মধ্য-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে আল কায়দা ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএনআইএম (জামাত-অট নুসরত আল-ইসলাম অল-মুসলিমিন)-এর এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী বাহিনীর যৌথ হামলায় পতন হল কাতি শহরের একাংশের। শনিবার রাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সেনাঘাঁটির কিছু অংশ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক এবং সেনাকর্তাদের খুন করেছে বিদ্রোহীরা।
রাজধানী বামাকোর প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে কঠোর সুরক্ষাবলয়ে ঘেরা সামরিক শহর কাতিতে সরকারি বাহিনী কোণঠাস হয়ে পড়ার ফলে মালিতে ক্ষমতার পালাবদল অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করছেন অনেকেই। মালির সেনা জুন্টা সমর্থিত সরকারের মুখপাত্র ইসা উসমান কুলিবালি বলেন, হামলাকারীরা রবিবার কামারার বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ওই ঘটনার তিনি নিহত হন। ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সামরিক সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন প্রাক্তন সেনাকর্তা কামারা। মালির বিভিন্ন এলাকায় জেএনআইএম-এর ধারাবাহিক হামলায় ক্রমশ পিছু হটছে সরকারি সেনা। তাদের অগ্রগতি দেখে সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, রাজধানী বামাকোর পতন এখন সময়ের অপেক্ষা।
প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধে চমকপ্রদ দক্ষতা দেখালেও রাশিয়ার মিত্র মালি সরকারের ভাড়া করা রুশ বাহিনী ‘ওয়াগনার গ্রুপ’ সেখানে জেএনআইএম-এর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে নাস্তানাবুদ হচ্ছে। বস্তুত, শুধু মালি নয় বুরকিনা ফাসো, নাইজার, বেনিন, টোগোর সীমান্ত পর্যন্ত গোটা ‘সাহেল অঞ্চল’ জুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছে আল কায়দার ‘অনুমোদিত’ এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। শুধু মালির সরকারি সেনা আর ওয়াগনার বাহিনী নয়, মালির একাংশে সক্রিয় আইএস (ইসলামিক স্টেট) সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধেও লড়ছে জেএনআইএম। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এই লড়াইয়ে তাদের সহযোগী ঘোষিত ভাবে ‘গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী’ তুয়ারেগ বিদ্রোহী বাহিনী (সিএসপি-ডিপিএ)! মালির উত্তরাঞ্চলে আজ়ওয়াদ নতুন স্বশাসিত অঞ্চলের দাবিতে লড়াই চালাচ্ছে স্থানীয় জনজাতিদের এই ‘গণতন্ত্রপন্থী’ সংগঠন।
আরও পড়ুন:
সাঁড়াশি আক্রমণ চালিয়ে জেনএনআইএম-তুয়ারেগ যৌথবাহিনী এই মুহূর্তে রাজধানী বামাকোকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। রাজধানীর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে তারা খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন করেছে। তবে অফগানিস্তানের তালিবান বা গত বছর সিরিয়ার হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর মতো ‘মসৃণ ভাবে জেএনআইএম-এর পক্ষে মালির ক্ষমতা দখল সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষত সম্প্রতি প্রতিবেশী শক্তিশালী দেশ আলজেরিয়া তাদের সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রে কোনও জিহাদি গোষ্ঠীকে ক্ষমতা দখল করতে না করতে না দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর লড়াই দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে বলে তাঁদের অনুমান।