Advertisement
E-Paper

কলেজের রাশ নিয়ে কর্তৃপক্ষ-রাজ্য সংঘাত

কলেজ চায় এক শিক্ষিকাকে। অন্য এক শিক্ষককে পছন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের। আর জোর সংঘাত বেধেছে তা নিয়েই।রামমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মাস দেড়েক আগে অবসর নিয়েছেন। এ বার কলেজের টিচার ইনচার্জ (টিআইসি) বা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কে হবেন, তা নিয়ে কলেজ-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এই নিয়ে চাপান-উতোর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফয়সালা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কলেজ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৫ ০২:৪৮

কলেজ চায় এক শিক্ষিকাকে। অন্য এক শিক্ষককে পছন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের। আর জোর সংঘাত বেধেছে তা নিয়েই।

রামমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মাস দেড়েক আগে অবসর নিয়েছেন। এ বার কলেজের টিচার ইনচার্জ (টিআইসি) বা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কে হবেন, তা নিয়ে কলেজ-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। এই নিয়ে চাপান-উতোর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফয়সালা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কলেজ।

বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য কলেজে যায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের পরিদর্শকদল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে। কলেজ পরিচালন সমিতির সভানেত্রী বা অন্য কোনও সদস্য তাদের সঙ্গে দেখা করেননি বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর। এতে উষ্মা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়-কর্তৃপক্ষ। ওই কলেজের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছেন তাঁরা। তবে পরিচালন সমিতির সভানেত্রী শমিতা দাস জানান, আগে থেকে কোনও রকম পরিদর্শনের কথা জানানো হয়নি। এ দিন দুপুরে হঠাৎই তাঁদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে পরিদর্শনের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়। তাই তাঁদের পক্ষে ওই পরিদর্শকদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। কলেজ সমিতির এই যুক্তি উড়িয়ে দিয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস।

রামমোহন কলেজের আগেকার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শাশ্বতী দাশগুপ্ত অবসর নিয়েছেন গত ৩০ নভেম্বর। তাঁর জায়গায় কে আসবেন, তা নিয়েই টানাপড়েন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, কলেজের এক শিক্ষিকাকে টিআইসি হিসেবে বেছে নেয় পরিচালন সমিতি। কিন্তু উচ্চশিক্ষা দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় তাতে আপত্তি জানায়। তারা অন্য এক শিক্ষককে টিআইসি-পদে মনোনীত করে। টিআইসি হিসেবে মনোনীত দু’জনেরই চাকরিতে যোগদানের তারিখ এক। কিন্তু যিনি আগে অবসর নেবেন, আদালতের রায় মেনে তাঁকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা দফতর সেই যুক্তিতেই কলেজ পরিচালন সমিতির নির্বাচিত শিক্ষিকাকে বাদ দিয়ে অন্য এক শিক্ষককে টিআইসি হিসেবে বেছে নেয়। তার পরেই মামলা ঠুকে দেন রামমোহন কলেজের কর্তৃপক্ষ।

কলেজের পরিচালন সমিতির এক সদস্যের কথায়, “এটি ব্রাহ্মসমাজ এডুকেশন সোসাইটির অধীন কলেজ। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের সব নিয়মবিধি আমাদের ক্ষেত্রে খাটে না। তাই অবসরের তারিখ অনুযায়ী বিচার না-করে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বেতনক্রম ইত্যাদির নিরিখে ওই শিক্ষিকা এগিয়ে থাকায় তাঁকেই আমরা টিআইসি হিসেবে বেছে নিই।” কলেজের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সেখানকার এক দল শিক্ষক চিঠি দিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর। বিষয়টি বিচারাধীন বলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি কলেজের সমিতির সভানেত্রী।

উপাচার্য সুরঞ্জনবাবু জানান, টানাপড়েন কাটিয়ে যাতে সুষ্ঠু ভাবে মিটমাট করে নেওয়া যায়, সেই জন্য বুধবার তিনি নিজে টেলিফোন করে কলেজ পরিচালন সমিতির এক কর্তার সঙ্গে কথা বলেন। উপাচার্য তাঁকে অনুরোধ জানান, বৃহস্পতিবার তাঁরা যেন পরিদর্শকদের সঙ্গে দেখা করেন। “কিন্তু তার পরেও তাঁদের কেউ পরিদর্শকদলের সঙ্গে দেখা করলেন না। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক,” ক্ষোভের সঙ্গে বলেন উপাচার্য।

কলেজ পরিচালন সমিতির সভানেত্রী শমিতাদেবীর. বক্তব্য, তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তড়িঘড়ি চিঠি পাঠিয়ে পরিদর্শকদল কলেজে পৌঁছে যায়। তাই পরিচালন সমিতির কারও পক্ষে পরিদর্শকদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি।

আজ, শুক্রবার কলেজের দায়ের করা মামলাটি আদালতে ওঠার কথা।

rammohan college
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy