন্ধু। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে শেষে আহিরীটোলার ভূতনাথ মন্দির থেকে বাড়ি ফিরছিল পাঁচ জন। ধর্মতলা থেকে ডাফরিন রোড ধরে খিদিরপুর রোডের দিকে যাচ্ছিল বাইক দু’টি। রাত দেড়টা নাগাদ ডাফরিন রোড, উট্রাম রোড ও খিদিরপুর রোডের মোড়ে ইমরাজ বাইক নিয়ে সিগন্যাল না মেনে এগোতে যায়। সেই সময়েই উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি ধাক্কা মারে বাইকে। রাস্তায় ছিটকে পড়ে ইমরাজ ও মনু। তদন্তকারীরা জানান, পিছনেই আসা ইমরাজদের তিন বন্ধু ওই দু’জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দু’জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে মনুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

আক্রা ফটক এলাকায় পাশাপাশি বাড়ি মনু ও ইমরাজদের। দু’জনেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। মনুর বাবা বিশ্বনাথ দাস দিনমজুর। চার ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে মনু ছিল সেজো ছেলে। তার জামাইবাবু রাজু লাল এ দিন বলেন, ‘‘ওই রাতে মনু বলল, ইমরাজের সঙ্গে ঘুরতে যাচ্ছি। ভেবেছিলাম তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে। কিন্তু রাতে ওর বন্ধুদের থেকে এই খবর পাই। হেলমেট পরা থাকলে হয়তো মনু বেঁচে যেত।’’ ইমরাজের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে ঠায় বসে ছিলেন মা আর্জিনা বিবি। তিনি বলেন, ‘‘বাড়িতে রাতে একটা অনুষ্ঠান ছিল। রাত ১২টা নাগাদ ছেলে বলল, বন্ধুর সঙ্গে খিদিরপুরে মাসির বাড়িতে যাচ্ছে। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও বুঝিনি, বাইক নিয়ে যাচ্ছে। বাইকটা ছিল ওর কাকার। জানলে কিছুতেই বাইক নিয়ে যেতে দিতাম না।’’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, ইমরাজের বাবা মারা গিয়েছেন। মা আর্জিনা পরিচারিকার কাজ করেন। ইমরাজ ছাড়াও তাঁর দুই মেয়ে রয়েছে। আর্জিনা জানান, মাস চারেক আগে মোটরবাইক চালানো শিখেছিল ইমরাজ। পাড়াতেই চালাত। কিন্তু বুধবার রাতে যে এত দূর চলে যাবে, তা বুঝতে পারেননি তিনি।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আহিরীটোলা থেকে দুই কিশোর হেলমেট ছাড়া বাইক চালিয়ে এত দূর চলে এল, সেটা পুলিশের নজরে পড়ল না? এই প্রসঙ্গে লালবাজারের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন মোড়ে টহলরত পুলিশকর্মীর সংখ্যা কম থাকে। মূলত কাজ করে সিসি ক্যামেরাগুলি। আমরা তার ফুটেজ খতিয়ে দেখছি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy