Advertisement
E-Paper

কলকাতা থেকে সরছে এটিআর বিমানের ঘাঁটি

কলকাতা থেকে সরে যাচ্ছে এটিআর বিমানের ঘাঁটি। ২০০২ সালে কলকাতা থেকে এটিআর-৪২ নামে ৪৮ আসনের ছোট বিমান চালানো শুরু করেছিল অ্যালায়েন্স এয়ার।

সুনন্দ ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ২১:৫২

কলকাতা থেকে সরে যাচ্ছে এটিআর বিমানের ঘাঁটি।

২০০২ সালে কলকাতা থেকে এটিআর-৪২ নামে ৪৮ আসনের ছোট বিমান চালানো শুরু করেছিল অ্যালায়েন্স এয়ার। সাতটি বিমান নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সংখ্যাটি এখন একটিতে এসে ঠেকেছে। এই বিমানটিও আর কতদিন থাকবে, তা নিয়ে সংস্থার কর্তারা সন্দিহান। এই অবস্থায় ৭০ আসনের পাঁচটি এটিআর-৭২ বিমান ভারতে নিয়ে এসেছে এয়ার ইন্ডিয়ার সহযোগী সংস্থা অ্যালায়েন্স। তার একটিরও অবশ্য কলকাতায় ঠাই হয়নি। তিনটি রাখা হয়েছে দিল্লিতে। বাকি দু’টি যথাক্রমে হায়দরাবাদ ও মুম্বইয়ে।

এক সময় শুধু উত্তর-পূর্বের ছোট শহরই নয়, এটিআর চলত কলকাতা থেকে রাঁচি-পটনা-ভূবনেশ্বরের পর্যন্ত। এখন সবেধন নীলমণি বিমানটি কলকাতা থেকে শুধু শিলচর, শিলং, গুয়াহাটি এবং লীলাবাড়ি যাচ্ছে। কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্বের অন্য শহরগুলিতে এয়ার ইন্ডিয়া বড় বিমান চালাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটিআর-এর অভাবে সেখানকার সাতটি শহরের নিজেদের মধ্যে উড়ান পরিষেবা মার খাচ্ছে।

কলকাতা থেকে ঘাঁটি সরানো হচ্ছে কেন?

বিমানবন্দরের কর্তারা জানান, ঘাঁটি মানে এক ছাতার নীচে সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, বিমানকর্মী, বিমানসেবিকা, বিমানের যন্ত্রাংশ— সবই মজুত থাকবে। নিয়মিত এখানে বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও ছোটখাটো সারাইয়ের কাজ হবে। ২০০২ সাল থেকে কলকাতায় এই পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু, এখন কর্তাদের ইচ্ছায় দিল্লি-মুম্বই-হায়দরাবাদ থেকে এটিআর বিমান পরিষেবা শুরু হলেও ওই তিন শহরে তার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাই কলকাতা থেকে ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, বিমানসেবিকাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অথচ, কলকাতায় এটিআর-৪২ বিমানের অভাবে মার খাচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতে উড়ান পরিষেবা। ছোট এই এটিআর বিমান আনার পিছনে বাজপেয়ী সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, দুর্গম উত্তর-পূর্ব ভারতের এক শহরের সঙ্গে অন্য শহর এবং তাদের সঙ্গে কলকাতাকে যোগ করা। এখন একটি বিমান দিয়ে সেই উদ্দেশ্য আর সফল হচ্ছে না। অভিযোগ, নতুন এটিআর-৭২ বিমান কলকাতার বদলে অন্য শহরে চালানোর ফলে পূর্বের প্রতি সেই বঞ্চনার ছবিটিই ফুটে উঠেছে। মার খাচ্ছে কলকাতা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। অদূর ভবিষ্যতেও উত্তর-পূর্বে ছোট বিমান চালানোর ক্ষেত্রে অ্যালায়েন্স কতটা উদ্যোগী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অ্যালায়েন্সের কর্মীদের অভিযোগ, ‘‘সে ক্ষেত্রে কলকাতা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ঘাঁটি সরিয়ে ফেলার তৎপরতা দেখা যেত না।’’

কলকাতা থেকে ঘাঁটি সরাতে যে ভাবে বদলি করা হচ্ছে, তা নিয়েও অ্যালায়েন্সের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, বিমানসেবিকাদের দিল্লিতে বদলি করা হয়েছে পাকাপাকি ভাবে। হায়দরাবাদে বদলি করা হয়েছে এক বছরের জন্য। আর মুম্বইয়ের ক্ষেত্রে অভিনব পন্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতা থেকে চার জন ইঞ্জিনিয়ার এবং চার জন প্রযুক্তিবিদকে পনেরো দিনের জন্য মুম্বইয়ে কাজ করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। আবার, মাসের বাকি পনেরো দিনের জন্য যাচ্ছেন অন্য আট জন। এর প্রতিবাদে কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এ ভাবে মুম্বই যাতায়াতের ফলে সংস্থার প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছে। সংস্থার যুক্তি, মুম্বইয়ের উড়ানে আসন খালি যায়। ফলে বিমানে যাতায়াত করলে আখেরে তাতে সংস্থারই লাভ হচ্ছে।

কিন্তু, কলকাতা থেকে কি বন্ধ হয়ে যাবে এটিআর পরিষেবা?

এয়ার ইন্ডিয়ার এক কর্তা জানান, নর্থ-ইস্ট কাউন্সিলের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৪২ আসনের এটিআর বিমানটি চলবে। তার পরে এটিআর-৭২ চালু হবে। তখন কলকাতায় নতুন বিমান আসবে বলে আশা করা যায়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy